Sunday, May 14, 2017

সুর্যের অবস্হান স্হল নিয়ে নাস্তিকদের একটি প্রশ্ন ও তার উত্তর।

সহী বুখারীর একটি হাদীস নিয়ে আমাদের মুক্তমনা
সমাজ প্রায়ই ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা করে থাকে।
তাদের দাবি হচ্ছে, এই হাদীসটি সম্পূর্ণ
অবৈজ্ঞানিক। যেহেতু বুখারীর মতো প্রসিদ্ধ হাদীস
গ্রন্থে এটির উল্লেখ পাওয়া যায়, আর হাদীস
শাস্ত্রে বুখারীর মান যেহেতু সবার উর্ধ্বে, এবং
মুসলিমরা যেহেতু এটাতে বিশ্বাস করে, তাই ইসলাম
এবং মুসলিমদের একহাত নেওয়ার সুযোগ তারা ছাড়ে
না।
পুরো ব্যাপারটা নিয়ে আলোচনায় যাওয়ার আগে
একটি বিষয় ক্লিয়ার করে নিই। সেটা হচ্ছে,
বাংলাদেশের মুক্তোমনা নামধারী ইসলাম
বিদ্বেষীদের কথাবার্তা আর লেখাযোখা পড়লে
মনে হয় এরা একেকজন ইসলাম, কোরআন, হাদীসের
উপরে পিএইচডি করে ফেলেছে। মনে হয়, কোরআন
হাদীসের উপরে থিসিস করতে গিয়ে এরা বিরাট
বিরাট ভুল ধরতে পেরেছে, যার ফলে তারা
ইসলামের বিরুদ্ধে উঠেপড়ে লেগেছে।
আদতে আসল ব্যাপার হলো, কোরআন-হাদীস নিয়ে
এদের জ্ঞান একেবারে শূন্যের কোঠায়। বলা চলে,
এদের শতকরা ৯৯ ভাগ আরবি পড়তেই জানেনা।
তাহলে এরা সমালোচনা কীভাবে করে, তাইনা?
আসল ব্যাপার হচ্ছে, এরা যে প্রশ্নগুলো ইসলাম
নিয়ে করে থাকে, সেগুলো সব খ্রিষ্টান
মিশনারীদের কাছ থেকে ধার করা।
খ্রিষ্টান মিশনারীদের এরকম প্রচুর সাইট আছে
যেখানে বাংলা মুক্তোমনা ব্লগের মতো সারাদিন
ইসলাম বিদ্বেষীতা চলে। বাংলাদেশের আর্টসে
পড়ুয়া নাস্তিকবাহিনী (মূলত নাস্তিক নয়। এদের
বেশিরভাগ একটি বিশেষ ধর্মের) সেখান থেকে ধার
করে এনে নিজেরা বড় বড় ‘হনু’ সাজে। সম্ভবত ঠিক এই
কারণেই তারা নিজেদের ধর্মবিরোধি বলে পরিচয়
দিলেও, কখনোই তারা খ্রিষ্টান ধর্মের বিরুদ্ধে ‘টু’
শব্দও উচ্চারণ করেনা। কৃতজ্ঞতার ব্যাপার-স্যাপার
আছে কীনা, তাই হয়তো
যাহোক, মূল আলোচনায় ফিরে আসি। আমরা প্রথমে
হাদীসটা দেখে নিই। হাদীসটি আছে বুখারী
শরীফের চতুর্থ খন্ডের ৫৪ নাম্বার অধ্যায়ে। হাদীস
নাম্বার হচ্ছে ৪২১।
হজরত আবু যা’র (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,-
“রাসূল (সাঃ) আমার কাছে জিজ্ঞেস করলেন,- তুমি
কী জানো (সূর্যাস্তের সময়) সূর্য কোথায় যায়?”
আমি বললাম,- “আল্লাহ এবং তাঁর রাসূল ভালো
জানেন”। তখন তিনি বললেন,- ‘এটা (নির্দিষ্ট পথে
চলতে চলতে) আল্লাহর আরশের নিচে এসে সিজদা
করে এবং উদয় হবার জন্য অনুমতি চায় এবং এটাকে
অনুমতি দেওয়া হয়। এমন একটা সময় আসবে যেদিন
এটাকে আর অনুমতি দেওয়া হবেনা (পূর্বদিক থেকে
উদিত হবার জন্য) এবং এটাকে যেদিক থেকে
এসেছে সেদিকে ফিরে যেতে বলা হবে। সেদিন
এটা (সূর্য) পশ্চিম দিক থেকে উদয় হবে”।
এখান থেকে যে প্রশ্নগুলো তারা করার চেষ্টা করে
তা হলো নিম্নরূপঃ
১/ বলা হচ্ছে, সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে যায়।
আমরা জানি, সূর্য তার নিজ কক্ষপথেই থাকে,
কোথাও যায় না। তাহলে এইটা কীভাবে সম্ভব যে,
সূর্য আরশের নিচে যায়?
২/ সূর্য কীভাবে সিজদা করতে পারে? এই প্রশ্নের
সাথে সম্পূরক প্রশ্ন হচ্ছে,- সিজদা করতে হলে
সূর্যকে তার কাজ (ঘূর্ণন) থামাতে হবে।
জোতির্বিজ্ঞান বলছে, সূর্য নিজ কক্ষপথে অবিরত
ঘূর্ণন অবস্থায় থাকে। তাহলে সূর্য সিজদাটাই বা
করে কখন আর অনুমতিটাই বা পায় কখন?
৩/ সূর্য পশ্চিম দিক থেকেই বা কীভাবে উদিত হবে?
এটা কী বিজ্ঞানসম্মত কীনা?
প্রথমে এক নাম্বার প্রশ্নটা নিয়ে ভাবা যাক। এটার
উত্তর জানার জন্য আমাদেরকে আগে জানতে হবে
আল্লাহর আরশ কোথায়। আল কোরআন, সহী হাদীস
এবং সালাফদের বর্ণনা থেকে জানা যায় যে,
আল্লাহর আরশ হচ্ছে সবকিছুর উর্ধ্বে। অর্থাৎ,
দৃশ্যমান-অদৃশ্যমান (পৃথিবী, আকাশ, গ্যালাক্সি,
পদার্থ) এই মহাবিশ্বের সবকিছুর উপরে আল্লাহর
আরশ অবস্থিত। এই “সবকিছুর” মধ্যে কিন্তু সূর্যও পড়ে।
সুতরাং, “সূর্য আল্লাহর আরশের নিচে কিভাবে যায়”
প্রশ্নটা অবান্তর। কারণ, সূর্য নিজেই আলটিমেটলি
আল্লাহর আরশের নিচেই আছে। আল্লাহর আরশের
নিচে যাওয়ার জন্য সূর্যকে আলাদাভাবে তার
কক্ষপথ ছাড়তে হয়না। নিজ কক্ষপথে থেকেই সূর্য
আল্লাহর আরশের নিচে অবস্থান করছে।
দ্বিতীয় প্রশ্ন হচ্ছে, সূর্য কীভাবে সিজদা করতে
পারে?
এটা বোঝার আগে আমাদের বুঝতে হবে, সিজদা
বলতে আমরা যা বুঝি, এখানেও এই অর্থ বোঝায়
কীনা? সিজদা আমরা কীভাবে দিই? হাত-পা
মাটিতে রেখে, মাথা-নাক-কপাল মাটিতে স্পর্শ
করাই হলো আমাদের সিজদার পদ্ধতি।
সূর্যের কী হাত-পা আছে? নাক-কপাল আছে? যদি না
থাকে, তাহলে সূর্য সিজদা কীভাবে দেয়?
নাস্তিক তথা ইসলাম বিদ্বেষীদের বড় সমস্যা হচ্ছে,
তারা সবকিছুর আক্ষরিক অর্থ করে থাকে। কোরআন
এবং হাদীসের কিছু কথা আছে সাহিত্যের মতো
করে। রূপক, উপমা যেভাবে আমএয়া ব্যবহার করি।। এই
কথাগুলোর অর্থ যদি আপনি আক্ষরিক ধরেন, তাহলে
কিন্তু বিপদ। সাহিত্যে এই “মেটাফোর” নিয়ে গাদা
গাদা বইপত্র আছে। বাংলা নাস্তিকরা আর
যাইহোক, সাহিত্যটা কিন্তু ভালো পড়ে থাকে।
একটা এক্সাম্পল দিই। জীবনানন্দ দাশ উনার এক
কবিতায় লিখেছেন,- “বিষণ্ন বিকেলে আমি পকেটে
আকাশ নিয়ে ঘুরি”
এখন বলুন, পকেটে কী আকাশ নিয়ে ঘুরা যায়?
এইটাকেই বলে মেটাফোর। এটা না বুঝলে আপনার
কাছে জীবনানন্দ দাশকে স্রেফ একজন পাগল মনে
হবে। কিন্তু এর গভীরতা বুঝলে, জীবনানন্দকে
আপনার কাছে শেক্সপিয়ার কিংবা দস্তয়ভস্কির
চাইতেও বেশি ভালো লাগবে।
এবার আসুন সূর্যের সিজদা নিয়ে। সিজদা মানে
আমরা কী বুঝি? কারো কাছে বিনত হওয়া, অবনত
হওয়া, অনুগত হওয়া। আরো অর্থ করা যায়, যেমন- রুলস
মেনে চলা , নিয়মাধীন হওয়া ইত্যাদি।
সূর্যের সিজদাও কী আমাদের মতো হতে হবে? আচ্ছা
বলুন তো, আপনার ‘বসা’ আর দইয়ের ‘বসা’ কী এক?
আমরা যে বলি, দধি বসেছে বা দুধের উপর ছনা
(আমাদের আঞ্চলিক ভাষায় ছানা বলি) বসেছে।
দুধের উপর ছানা কী আমাদের মতোই বসে? হাত পা
গেঁড়ে? দুইটাই তো বসা। কিন্তু দুইটা বসাই কী এক?
এক না।
তাহলে সূর্যের সিজদাকে কেনো আমাদের সিজদার
মতোই হতে হবে?
তাহলে, বুঝা গেলো , সূর্যের সিজদা আর আমাদের
সিজদা এক নয়।
এবার আসুন, সিজদা দেওয়ার জন্য কী সূর্যের থেমে
যাওয়াটা জরুরি?
এই জিনিসটা বোঝার জন্য একটা জিনিসের
অবতারণা করি। আগেই বলেছি, মেটাফোরিক্যাল
জিনিসগুলোকে আমাদেরকে ঠিক সেভাবেই ভাবতে
হবে। আক্ষরিক অর্থ করা যাবেনা।
স্কুল লাইফে বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায়
মেয়েদের কমন একটা খেলা দেখতাম। খেলাটার নাম
হলো- ‘চেয়ার খেলা’।
এই খেলার নিয়ম হচ্ছে- গোলাকারভাবে কিছু
চেয়ারকে সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা হয়।
একটা মিউজিক প্লেয়ারের ব্যবস্থা থাকে।
প্রতিযোগীরা সারিবদ্ধভাবে সাজিয়ে রাখা এই
চেয়ারগুলোকে কেন্দ্র করে চক্রাকারে ঘুরতে
থাকে। যতোক্ষণ পর্যন্ত না মিউজিক অফ হচ্ছে,
প্রতিযোগীরা এই চেয়ারগুলোকে কেন্দ্র করে ঘুরতে
থাকে। মিউজিক অফ হওয়া মাত্র টুপ করে বসে পড়ে।
চিন্তা করে দেখুন, প্রতিযোগীদের কাজ হচ্ছে
চেয়ারগুলোকে কেন্দ্র করে চক্রাকারে ঘুরবে।
তারা কতক্ষণ ঘুরবে? যতক্ষণ পর্যন্ত না মিউজিক অফ
হচ্ছে।
তারা কিন্তু নির্দিষ্ট একটা পয়েন্ট (নিজ নিজ
চেয়ার) থেকে খেলাটা শুরু করে। এখন, একবার
চক্রাকারে ঘুরে নিজ নিজ চেয়ারের কাছে এসে
কোন প্রতিযোগী কি ‘গেম ডিরেক্টর’ কে বলে,
“স্যার, আমি কী পরের চক্র ঘুরে আসবো?” বলে না।
বলেনা , কারণ- পরের চক্র দেওয়ার পারমিশানটা
তার জন্য একটা চলমান (On Going) প্রক্রিয়া। তাকে
চেয়ারের কাছে এসে থেমে স্যারের অনুমতি নিয়ে
পরের চক্র দিতে হচ্ছেনা। নিজের চেয়ারের কাছে
এসে না থেমেই সে দ্বিতীয় চক্কর দিতে পারবে,
কারণ অনুমতিটা বলবৎ একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত।
কতক্ষণ সেই সময়? যতোক্ষণ না মিউজিক অফ হচ্ছে।
ঠিক এভাবেই সূর্যের জন্য একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে
দেওয়া আছে। সেই সময় পর্যন্ত সে এভাবেই
চক্রাকারে ঘুরতে থাকবে। এই ঘুরার মধ্যেই সে দুটি
কাজ করবে। একটি হলো- নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সে
ঘুরবে, অন্যটা হলো,- সে নির্দিষ্ট পয়েন্টে এসে
(ধরা যাক সেটা আল্লাহর আরশের কেন্দ্র বরাবর)
আল্লাহর কাছে পরেরবার ঘুরার (উদিত হওয়ার) জন্য
অনুমতি চাইবে। কিন্তু এই অনুমতি নেওয়ার জন্য তাকে
তার গতি স্তিমিত করতে হবেনা। থামতে হবে না।
কারণ, খেলার প্রতিযোগীর মতোই তার জন্যও
অনুমতিটা একটা চলমান (On Going) প্রক্রিয়া।
সুতরাং, অনুমতি নেওয়ার জন্য সূর্যের লুটে পড়ার বা
থেমে যাবার কোন দরকার নেই। সূর্য তার On Going
Process এর মধ্যেই সেটা সেরে নেয়।
(And after all, Allah knows best)
তৃতীয় প্রশ্ন- সূর্যের পশ্চিম দিক থেকে উদিত
হওয়াটা কী বৈজ্ঞানিক?
এটা নিয়ে বেশি কথা বলতে চাই না, কারণ, অনেক
বিজ্ঞানীই এটা প্রেডিক্ট করেছেন যে, সূর্য তার
সমস্ত তাপ হারানোর প্রাক্কালে তার উদয়-অস্তের
দিক চেইঞ্জ করে ফেলতে পারে। চেইঞ্জ হয়ে
যেতে পারে পৃথিবীর দিকসমূহ। তারা নির্দিষ্ট করেই
বলেছে, - সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় হতে পারে।
ব্রিটেইনের লিডিং নিউজ পেপার “ডেইলি
এক্সপ্রেস” শিরোনাম করেছে- “Sunrise in the west:
North could be south as earth’s magnetic poles switch”
আই হোপ, বিজ্ঞানের ধোঁয়া তোলা আমাদের
মুক্তোমনাগণ এটলিস্ট বিজ্ঞানীদের বাণীকে
বিনাবাক্যে মেনে নিবে
সংযুক্তি- একটি প্রশ্ন ক্লিয়ার করা হয়নি। সূর্য যদি
আরশের নিচেই থাকে, তাহলে আলাদাভাবে আবার
আরশের নিচে যেতে বলার কারণ কী?
সিম্পল। ধরুন, একটি পুরো জায়গাজুড়ে মসজিদ আছে।
এখন,মসজিদের ঈমাম সাহেব যদি আপনাকে বলে, -
'মসজিদ থেকে আমার চশমাটা নিয়ে আসুন।'
আপনি কী মসজিদ বলতে কেবল মসজিদের প্রথম
কক্ষটিকেই ধরে নিবেন? নাহ। মসজিদে অনেকগুলো
স্থান আছে। মিম্বর আছে। সবগুলোই মসজিদের
আওতাভুক্ত। এমতাবস্থায়, মিম্বরকে আলাদাভাবে
উল্লেখ না করা মানে এই না, মিম্বর মসজিদের
বাইরের কিছু।
সেরকম, সূর্য আরশের নিচেই আছে কিন্তু একটা
পয়েন্ট নির্ধারিত আছে যেখানে এসে এটি অনুমতি
নিবে, (চেয়ার খেলায় যেমন প্রত্যেকের নির্দিষ্ট
একটা চেয়ার থাকে যেখান থেকে সে শুরু করে)
যেরকম মসজিদের একটা নির্দিষ্ট জায়গায় (মিম্বরে)
এসে আপনি ঈমামের চশমাটা খুঁজে পাবেন।
এখন আপনি পাল্টা প্রশ্ন করতে পারেন না, - 'হুজুর
আপনি মসজিদ বলেছেন, মিম্বর বলেন নি....

নারীদের সম্পর্কে প্রসিদ্ব নাস্তিকদের কিছু উক্তি।

জেনে নিন যেই সমস্ত বুদ্ধিজীবীদেরকে আপনারা নারীবাদের আদর্শ মনে করেন নারী সম্পর্কে তাদের কিছু বিখ্যাত উক্তি!!!

১. বিশ্ববিদ্যালয়ের মেয়েদের চুইংগামের মতো চাবাতে ইচ্ছে করে -
হুমায়ন আজাদ

২) একজন মেয়ে যাকে মন দিতেপারে, তাকে শরীরটা দেওয়া কিছুই নয় । এই শরীরে আছেটা কি ? অথচ আশ্চর্য ! নিরানব্বই ভাগ পুরুষের কাছে এবং সমাজ যারা গড়েছেন তাদের কাছে এই শরীরটাই দামি। মনের দাম নেই কানাকড়িও
! -বুদ্ধদেবগুহ

৩) মেয়ের সম্মান মেয়েদের কাছেই সবচেয়ে কম ! -
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর

৪) কম বয়েসী মেয়েহল রসগোল্লার মত যেখানে রাখবে সেখানেই পিঁপড়ে ধরবে!
-শংকর

৫) পৃথিবীতে বা সমুদ্রে যতহিংস্র প্রাণী আছে সবচেয়ে বৃহত্তম প্রাণী হল মেয়েরা!-
মেনানডার

৬) পুরুষেরা মেয়েদের খেলার সামগ্রী আর মেয়েরা শয়তানের খেলার সামগ্রী! মেয়েরা সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র বৈ কিছু নয়!!

-নেপোলিয়ান

৭) বিড়াল, পাখিরা এবং মেয়েরা এই ধরণের প্রাণী যারা নিজেদের প্রসাধনের উপর সর্বাধিক সময় নষ্ট করে!

-চার্লস নড়ায়ার

৮) "চোখের সামনে আমার মেয়েবড় হচ্ছে ।কিন্তু সামাজিক নিয়মের বেড়াজালে আমার হাত-পা বাঁধা ।"
-হুমায়ূন আজাদ

৯)"প্রত্যেক মেয়েই নিজের জন্য একটা নুনু চায় ।এই নুনুর জন্যই তারা পুরুষদের হিংসা করে"-
সিগময়েড ফ্রয়েডদাবী:

১০)"-মেয়েটাকে বিয়ে করে ফেললেই তো পার -ফ্রিতেই যদি গাভীর দুধ মেলে তাহলে কোন মূর্খ টাকা খরচা করে ঘরে গাই পোষে ?"-
মনেরমত মন,সমরেশ মজুমদার

১১)
ড. আহমদ শরীফ
-পুরুষদের যদি সততা দরকার না হয় তবে নারীদের সতীত্বের কেন দরকার? নারীরাও পুরুষদের (উনি) মত যেভাবে খুশি তার যৌণাঙ্গ বিলাতে পারবে,

১২)
তসলিমা নাসরিন
-পূরুষরা যেমন খালি গায়ে ঘুরে বেড়ায় নারীরাও তেমনি খালি গায়ে ঘুরে বেড়াবে, তাদের সূউচ্চ স্তন সবাই দেখবে.সম্মান পাবেন এখানে?

১৩)
কবি শামসূর রহমান
-হয়তো স্নানের ঘরে নিজেকে দেখেছো অনাবৃতা, জানালার ফাকে বৃষ্টিভেজা নর্তকীর মতো,গাছটিকে (যৌণাঙ্গ) তীব্র দেখছিলাম তখন! সরার মত স্তন. নাভিমূল. উরু, এবং ত্রিকোন মাংসপিন্ড, কি মন্জুল!!

১৪)
হুমায়ুন আযাদ
-এক একটি উর্বশীকে আমি মেপে মেপে দেখি,ঠোট দেখি! মোটা ঠোট আমার পছন্দ, জিভ দেখি, মোটা ধারালো চ্যাপ্টা খসখসে জিহ্বা আমার পছন্দ! স্তন দেখি, মাঝারী স্তন আমার পছন্দ, পানি ভরা ব্লাডের মত স্তন আমি সহ্য করতে পারি না! স্তনে দাঁতের লাল দাগ আমার চুনির থেকেও ভালো লাগে! উরু দেখি: সরু মাংসল উরু আমার পছন্দ!

১৫)
ফ্রান্সের পোপ
যখন বলেছিলেন ''নারীদের ঘরে থাকা, আর সন্তান জন্ম দেয়া উচিত''

নিচে সৈয়দ শামসুল হকের ভালবাসা রাতে গ্রন্হের ২টি কবিতা অন্য আরেকটি কবিতার কয়েকটি লাইন তুলে দিলাম / তবে নিজ দায়ীত্বে পড়বেন / লেখার কোন শব্দের জন্য আমি নিজে দায়ী নই / সম্পুর্ন দ্বায়ভার এই বিশিষ্ট লেখকের /

------------------------------------------------

যখন দু’স্তন মেলে ডেকে নিলে বুকের ওপরে,

স্বর্গের জঘন খুলে দেখালে যে-দীপ্তির প্রকাশ,

তখন কী হলো আমি কোন্ ভাষে বলবো কী করে?

মুহূর্তেই ঘুচে গেলো তৃষিতের অপেক্ষার ত্রাস।

(‘ভালোবাসার রাতে-২’)

----------------------------------------------

বৃষ্টিও বৃষ্টি তো নয় - জরায়ুর রক্তিম ক্রন্দন।

আজ তিনদিন থেকে অবিরাম, ক্ষান্তি নেই তার।

নিষেধ পতাকা লাল, পতাকায় শরীরী স্পন্দন

তবুও তবুও জাগে, জাগে ইচ্ছা সেখানে যাবার।

শত বাধা সত্ত্বেও থামতে পারে না কামুক পুরুষ। দুজনের দেহ ছিঁড়ে বের হয় দুধ-পূর্ণিমা। আর তা নেমে আসে স্তনের চূড়ায়। বাড়তে থাকে কামনার জ্বর। আর জ্বরতপ্ত হাত কুড়ায় কামনার ফুল। এ টান শুধু এক পক্ষের নয়। সমানতালে দুজনের। অবশেষ ভেঙে যায় বাঁধ -

তবে ভিজে যাক সব, বৃষ্টি থাক, এসো ভিজে যাই -

জ্বরের আগুনে দেহ লাল বৃষ্টিধারায় ভেজাই॥

(‘ভালোবাসার রাতে-২৯’)

-----------------------------------

আমি তোমার যতটা দেখি, তা ভালো;

যা দেখি না, সম্ভবত তা আরো ভালো।

এবং মাঝরাতে ইচ্ছার আলো

ঐ সব ভেবে হয় ভীষণ জোরালো॥

(‘এক আশ্চর্য সঙ্গমের স্মৃতি-৮’)

এই হলো নারীবাদীদের স্বপ্নের পূরুষদের নারী সম্পর্কে কিছু উক্তি!

এমন হাজারো উক্তি আছে যা নারীকে চরমভাবে অপমানিত করে অথচ তা নিয়ে কোন মাতামাতি বা প্রতিবাদ নেই....

Thursday, May 11, 2017

রাসূল সাঃ কি দাস - দাসী বনানোর জন্য যুদ্ধ করেছেন??

উইকিপিডিয়া থেকে শুরু করে অনেক জায়গায় দেখেছি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর জীবন ও কর্মের অধ্যায়ে সমালোচনা নামক একটি চাপ্টার থাকে। সেখানে এক কথায় বলে দেওয়া হয় বিভিন্ন যুদ্ধে প্রতিপক্ষকে হত্যা ও বন্দি এবং কৃতদাস বানানোর মাধ্যমে নাকি রাসুলুল্লাহ সাল্লালাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হিংস্র রুপ বিশ্ব বাসীর কাছে পরিস্কার হয়ে গেছে। নাউযুবিল্লাহ। আজ রাসূলের সাঃ বিভিন্ন যুদ্ধ এবং যুদ্ধে রাসূলের আচরন নিয়েই আলোচনা করব ৷

★যুদ্ধ বন্দিদের প্রতি বিধান গুলো নিম্নরূপ,
(1) অর্থ নিয়ে ছেড়ে দিতে পারবে,
(2) অর্থ ছাড়াও দয়া প্রদর্শন করে ছেড়ে দিতে পারবে ৷ (3) হত্যা করতে পারবে ৷
(4)বন্দিকে দাস বানাতে পারবে এবং লালন -পালনের, বা ভরন পোষনের সামর্থ না থাকলে অন্যের কাছে বিক্রি করতে পারবে ৷
 (5) তবে মুসলমান হয়ে গেলে আর বন্দি রাখা যাবে না।
(6) নিজে যা খাবে, পরবে তাকেও তা খাওয়াতে ও পরাতে হবে ৷
 (7) একটা থাপ্পর দিলেও, আযাদ না করলে জাহান্নামে যেতে হবে ৷

★রাসূল সাঃ যুদ্ধে কি করেছেন??
 বদরের যুদ্ধ : 
                  ২ হিজরির ১৭ রমজান (১৩ মার্চ ৬২৪ খ্রিষ্টাব্দ) মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে সংঘটিত হয়। ইসলামের ইতিহাসে এটি প্রথম প্রধান যুদ্ধ। বদর ছিল দুই বাহিনীর মধ্যে প্রথম বড় আকারের যুদ্ধ। যুদ্ধে সুসংগঠিত মুসলিমরা মক্কার সৈনিকদের সারি ভেঙে ফেলতে সক্ষম হয়। যুদ্ধে মুসলিমদের প্রধান প্রতিপক্ষ আবু জাহল নিহত হয় এবং 70 জন বন্দি হয় ৷ তাদের 2 জনকে অতীতের ভয়ংকর অপরাধের জন্য হত্যা করা হয় ৷ যারা সম্পদশালী ছিল তাদের কাছ হতে অর্থ নিয়ে ছেড়ে দেয়া হয় ৷ যারা শিক্ষিত ছিল তাদের প্রত্যেককে 10 জন মুসলমানকে শিক্ষা দানের বিনিময় মুক্তি দেয়া হয় এবং যারা গরিব ও অশিক্ষিত তাদের বিশেষ ক্ষমা প্রদান করা হয় ৷

 উহুদের যুদ্ধ :
                  ৩ হিজরির ৭ শাওয়াল (২৩ মার্চ ৬২৫ খ্রিষ্টাব্দ) উহুদ পর্বতের সংলগ্ন স্থানে সংঘটিত হয়।[২] মদিনার মুসলিম ও মক্কার কুরাইশদের মধ্যে এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এই দুই পক্ষের নেতৃত্বে ছিলেন যথাক্রমে মুহাম্মাদ (সা) ও আবু সুফিয়ান। ইসলামের ইতিহাসে সংঘটিত প্রধান যুদ্ধসমূহের মধ্যে এটি দ্বিতীয়। এর পূর্বে ৬২৪ সালে এই দুইপক্ষের মধ্যে বদরের যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিল৷ এই যুদ্ধে রাসূলের সাঃ চাচা হামজা রাঃ সহ 70 জন সাহাবী শহীদ হয় ৷কোন মুশরিক বন্দি হয় নাই ৷

খন্দকের যুদ্ধ বা আহযাবের যুদ্ধ::
                    ৫ হিজরিতে (৬২৭ খ্রিষ্টাব্দ) সংঘটিত হয়। এসময় ২৭দিন ধরে আরব ও ইহুদি গোত্রগুলি মদিনা অবরোধ করে রাখে। জোট বাহিনীর সেনাসংখ্যা ছিল প্রায় ১০,০০০ এবং সেসাথে তাদের ৬০০ ঘোড়া ও কিছু উট ছিল। অন্যদিকে মদিনার বাহিনীতে সেনাসংখ্যা ছিল ৩,০০০। পারস্য থেকে আগত সাহাবি সালমান ফারসির পরামর্শে মুহাম্মাদ (সা) মদিনার চারপাশে পরিখা খননের নির্দেশ দেন।প্রাকৃতিকভা বে মদিনাতে যে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ছিল তার সাথে এই ব্যবস্থা যুক্ত হয়ে আক্রমণকারীদেরকে নিষ্ক্রিয় করে ফেলে। জোটবাহিনী মুসলিমদের মিত্র মদিনার ইহুদি বনু কুরাইজা গোত্রকে নিজেদের পক্ষে আনে যাতে তারা দক্ষিণ দিক থেকে শহর আক্রমণ করে। কিন্তু মুসলিমদের তৎপরতার ফলে তাদের জোট ভেঙে যায়।

 বনু কুরাইজার যুদ্ধ:: 
                        খন্দকের যুদ্ধের পর কোরাইশদের সহযোগি এই গোত্রের সাথে মুসলিমদের যুদ্ধ হয় ৷ তারা দুর্গের মধ্যে অবস্থান নেয় ৷যথারীতি অনেকদিন দূর্গের মধ্যে অবরূদ্ধ থেকে যখন তারা দেখলো যে খায়বার থেকে ইহুদী বাহীনির আসার কোনোই সম্ভবনা নেই তখন তারা আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রাসুল (সাঃ) এর কাছে আত্মসমর্পন না করে তারা তাদের পুরোনো মিত্র সাদ-বিন- মুয়াদের (রাঃ) কাছে নিজেদের ভবিষ্যতের সিদ্ধান্ত ছেড়ে দেয়।সাদ রাঃছিলেন যুদ্ধে আহত যোদ্ধাদের একজন ৷
 রাসূলের অনুপস্থিতে ইহুদীদের ধর্মগ্রন্থের বিধান অনুযায়ী সাদ (রাঃ)বিচার করেন এবং সিদ্ধান্ত দেন কুরাইযা গোত্রের সকল যোদ্ধাদের প্রাণদণ্ড দেয়া হোক আর মহিলা ও শিশুদের বন্দী করা হোক। রায় দেয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই গুরুতর আহত সাদ (রাঃ) মারা যান ৷ এই যুদ্ধের মূল কারন এবং বিচার প্রক্রিয়া হতে আমারা দেখি যে
, (1) বনু কোরাইযা গোত্র বার বার চুক্তি ভঙ্গ করে এবং রাসূল সাঃ তাদের বারবার ক্ষমা করেন এবং সুযোগ দেন ৷ ( পূর্বের post এ বলা হয়েছে)
 (2) তারা কোরাইশদের পক্ষ নিয়ে রাসূলের সাঃ বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে ৷
(3) বনু কোরাইযা গোত্র শর্তসাপেক্ষে পূর্বের মিত্র সাদ রাঃ এর নিকট আত্মসমর্পণ করেন ৷
 (4) যেহেতু বনু কোরাইযা গোত্র শর্তসাপেক্ষে আত্মসমর্পণ করে ,সেহেতু রাসূল (সাঃ) বিচারে চুক্তি অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করেন নাই ৷
(5)রাসূল সাঃ বনু কোরাইযার বিচার করেন নাই ৷ (6)গুরুতর আহত সাদ (রাঃ) ইহুদীদের বিধান অনুযায়ী সকল যোদ্ধাকে হত্যার নির্দেশ দেন
( বিঃদ্রঃ যোদ্ধাদের সংখ্যা ছিল 300/400 জন)
এবং নারী,শিশুদের কৃতদাস বানান ৷
(7)বনু কোরাইযা গোত্রের কোন নিরপরাধ ব্যাক্তির বিচার করে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়নি বরং যারা মদীনার সকল মুসলমানকে হত্যা করতে চেয়েছিল, এবং যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল, এমন যোদ্ধাদের মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছিল ৷ আচ্ছা, কোন দেশ, ষ্ট্রদ্রোহীকে ক্ষমা করে?? প্রতিটি দেশে রাষ্ট্রদ্রোহীকে কি সর্বোচ্চ শাস্তি দেয়া হয়না?? আমাদের সময়ে রাষ্ট্রদ্রোহীদের শাস্তি যদি মৃত্যুদণ্ড হয় ,তবে বনু কোরাইযা গোত্রের শাস্তি কেন ভুল হবে?? এবং এই রায়ের জন্য রাসূল সাঃ কে কেন অপবাদ দেয়া হবে?

 খায়বারের যুদ্ধ:
                 ৬২৯ খ্রিস্টাব্দে তৎকালীন আরবের মদিনা নগরী থেকে ১৫০ কিলোমিটার (৯৩ মা) দুরে অবস্থিত খায়বার নামক মরুভূমিতে বসবাসরত ইহুদিগণের সাথে মুসলিমগণের সঙ্ঘটিত একটি যুদ্ধ। ৭ম হিজরিতে মদীনা আক্রমণ করার ব্যাপারে খায়বারের ইহুদীদের নতুন ষড়যন্ত্রের কারনে খায়বার যুদ্ধ হয়। এই যুদ্ধে কাউকে বন্দি বা কতদাস বানানো হয় নাই ৷

বনু মুস্তালিকের যুদ্ধ: : 
                          বনু মুছত্বালিকের সাথে মুসলিম বাহিনীর কোন যুদ্ধই হয়নি। বরং মুসলিম বাহিনী তাদের উপরে আকস্মিক হামলা চালালে তারা সব পালিয়ে যায় ও তাদের নারী-শিশুসহ বহু লোক বন্দী হয়। বন্দিদের মধ্যে গোত্রনেতা হারেছ বিন যিরারের কন্যা জুওয়াইরিয়া ( ﺟُﻮَﻳْﺮِﻳَﺔُ) ছিলেন। যিনি ছাবেত বিন ক্বায়েস-এর ভাগে পড়েন। ছাবেত তাকে ‘মুকাতিব’ হিসাবে চুক্তিবদ্ধ করেন। মুকাতিব ঐ দাস বা দাসীকে বলা হ’ত, যে নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ স্বীয় মনিবকে দেয়ার শর্তে চুক্তি সম্পাদন করে এবং উক্ত অর্থ পরিশোধ করার পর সে স্বাধীন হয়ে যায়। নবী করীম (ছাঃ) তার পক্ষ থেকে চুক্তি পরিমাণ অর্থ প্রদান পূর্বক তাকে মুক্ত করেন এবং গোত্র নেতার কন্যা হিসাবে তাকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা দেন।
এই বিবাহের ফলশ্রুতিতে মুসলমানগণ বনু মুছত্বালিক গোত্রের বন্দী একশত পরিবারের সবাইকে মুক্ত করে দেন এবং তারা সবাই মুসলমান হয়ে যায়। এর ফলে তারা ‘রাসূল (ছাঃ)-এর শ্বশুর গোত্রের লোক’ ( ﺃَﺻْﻬَﺎﺭُ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠﻪِ ) বলে পরিচিতি পায়’ (আবুদাঊদ হা/৩৯৩১, সনদ হাসান)।

মক্কা বিজয় ::
               নবী হযরত মুহাম্মদ (সা:) খ্রিস্টীয় ৬৩০ অব্দে রক্তপাতহীনভাবে মক্কা নগরী দখল করেন। ইতিহাসে এই ঘটনা মক্কা বিজয় নামে খ্যাত। এই যুদ্ধেও কাওকে কৃতদাস বানানো হয় নাই বরং রাসূল সাঃ আবু সুফিয়ান কেও ক্ষমা করে দেন ৷

 হুনাইনের যুদ্ধ ::
                   মক্কা বিজয়ের পরই হেনাইনের যুদ্ধ হয় এই যুদ্ধে মুসলমানদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয় কিন্তু যুদ্ধে জয়যুক্ত হয় এবং 6000 মুশরিক বন্দি হয় কিন্তু রাসূল সাঃ তাদের সকলকে সাধারন ক্ষমা ঘোষনা করেন ৷ কাওকেই কৃতদাস বানান নাই ৷ যদি চাইতেন তবে কত টাকায় এই সব বন্দিকে বিক্রি করতে পারতেন তা কি ভেবে দেখেছেন?? এত সব প্রমানের পরও কি নাস্তিকরা বলবে যে রাসূল সাঃ যুদ্ধ করেছেন শুধু হত্যা এবং দাস, দাসী বানানোর জন্য??

Friday, May 5, 2017

★পৃথিবী ঘুরে নাকি সুর্য ঘুরে?আল কোরআন কি বলে?

এক সময় সূর্য ঘুরে না পৃথিবী ঘুরে এ বিষয়টি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে অনেক মতানৈক ছিল। যেমন, প্রাচীনকালে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, মহাবিশ্বের সব কিছুই পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরে। কিন্তু “পৃথিবী স্থির।”
 এ ধারণাটা পরবর্তী বিজ্ঞানীদের দৃষ্টিতে ভুল প্রমাণিত হয়।
 পোল্যান্ডের একজন জ্যোতিবিজ্ঞানী যার নাম “কোপানিকাস” (১৪৭৩-১৫৪৩) তিনি বলেছিলেন, পৃথিবী সূর্যের চতুর্দিকে ঘুরে। কিন্তু কেউই তার উক্তিটি বিশ্বাস করেনি।
 পরবর্তীযুগে বিজ্ঞানী “নিউটন” আবিস্কার করেন, যে পৃথিবী সূর্যের চতুর্দিকে ঘুরে এবং পক্ষান্তরে সূর্যও তার নির্দিষ্ট কক্ষপথে ঘুরে।
বর্তমানে সূর্যকেন্দ্রিক এই মডেল প্রমানিত এবং বিজ্ঞানী ও সাধারণ মানুষ তা গ্রহন করেছে।

অথচ কুরআনুল কারীম আজ থেকে প্রায় সাড়ে ১৪শত বছর আগেই একথা বলে দিয়েছে যে, চন্দ্র, সূর্য ওপৃথিবীসহ মহাবিশ্বের প্রতিটি নক্ষত্র,গ্রহ,ও উপগ্রহই নিজ নিজ কক্ষপথে বিচরণ করতেছে ।’
নিম্নে   পবিত্র কোরআনের আলোকে পৃথিবী সহ মহাবিশ্বের প্রতিটি নক্ষত্র,গ্রহ ও উপগ্রহের ঘুর্নায়মান সম্পর্কে বিস্তারিত আলোকপাত করা হল-

★কুরআনুল কারীমের সূরা আম্বিয়ার ৩৩ নং আয়াতে আল্লাহ  তায়ালা বলেনঃ
وَهُوَ الَّذِي خَلَقَ اللَّيْلَ وَالنَّهَارَ وَالشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ
“এবং তিনিই দিবা-নিশি এবং চন্দ্র-সূর্য সৃষ্টি করেছেন। সবাই আপন আপন কক্ষ পথে বিচরণ করে।”
বিশ্বখ্যাত মুফাসসীরে কুরআন, বিজ্ঞানী আল্লামা ত্বানত্ববী আল জাওহারী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে সূরা আম্বিয়ার অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, উক্ত আয়াতটি ব্যাপক অর্থ সম্বলিত। অর্থাৎ সূর্য, চন্দ্র, তারকা ও পৃথিবী, মোটকথা প্রত্যেকটি নক্ষত্র নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরছে। [আল জাওয়াহিরু ফী তাফসীরিল কুরআনিল কারীম : ১০/১৯৯]
বিশ্বনন্দিত মুফাস্সীরে কুরআন আল্লামা মাহমুদ হিজাযী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে সূরা আম্বিয়ার অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, আল্লাহ পাক পৃথিবীর বুকে পাহাড়সমূহের বোঝা রেখে দিয়েছেন; যাতে করে পৃথিবী মানব মণ্ডলীকে নিয়ে ঝুঁকে না পড়ে। পৃথিবী নিজ কক্ষে ঘুরে এবং সুর্যকে প্রদক্ষিণ করে। (আল্লাহ্) সূর্য ও চন্দ্রকে সৃষ্টি করেছেন যেন প্রত্যেকটি নিজ নিজ কক্ষপথে ঘুরে।
[আত তাফসীরুল ওয়াজেহ : ১৭/৫২৮]

ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন, লাটিম যেমন তার কেন্দ্র বিন্দুর চার দিকে ঘুরতে থাকে, সূর্যও তেমনিভাবে ঘুরে।

★পবিত্র কোরআনের  (সূরা ইয়াসীনঃ ৩৮-৪০) নং আয়াতে  আল্লাহ বলেন,
وَالشَّمْسُ تَجْرِي لِمُسْتَقَرٍّ لَهَا ذَلِكَ تَقْدِيرُ الْعَزِيزِ الْعَلِيمِ, وَالْقَمَرَ قَدَّرْنَاهُ مَنَازِلَ حَتَّى عَادَ كَالْعُرْجُونِ الْقَدِيمِ, لَا الشَّمْسُ يَنْبَغِي لَهَا أَنْ تُدْرِكَ الْقَمَرَ وَلَا اللَّيْلُ سَابِقُ النَّهَارِ وَكُلٌّ فِي فَلَكٍ يَسْبَحُونَ                                                  
“সূর্য তার নির্দিষ্ট অবস্থানে আবর্তন করে। এটা পরাক্রমশালী, সর্বজ্ঞ আল্লাহর নির্ধারণ। চন্দ্রের জন্যে আমি বিভিন্ন মনযিল নির্ধারিত করেছি। অবশেষে সে পুরাতন খর্জুর শাখার অনুরূপ হয়ে যায়। সূর্যের পক্ষে চন্দ্রকে নাগাল পাওয়া সম্ভব নয়। রাতের পক্ষেও দিনের অগ্রবতী হওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই আপন আপন কক্ষপথে পরিভ্রমণ করে।”
প্রখ্যাত তাফসীরকারক আল্লামা আহমদ মোস্তফা মারাগী রহ. স্বীয় তাফসীর গ্রন্থে সূরা ইয়াসীনের অত্র আয়াতগুলোর ব্যাখ্যায় লিখেছেন যে, প্রত্যেকটি গ্রহ-নক্ষত্র অর্থাৎ পৃথিবী, সূর্য ও চন্দ্র নিজ নিজ কক্ষপথে সাঁতার কাটছে (ঘুরছে)। যেভাবে মাছ পানিতে সাঁতার কাটে। সূর্য ঘুরছে নিজ কক্ষপথে।
 [আত তাফসীরুল মারাগী : ২৩/১০]

★পবিত্র কোরআনের সূরা যুমারের  ৫ নং আয়াতে  আল্লাহ তায়ালা বলেন,
 وَالْأَرْضَ بِالْحَقِّ يُكَوِّرُ اللَّيْلَ عَلَى النَّهَارِ وَيُكَوِّرُ النَّهَارَ عَلَى اللَّيْلِ وَسَخَّرَ الشَّمْسَ وَالْقَمَرَ كُلٌّ يَجْرِي لِأَجَلٍ مُسَمًّى أَلَا هُوَ الْعَزِيزُ الْغَفَّار -
“তিনি আসমান ও জমিন সৃষ্টি করেছেন যথাযথভাবে। তিনি রাত্রিকে দিবস দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং দিবসকে রাত্রি দ্বারা আচ্ছাদিত করেন এবং তিনি সূর্য ও চন্দ্রকে কাজে নিযুক্ত করেছেন।প্রত্যেকেই বিচরণ করে নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত জেনে রাখুন, তিনি পরাক্রমশালী, ক্ষমাশীল।”
এই আয়াত দ্বারাও পৃথিবী ঘুর্নায়মানের ইঙ্গিত পাওয়া যায়।কারনে আয়াতে বলা হয়েছে  সৌরজগতের প্রত্যেকেই  বিচরণ করতেছে  নির্দিষ্ট সময়কাল পর্যন্ত।আর পৃথিবীও যেহেতু সৌরজগতের একটি গ্রহ সুতরাং পৃথিবীর ঘুর্নায়মান হওয়াটাই স্বাভাবিক।

পরিশেষে বলা যায় যে,পবিত্র কোরআন গতানুগতিক কোন বৈজ্ঞানিক থিওরীর কিতাব নয় বরং এটা হল-এই বিশ্বভ্রম্মাণ্ডের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহর পক্ষ থেকে মানব  জাতীর হেদায়াতের আলোকবর্তিকা।এখানে শুধু বৈজ্ঞানিক থিওরীর এতটুকুই বর্ণিত হয়েছে যতটুকুতে মানুষের উপদেশের সম্পর্ক রয়েছে।বাকিটা মানুষ নিজ নিজ প্রজ্ঞা দিয়ে আবিষ্কার করে নিবে।
বিজ্ঞানের কোন থিওরি যদি কোরআনের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তাহলে বুঝতে হবে এ থিওরি এখনও  ১০০% চুড়ান্ত পর্যায়ে পোঁছেনি।কারন বৈজ্ঞানীকদের জ্ঞান হল-সসীম আল্লাহর জ্ঞান হল-অসীম।সসীম জ্ঞান কখনও অসীমের সমকক্ষ হতে পারেনা।
বি.দ্র. : এ বিষয়ে আরো বিস্তারিত জানতে হলে নিম্নে প্রদত্ত তাফসীরগ্রন্থদ্বয়  ও গুগলের লিঙ্কটি  অধ্যয়ন করুন।
১.তাফসীরে ছানায়ী। [লেখক : আল্লামা ছানাউল্লাহ অমৃতসরী রহ.। খন্ড- ৮ম : পৃষ্ঠা-১৯২]
২. তাফসীরে আনওয়ারুল বয়ান। [লেখক : আল্লামা আশেক এলাহী বুলন্দশহরী রহ.। খন্ড : ৭ম : পৃষ্ঠা-৩৮১]
৩.  http://fatwa.islamweb.net/fatwa index.php page=showfatwa&Option=FatwaId&Id=56931





Saturday, April 29, 2017

যুক্তির কষ্টিপাথরে বিবর্তণবাদের theory (২য় পর্ব)


গতপর্বে  আমি আপনাদেরকে বিজ্ঞান ও ধর্মীয় দৃষ্টিকোন থেকে বিবর্তণবাদ সম্পর্কে আলোচনা করেছি।আজকের পর্বে আমি বিবর্তণবাদিদেরকে কিছু কমন প্রশ্ন করব।নিচে প্রশ্নগুলো আলোকপাত করা হল-
★ পা-এর উপর ভিত্তি করে প্রকৃতিতে যেমন পা-বিহীন প্রাণী (সাপ, জোঁক, কেঁচো) আছে তেমনি আবার দ্বিপদী প্রাণী (মানুষ, পাখি), চতুষ্পদী প্রাণী (বাঘ, সিংহ, হাতি,ঘোড়া, গরু, ছাগল), ষষ্ঠপদী প্রাণী (কীট-পতঙ্গ),অষ্টপদী প্রাণী (মাকড়সা), এবং বহুপদী প্রাণীও (বিছা পোকা) আছে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – বর্তমানেই যেখানে অনেক প্রাণীর কোনো পা নেই, সেখানে ঠিক কী কারণে অন্যান্য প্রাণীদের দেহে পা গজানোর দরকার পড়ল? পা-বিহীন কিছু প্রাণীকে আলাদা করে বিশেষ কোনো পরিবেশে রেখে দেওয়া হলে তাদের দেহে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে পা গজানো শুরু করবে কি-না? কিংবা পা-ওয়ালা কিছু প্রাণীকে বিশেষ কোনো পরিবেশে রেখে দিলে তাদের পা ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়া শুরু করবে কি-না? বিবর্তনবাদীরা কোথাও এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন কি? নিদেনপক্ষে পরীক্ষা শুরু করা না হয়ে থাকলে কেন শুরু করা হয়নি? – ষষ্ঠপদী প্রাণী থেকে চতুষ্পদী প্রাণী কিংবা চতুষ্পদী প্রাণী থেকে ষষ্ঠপদী প্রাণীর প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ধাপে বিবর্তিত হওয়ার পক্ষে মধ্যবর্তী ধাপগুলো-সহ কিছু প্রমাণ দেওয়া যাবে কি?

 ★বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী মানুষের আদি পূর্ব- পুরুষ প্রাইমেটরা গাছে গাছে ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য লেজ ব্যবহার করতো। গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়ে যাওয়ার কারণে লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। তাদের এই 'যুক্তি' অনুযায়ী মানুষের আদি পূর্ব-পুরুষদের প্রথমে লেজ ছিল না। এক পর্যায়ে বনে-জঙ্গলে যেয়ে গাছে গাছে বিচরণের ফলে ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনে লেজ গজিয়েছে। গাছ থেকে নিচে নেমে আসার পর যেহেতু লেজের প্রয়োজনীয়তা ফুরিয়েছে সেহেতু লেজ লোপ পেয়ে মানুষের মতো লেজ- বিহীন প্রজাতিতে রূপান্তরিত হয়েছে! অর্থাৎ প্রাণীদের প্রয়োজনেই তাদের দেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ গজায়, আবার প্রয়োজন ফুরালে সেই অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যায়! তো গাছে গাছে বিচরণ করলেই যদি ভারসাম্য রক্ষার প্রয়োজনে লেজ-বিহীন প্রাণীদের দেহে লেজ গজায়, কিংবা গাছে গাছে বিচরণ না করলেই যদি লেজ-বিশিষ্ট প্রাণীদের লেজ বিলুপ্ত হয়ে যায়, তাহলে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – তারা কি লেজ-বিহীন কিছু মানুষকে বনের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে গাছে গাছে বিচরণ করার জন্য কোনো পরীক্ষা শুরু করেছেন এটা পর্যবেক্ষণের জন্য যে, তাদের দেহে সত্যি সত্যি লেজ গজানো শুরু করে কি-না? কিংবা কিছু লেজ-বিশিষ্ট প্রাণীকে গাছ-বিহীন জায়গায় রেখে দিয়ে কোথাও কি কোনো পরীক্ষা শুরু করা হয়েছে এটা পর্যবেক্ষণের জন্য যে, তাদের লেজ ধীরে ধীরে বিলুপ্ত হওয়া শুরু করে কি-না? এই ধরণের কোনো পরীক্ষা যদি শুরুই করা না হয়ে থাকে তাহলে এতদিনেও তা শুরু করা হয়নি কেন? বিজ্ঞানের নিয়ম হচ্ছে পরীক্ষা আগে শুরু করতে হবে, ফলাফল পরের কথা। কাজেই পরীক্ষা শুরু না করে কোনো রকম অজুহাত চলবে না। (পাঠকদের জন্য নোট: বিবর্তনবাদীরা কিন্তু অনেক আগে থেকেই আণুবীক্ষণিক জীব ব্যাকটেরিয়া [ই. কোলাই] নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেছেন। ব্যাকটেরিয়া থেকে ভিন্ন কোনো প্রজাতিতে রূপান্তরিত হচ্ছে কি-না, সেটা তারা পর্যবেক্ষণ করছেন। অথচ তারা বড় কোনো প্রাণী নিয়ে এই ধরণের পরীক্ষা-নিরীক্ষা- পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছেন না! বুদ্ধিমানদের জন্য নাকি ঈশারাই যথেষ্ট। তারপরও এর গোপন রহস্য বলে রাখি। ব্যাকটেরিয়ার মতো অতি ক্ষুদ্র আণুবীক্ষণিক জীব নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করার দাবি করে সাধারণ মানুষকে যত সহজে ঘোল খাওয়ানো সম্ভব, বড় কোনো প্রাণীর ক্ষেত্রে স্বাভাবিকভাবেই তা সম্ভব নয়। কেননা বড় প্রাণীকে সকলেই খালি চোখে দেখতে পাবে। অধিকন্তু, বড় প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা শুরু করলে দেখা যাবে তাদের দেহে কোনো পরিবর্তন আসার আগেই তারা মারা গেছে! কাজেই বড় প্রাণীদের নিয়ে পরীক্ষা করে কোনো রকম চাপাবাজি করতে গেলে সাধারণ লোকজনের কাছেই হাতেনাতে ধরা খেতে হবে! এই কারণেই তারা জেনেবুঝে শুধু আণুবীক্ষণিক জীব ব্যাকটেরিয়া নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা-পর্যবেক্ষণ

★ বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী বিবর্তন একটি চলমান ও অন্ধ প্রক্রিয়া। বিবর্তনের নির্দিষ্ট কোনো লক্ষ্যও নেই। তো বিবর্তন যদি একটি চলমান প্রক্রিয়া হয় এবং বিবর্তনবাদীরা যদি ভিন্ন কোনো প্রজাতি থেকে বিবর্তিত হয়ে থাকে, তাহলে তারা নিজেরাও একদিন বিবর্তিত হয়ে ভিন্ন কোনো প্রজাতিতে রূপান্তরিত হওয়ার কথা। কোনো বিবর্তনবাদীই এই সত্যকে অস্বীকার করতে পারবেন না। কেউ অস্বীকার করলে যৌক্তিক কারণ দর্শাতে হবে। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – তারা আজ থেকে কোটি কোটি বছর পর বিবর্তিত হয়ে যে ধরণের প্রজাতিতে রূপান্তরিত হতে পারে, তার সম্ভাব্য কিছু ছবি দেখাতে পারবেন কি-না? তাদের দাবি অনুযায়ীই বিবর্তন যেহেতু একটি লক্ষ্যহীন ও অন্ধ প্রক্রিয়া সেহেতু তাদের উত্তর-পুরুষদের যে ছবিগুলো কল্পনা করা হবে, সেগুলোই বাস্তবে রূপ নিতে পারে। কাজেই বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সম্ভাব্য বা কাল্পনিক ছবি দিতে কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়, যেখানে তারা ইতোমধ্যে তাদের পূর্ব-পুরুষদের অনেক কাল্পনিক ছবি বানিয়েছেন। (পাঠকদের জন্য নোট: বিভিন্ন অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সমন্বয়ে বিবর্তনবাদীদের বর্তমান যে শারীরিক অবয়ব আছে, তার চেয়ে কম-বেশি কিছু তারা কল্পনাও করতে পারবেন না! আর কল্পনা করতে পারলেও তারা লজ্জায় সেটা দেখাতে পারবেন না! এ থেকে প্রমাণ হবে যে, তারা নিজেরাই আসলে বিবর্তনে বিশ্বাস করে না।)

 ★ধরা যাক, বিবর্তনবাদীদের কেউ এক চোখ কিংবা তিন চোখ কিংবা এক হাত কিংবা পাঁচ হাত কিংবা এক পা কিংবা তিন পা কিংবা শিং- ওয়ালা কিংবা লেজ-ওয়ালা কিংবা সামনে-পেছনে দুই লিঙ্গ-বিশিষ্ট কিংবা লিঙ্গ-বিহীন কিংবা সবকিছুর সমন্বয়ে 'অদ্ভুত' বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন একটি সন্তান প্রসব করলেন। এই ধরণের সন্তান প্রসবের খবর তো মাঝে মাঝেই শোনা যায়। বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – বিবর্তনীয় দৃষ্টিকোণ থেকে সেই শিশু বাচ্চাটি "স্বাভাবিক" নাকি "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য হবে? যদি "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য হয় তাহলে ঠিক কোন্ যুক্তি বা স্ট্যান্ডার্ড-এর ভিত্তিতে সেটিকে "অস্বাভাবিক" হিসেবে গণ্য করা হবে? বিবর্তন তত্ত্ব অনুযায়ী স্ট্যান্ডার্ড বা স্বাভাবিক বলে কিছু আছে কি-না বা থাকতে পারে কি-না? – বিবর্তনবাদীদের নিজের কিংবা নবজাত সন্তানের শরীরে এমন কিছু পরিবর্তনের উদাহরণ দিতে হবে যেগুলো বিবর্তনের চিহ্ন বা উপসর্গ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। অর্থাৎ তারা মানব শরীরে কী ধরণের পরিবর্তন দেখলে সেটিকে বিবর্তনের চিহ্ন বা উপসর্গ ধরে নিয়ে ডাক্তারের কাছে না যেয়ে চুপচাপ থাকবেন, আর কী ধরণের পরিবর্তন দেখলে সেটিকে "অস্বাভাবিক" আখ্যা দিয়ে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে ছুটবেন – এই বিষয় দুটি কিছু উদাহরণ-সহ সুস্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।

★বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী শিম্পাজীরা তাদের রক্তের সম্পর্কের নিকটতম আত্মীয়। শিম্পাজীদের সাথে তাদের নাকি তেমন কোনো পার্থক্যই নাই! তা-ই যদি হয় তাহলে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – তারা কি কখনো তাদের নিকটতম আত্মীয়দের কাছে থেকে বিবর্তন সম্পর্কে কিছু জানতে চেয়েছেন? অন্তত চেষ্টা করে দেখেছেন কি? নিদেনপক্ষে চেষ্টাও যদি না করা হয়ে থাকে তাহলে কেন করা হয়নি? কিংবা শিম্পাঞ্জীদের কেউ বিবর্তনবাদীদেরকে বিবর্তন সম্পর্কে কিছু তথ্য-প্রমাণ দিয়ে সাহায্য করেছে কি-না? তাছাড়া বিবর্তনবাদীদের নিকটতম আত্মীয়রা নিজেদের বিবর্তনে বিশ্বাস করে কি-না – এই প্রশ্ন কি তাদেরকে করা হয়েছে? জিজ্ঞেস না করে নিকটতম আত্মীয়দেরকে অনৈতিকভাবে 'মিসিং লিঙ্ক, টিসিং লিঙ্ক' জাতীয় কিছু বানিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন?

★যেখানে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জীদের খালি চোখে দেখা যায় এমন অনেক মিল আছে, প্রকৃতপক্ষে জৈবিক কোনো পার্থক্য নাই বললেই চলে, সেখানে বিবর্তনবাদীরা ডিএনএ দিয়ে মানুষের সাথে শিম্পাঞ্জীর সাদৃশ্য দেখানোর চেষ্টা করছেন কেন? মানুষ ও শিম্পাঞ্জীর দেহে সহসা দৃশ্যমান এতো অঙ্গ- প্রত্যঙ্গ থাকতে ডিএনএ নামক অদৃশ্য কিছুর মধ্যে মাথা গোঁজার কারণ কী?

★বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের পূর্ব- পুরুষদের এক সময় লেজ ছিল। পরবর্তীতে সেই লেজ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। প্রমাণ হিসেবে তারা কিছু লেজ-ওয়ালা (?) মানব শিশুর উদাহরণ দিয়ে থাকেন। তাদের এ- ও দাবি যে, মানুষের পেছন দিকে লেজের গোড়ার হাড় আছে! কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে: – যে অঙ্গটি আগে ছিল, এখন সেটি আর নেই। এখানে বিবর্তন কোথায় হলো? কীসের বিবর্তন হলো? প্রাণীদের দেহ থেকে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিলুপ্ত হয়ে যাওয়াকে কি বিবর্তন বলে?

★বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী তাদের পূর্ব-পুরুষরা এক সময় তৃণভোজী থাকার কারণে তাদের অ্যাপেনডিক্স কার্যকর ও উপকারী ছিল। কিন্তু তৃণভোজী থেকে মাংশাষী হওয়ার পর সেই একই অ্যাপেনডিক্স কার্যকারীতা হারিয়ে নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে গেছে। তাদের দাবি অনুযায়ী মানবদেহে এরূপ শতাধিক নিষ্ক্রিয় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ আছে যেগুলো আগে সক্রিয় ছিল। তার মানে যে অঙ্গ- প্রত্যঙ্গগুলো আগে সক্রিয় ও কার্যকর ছিল, সেগুলোই পরবর্তীতে কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে নিষ্ক্রিয় ও ক্ষতিকর হয়ে গেছে। তা-ই যদি হয় তাহলে প্রশ্ন হচ্ছে: – একটি ভালো বা কার্যকর অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কোনো কারণে তার কার্যকারীতা হারিয়ে ফেলে নিষ্ক্রিয় বা ক্ষতিকর হয়ে গেলে সেটিকে কি বিবর্তন বলা হয়? এখানে বিবর্তন ঠিক কোথায় হলো? কী থেকে কী বিবর্তিত হলো?

★বিবর্তনবাদের সমালোচকদের মধ্যে কেউ কেউ কৌতুকচ্ছলে কিংবা ধরা যাক না জেনে বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কথা বলে হাসি-ঠাট্টা করে থাকেন। কেউ কেউ আবার প্রশ্ন ছুঁড়ে দেন এই বলে যে, বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে এখনো অনেক বানর থাকা সত্ত্বেও সেগুলো থেকে মানুষ বিবর্তিত হওয়ার কোনো আলামত দেখা যাচ্ছে না কেন? (নোট: আমার লেখার কোথাও এই ধরণের কথাবার্তা বা প্রশ্ন পাওয়া যাবে না।) এই কথা শোনার সাথে সাথে বিবর্তনবাদীরা তেড়ে এসে প্রশ্নকারীকে 'অজ্ঞ-মূর্খ' আখ্যা দিয়ে যা বলেন তার অর্থ হচ্ছে: “হেঃ হেঃ বিবর্তন সম্পর্কে আপনাদের কোনো ধারণাই নাই! বর্তমান যুগের বানর থেকে তো মানুষ বিবর্তিত হয়নি! বরঞ্চ মানুষ ও বানর একটি ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ থেকে বিবর্তিত হয়েছে।” কিন্তু সেই ‘সাধারণ পূর্ব-পুরুষ’ কি মানুষ নাকি বানর নাকি অন্য কিছু ছিল, সেটা কখনোই পরিষ্কার করে বলা হয় না। যাহোক, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হোক বা অন্য কিছু থেকে বিবর্তিত হোক – এই বিষয়টাকে এক পাশে রেখে বিবর্তনবাদীদের প্রতি প্রশ্ন হচ্ছে: – বিবর্তন তত্ত্বের কোথাও কি লিখা আছে যে, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হতে পারে না? অন্য কথায়, বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষের বিবর্তন কি সম্ভব নয়? যদি সম্ভব না হয়, তাহলে কেন সম্ভব নয় তা সুস্পষ্ট যুক্তি দিয়ে ব্যাখ্যা করতে হবে। –
 রিচার্ড ডকিন্স একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “Monkeys and we come from a common ancestor and that common ancestor would probably have been called the monkey.” রিচার্ড ডকিন্সের দাবি অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে মানুষ আসলে বানর থেকেই বিবর্তিত হয়েছে – অর্থাৎ মানুষের পূর্ব- পুরুষ বানরই ছিল। তাহলে বাংলা অন্তর্জালে যারা এতদিন ধরে এই বিষয়টা নিয়ে সমালোচকদেরকে বিভিন্নভাবে হেয় করে আসছে তারা কি অজ্ঞ না ভণ্ড? তারা এই ধরণের কথাবার্তা (বানর থেকে মানুষের বিবর্তন) কিংবা প্রশ্ন (বানর থেকে যদি মানুষ বিবর্তিত হয়ে থাকে তাহলে বর্তমান যুগের বানর থেকে মানুষ বিবর্তিত হচ্ছে না কেন?) শুনে ক্ষেপে যায় কেন? তারা কি নিজেদের পূর্ব-পুরুষকে বানর হিসেবে দেখতে অপমানিত বোধ করেন? তারা কি তাহলে বিবর্তনবাদীরূপী ভণ্ড?

★একটি বনের মধ্যে অনেক বাঘ আর হরিণ একসাথে রেখে দিলে বাস্তবে কী ঘটতে পারে? ১ম সম্ভাবনা: বাঘ আর হরিণ প্রজাতি নিজেদের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখে বংশবৃদ্ধি করতে থাকবে। ২য় সম্ভাবনা: বাঘ প্রজাতি ধীরে ধীরে হরিণ প্রজাতিকে খেয়ে ফেলার কারণে এক সময় হরিণ প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটবে, থাকবে শুধু বাঘ প্রজাতি। ৩য় সম্ভাবনা: শক্তিশালী বাঘগুলো দুর্বলদেরকে হত্যা করে খেয়ে কিছুদিন বেঁচে থাকার চেষ্টা করতে পারে। তবে এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় সেই বন থেকে বাঘ প্রজাতিও বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ৪র্থ সম্ভাবনা (খুবই ক্ষীণ): বাঘ প্রজাতির মধ্যে কেউ কেউ লতা-পাতা-ফল-মূল খেয়ে বাঁচার চেষ্টা করতে পারে, যদিও এ'রকম কোনো প্রমাণ আছে কি-না জানা নেই। এভাবে যদি কিছু বাঘ বেঁচেও থাকে তাহলে সেই বাঘগুলো থেকে শুধু বাঘেরই বংশবিস্তার হবে। তবে খ্যাদ্যাভাস পরিবর্তনের কারণে তাদের আচার-আচরণে কিছুটা পরিবর্তন আসতে পারে। ক্ষীণ সম্ভাবনা-সহ সবগুলো সম্ভাবনার কথাই বলে দেওয়া হলো। কিন্তু এ ব্যাপারে বিবর্তন তত্ত্ব কী বলে? এখানে থেকে 'এলোমেলো পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক নির্বাচন'-এর মাধ্যমে নতুন প্রজাতির উদ্ভব হবে কী করে? অকাট্য প্রমাণ-সহ এই অতি সহজ একটি প্রশ্নের জবাব দেবার মতো এই দুনিয়াই কোনো বিবর্তনবাদী আছে কি?

★ কোনো যুক্তি-প্রমাণ ছাড়াই বিবর্তনবাদীদের দাবি অনুযায়ী প্রায় (?) সবগুলো ধর্ম বিশেষ করে আব্রাহামিক ধর্মের সৃষ্টিতত্ত্ব মিথ বা হাস্যকর রকমের গাঁজাখুরি কল্পকাহিনী। তাদের প্রতি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে: – সারা বিশ্বের মিথ বা কল্পকাহিনীগুলোর মধ্যে তাদের কাছে যেটিকে সবচেয়ে অযৌক্তিক ও হাস্যকর বলে মনে হয়, সেটি উল্লেখপূর্বক, সেটি কেন অযৌক্তিক ও হাস্যকর তার পক্ষে যুক্তি দিতে হবে। (নোট: নির্দিষ্ট একটি মিথ বা কল্পকাহিনীর নাম উল্লেখ করতে হবে, এবং সেটি কেন অযৌক্তিক ও হাস্যকর তার পক্ষে যুক্তি দিতে হবে।) পাঠক নিশ্চয় বুঝতে পারছেন বিবর্তন তত্ত্ব নিয়ে অসংখ্য- অগণিত প্রশ্ন করা সম্ভব। বিবর্তন তত্ত্বের যেকোনো একটি দিক নিয়েই অনেক প্রশ্ন করা যায়। কিন্তু অতো কিছু তো আর লিখার মাধ্যমে প্রকাশ করা সম্ভব নয়, তার দরকারও নাই। পাতিল ভর্তি ভাতের দু-চারটি টিপলেই বুঝা যায় ভাত রান্না হয়েছে কি-না। এজন্য এখানে কতিপয় মৌলিক প্রশ্ন ছুঁড়ে দেওয়া হলো।
প্রথম পর্ব দেখতে নিচের লিঙ্কে ক্লিক করুন-http://islameralo21.blogspot.com/2017/03/theory.html?m=1

Monday, April 24, 2017

ইসলামের বিরুদ্বে নব্য ষড়যন্ত্র ও আমাদের করণীয়।

ইসলামের নামে যারা জঙ্গিবাদ ও বোমাবাজি ও গুপ্তহত্যা চালায় তাদের সাথে ইসলামের আদৌ কোন সম্পর্ক নেই।তারা মূলত ইসলাম বিদ্বেষী চক্রের ইঙ্গিতেই শান্তির ধর্ম ইসলামকে কলুষিত করার জন্যই সুনির্দিষ্ট প্লান নিয়েই মাঠে নেমেছে।যেমন কিছুদিন আগেও যুগান্তর পত্রিকায় খবর এসেছে সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসের প্রধান খতিব আল-বাগদাদি হল- ইসরাইলী গোয়েন্দা সংস্হার লোক।
যেমন যুগান্তরের রিপোর্ট- www.jugantor.com/old/first-page/2015/11/18/9398 
বাংলা ট্রিউবনের রিপোর্ট- http://m.banglatribune.com/foreign/news/198415/গুঁড়িয়ে-দেওয়া-আইএস-ঘাঁটি-সিআইএ’র-তৈরি-ব্যবহার
 সুতরাং সারা বিশ্বের প্রতিটি শান্তিকামি তোহিদী জনতার উচিৎ এ সমস্ত ইসলাম কলুষিত কারীদের শক্তভাবে প্রতিরোধ করা।এরা সুদুর প্রসারী চক্রান্তের দ্বারা জিহাদ আর সন্ত্রাসবাদকে একাকার করে ফেলেছে অথচ জিহাদ ও সন্ত্রাসবাদের মধ্যে রয়েছে আকাশ আর পাতাল পার্থক্য। জিহাদ ইসলামে একটি ইবাদৎ আর সন্ত্রাস হল ইসলামে হারাম।জিহাদ পরিচালিত হয় সমস্ত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্বে আর আর সন্ত্রাসবাদ পরিচালিত হয় সমস্ত ন্যায়ের বিরুদ্বে। ইসলামী শরীয়তে জিহাদ পরিচালনার জন্য কয়েকটি শর্ত রয়েছে ।এ শর্তগুলো পাওয়া গেলেই কিতাল সংগঠিত করা যাবে ।আর এ গুলো পাওয়া না গেলে সেক্ষেত্রে কিতাল হবে না।নিম্ণে কিতাল সংগঠিত করার শর্তগুলো আলোচনা করা হল-
 ★ইসলামী রাষ্ট্র হওয়া।
★ইসলামী রাষ্ট্রের আমিরের নির্দেশে কিতাল সংগঠিত হওয়া।
★মুজাহিদকে মুসলিম,প্রাপ্ত বয়স্ক,জ্ঞানবান,ও পুরুষ হতে হবে।তবে ইসলামী রাষ্ট্র যদি অমুসলিমদের দ্বারা ব্যাপকভাবে আক্রান্ত হয় তখন নারী পুরুষ সবার উপরে কিতাল ফরজ হয়।
★কিতাল হবে ঐ সমস্ত অমুসলিমদের সাথে যারা মুসলমানদের সাথে স্বেচ্ছায় যুদ্বে লিপ্ত হয়।সুতরাং মুসলিমদের সাথে কিতাল জায়েয নয়।
★অমুসলিমদের মধ্যে যারা মুসলমানদের সাথে চুক্তিবদ্ধ থাকে তাদের সাথে কিতাল জায়েয নয়।

★ইসলামি রাষ্ট্রে যে সমস্ত অমুসলিম থাকে তারাও যদি কর দিয়ে কোন বিশৃংখলা না করে বসবাস করে তাদের জান মালে আক্রমন করা মুসলিমদের জন্য হারাম।
★যে সমস্ত অমুসলিম সরাসরি জিহাদে লিপ্ত তাদেরকেই শুধু আক্রমন করা যাবে।
 ★চোরাগুপ্তা নয় বরং প্রকাশ্য গোষণার মাধ্যমে বীরত্বের সাথেই সম্মুখ যুদ্ব হওয়া।

 আবার জিহাদের ময়দানেও কিছু শর্ত রয়েছে।যথা-
★ যারা সরাসরি জিহাদে লিপ্ত নয় অর্থাৎ সৈনিক নয়, সাধারণ মানুষ, তাদেরকে হত্যা করা যাবে না।
 ★যুদ্বকালীন অবস্হায় অমুসলিম কোন নারী,শিশু,ধর্মীয় পণ্ডিত,বৃদ্ব ও শ্রমিকদের উপর আক্রমন করা যাবে না।তবে তারা যদি মুসলিম সৈনিকদের সাথে সরাসরি কোন যুদ্বে লিপ্ত হয় তখন তাদেরকে আক্রমন করা যাবে।
★ অমুসলিমদের কোন ধন সম্পদ বা ঘরবাড়ি বা চতুষ্পদ জন্তুকে অপ্রয়োজনে নষ্ট করা যাবে না।

★যুদ্বকালিন যদি কেহ ইমান আনার ঘোষণা দেয় তাহলে তাকে হত্যা করা যাবে না।

★যদি কোন শত্রু বন্দি হয় তার সাথে দুর্ব্যবহার করা যাবে না বরং নম্র আচরণ করতে হবে।

 সুতরাং উপরের শর্তগুলো থেকে বুঝে নিতে পারেন যারা আইএস,বোকো হারাম,আল-শাবাব,জেএমবি নাম দিয়ে ইসলামের নামে নিরীহ মুসলিম ও অমুসলিমদের হত্যা করতেছে তারা কতটুকু ইসলামের গণ্ডির ভিতরে রয়েছে?এরা মূলত বৃহৎ টার্গেট নিয়ে শান্তির ধর্ম ইসলামকে বিশ্বের দরবারে কলুষিত করার চেষ্টায় লিপ্ত।আল্লাহ তায়ালা এ নব্য ফেতনা থেকে মুসলিম জাতিকে হেফাজত করুক!আমিন!

Monday, April 10, 2017

★আল কোরআন ও বিগব্যাং থিওরী:

ইসলাম হল-আল্লাহ তায়ালা কতৃক একমাত্র মনোনীত জীবন ব্যবস্হা।যে জীবনব্যবস্হার প্রতিটি কাজই হল-বিজ্ঞান সম্মত ও আধুনিক।মানুষের জ্ঞান বিজ্ঞানের যতই উন্নতি হচ্ছে ইসলামের বিধানগুলোর সত্যতা ততই দিবালোকের ন্যায় স্পষ্ট হচ্ছে।বিজ্ঞানের থিওরির মধ্যে অন্যতম একটি থিওরি হল-বিগ ব্যাং থিওরি।আল্লাহর প্রেরিত রাসুল মুহাম্মদ (সাঃ) আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে পবিত্র কোরআন শরীপে বিগ ব্যাং থিওরির সত্যতার প্রতি বলে গিয়েছেন।নিম্নে বিগ ব্যাং থিওরির সত্যতা সম্পর্কে আল কোরআনের অবস্হান তুলে ধরা হল-

 ★বিগ ব্যাং থিওরি কি? বিশ্বের সৃষ্টি সম্পর্কে জ্যোতির্বিদগণ কর্তৃক প্রদত্ত একটি ব্যাখ্যা হল বিগ ব্যাং থিওরি, যা ব্যাপক ভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে। যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন তথ্য ও পরীক্ষা নিরীক্ষার মাধ্যমে এই তত্ত্ব সমর্থিত হয়েছে। “বিগ ব্যাং” অনুসারে মহাবিশ্ব প্রাথমিক অবস্থায় একটি বিশাল নিহারিকা ছিল। তারপর সেখানে একটি মহা বিস্ফরন ঘটে, ফলে ছায়া পথ তৈরি হয়। পরবর্তীতে এগুলো তারা, গ্রহ, সূর্য ও চন্দ্র ইত্তাদিতে রুপান্তরিত হয়। এই তত্ত্ব বলে আজ থেকে প্রায় ১৩.৭ বিলিয়ন বছর পূর্বে এই মহাবিশ্ব একটি অতি ঘন এবং উত্তপ্ত অবস্থা থেকে সৃষ্টি হয়েছিল। বিজ্ঞানী এডুইন হাবল প্রথম বলেন, দূরবর্তী ছায়াপথসমূহের বেগ সামগ্রিকভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় এরা পরষ্পর দূরে সরে যাচ্ছে অর্থাৎ মহাবিশ্ব ক্রমশ সম্প্রসারিত হচ্ছে।

 ★আল- কোরআনে বিগ ব্যাং এর আলোচনা: বিগ ব্যাং সম্পর্কে আল্লাহ তায়ালা বলেন, যারা অস্বীকার করেছে তারা কি চিন্তা করে না যে, (একদা) এই আসমান ও জমিনের সব কিছুই মিলিত অবস্থায় ছিল, অত:পর আমরা এ গুলোকে আলাদা করে দিয়েছি।"(সূরা আম্বিয়ার আয়াত নং -৩০) এখানে মিলিত অবস্থা বলতে পরস্পরে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকাকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ বিশ্বজগতের প্রাথমিক অবস্থায় এটি একটি পিন্ড ও দলার মতো ছিল। পরে এদেরকে আলাদা-অলাদা ভাগে বিভক্ত করে জমিন ও অন্যান্য গ্রহ-উপগ্রহের আলাদা জগত সৃষ্টি করে দেওয়া হয়েছে। এই আয়াতে "রাতক্ব" এবং "ফাতাক্ব" শব্দদ্বয় দিয়ে বুঝানো হয়েছে যে, বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের যাবতীয় কিছু একক বস্তুতে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে তা স্বতন্ত্র অস্তিত্বে আলাদা হয়েছিল। এই আয়াতের শব্দদ্বয় "একতা নীতি" বা "প্রিন্সিপল অব সিঙ্গুলারিটি" এর নির্দেশ করে এবং বিগ ব্যাং থিওরীর পরিপূর্ণ ধারণা বহন করে।

 বিজ্ঞানীরা বলেছেন যে, মহাবিশ্বে ছায়াপথ গঠিত হবার পূর্বে , সব পদার্থ প্রাথমিক ভাবে গ্যাস অবস্থায় ছিল। সংক্ষেপে বলা যায়, ছায়াপথ তৈরির আগে বিপুল পরিমান পদার্থ গ্যাস বা মেঘ অবস্থায় বিদ্যমান ছিল। আসলে মহাবিশ্বের প্রাথমিক অবস্থাকে বর্ণনা করতে “ধোয়া” শব্দটি গ্যাসের থেকে আরও বেশি যথার্থ। কোরআনে মহাবিশ্বের এই অবস্থাকে বর্ণনা করা হয়েছে “দুখা-ন” শব্দ দ্বারা যার অর্থ “ধোয়া”। যেমন-কোরআনে এসেছে- “অতঃপর তিনি আকাশের দিকে মনোযোগ দিলেন যা ছিল ধুম্রকুঞ্জ, অতঃপর তিনি তাকে ও পৃথিবীকে বললেন, তোমরা উভয়ে আস ইচ্ছায় অথবা অনিচ্ছায়। তারা বলল, আমরা স্বেচ্ছায় আসলাম।” [৪১:১১]

তাহলে কোরআন অনুযায়ী এই প্রাকৃতিক মহাবিশ্বকে ‘Be’ কম্যান্ডমেন্ট তথা ‘Big Bang’ এর মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়েছে (২:১১৭, ২১:৩০)… তারপর থেকে মহাবিশ্বকে সম্প্রসারণ করা হচ্ছে (৫১:৪৭)… ধীরে ধীরে সংকোচনের মাধ্যমেন একদিন ধ্বংস করা হবে (২১:১০৪)… এবং আবারো নতুন করে মহাবিশ্বকে সৃষ্টি করা হবে (২১:১০৪,১৪:৪৮)।

 এই বিগ ব্যাং থিওরীর একটা অনুসিদ্ধান্ত হল "অনবরত দূরে সরে যাওয়া গ্রহ নক্ষত্রগুলো একসময় আবার কাছাকাছি আসা শুরু করবে কেন্দ্রবিমুখী বল শুন্য হয়ে যাওয়ার ফলে এবং সময়ের ব্যাবধানে সব গ্রহ নক্ষত্র আবার একত্রে মিলিত হয়ে একটা পিন্ডে পরিনত হবে"। "সেই দিন আকাশমন্ডলীকে গুটিয়ে ফেলব, যেভাবে গুটানো হয় লিখিত দফতর" (সূরা আম্বিয়া : ১০৪)

ড:মিলার বলেছেন, এই আয়াতটি নিয়ে চিন্তা-গবেষণার পর কোরআন যে ঐশী গ্রন্থ তা মেনে নিতে বাধ্য হই। যারা প্রচার চালাচ্ছে কোরআন হযরত মুহাম্মদ (সা) এর নিজস্ব বক্তব্য তাদের দাবি নাকচ করার জন্য এই একটি আয়াতই যথেষ্ট।(THE AMAZING QURAN ,chap.Origin of the Universe and Life)

 ড:মিলার বলেছেন, দেড় হাজার বছর আগে ইসলামের নবীর পক্ষে কিভাবে মহাবিশ্ব সৃষ্টির রহস্য নিয়ে কথা বলা সম্ভব, যিনি কোন দিন কোন স্কুলে পড়ালেখা করেন নি। কারণ এটি এমন এক বৈজ্ঞানিক বিষয়, যা সম্পর্কে তত্ত্ব আবিষ্কার করে মাত্র কয়েক বছর আগে ১৯৭৩ সালে নোবেল পুরুস্কার পেয়েছেন এক বিজ্ঞানী। মিলারের মতে এই আয়াতে সেই বিগ ব্যাং এর কথাই বলা হয়েছে যার মাধ্যমে পৃথিবী, আকাশমন্ডলী ও তারকারাজি সৃষ্টি হয়েছে।

 পরিশেষে বলা যায় যে,পবিত্র কোরআন গতানুগতিক কোন বৈজ্ঞানিক থিওরির কিতাব নয়।বরং এটা সৃষ্টকর্তার পক্ষ থেকে মানবজাতির হেদায়েতের আলোকবর্তিকা।তারপরও কোরআনে যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক থিওরি আলোচিত হয়েছে পৃথিবী যতই বিজ্ঞানে আলোকিত হবে কোরআনের গূড় রহস্য ততই পরিষ্কার হবে।কোরআনের সাথে বৈজ্ঞানিকের কোন থিওরির যদি বৈপরিত্য দেখা দেয় আমাদেরকে বুঝতে হবে সেই থিওরিতে নিশ্চয় কোন ভুল রয়েছে।কারন মানুষের জ্ঞান হল-সসীম আর আল্লাহর জ্ঞান হল-অসীম।অসীম জ্ঞানের সাথে সসীমের কোন তুলনা হতে পারে না।