Monday, April 9, 2018

কোন ধর্মটি সবচেয়ে প্রাচীন?

 বিষয়ে বিভিন্ন ধর্মে বিশেষ করে হিন্দুদের মধ্যে ভুল ধারনা রয়েছে। তারা ভাবে হিন্দু ধর্ম সবথেকে প্রাচীন ধর্ম। তারা বলে যেহেতু হিন্দু ধর্ম ইসলাম, খ্রিষ্টান ও ইহুদি ধর্মের আগে এসেছে তাই হিন্দু ধর্মই একমাত্র সত্য ধর্ম এবং বাকি সব ধর্ম হিন্দু ধর্ম হতে সৃষ্টি ইত্যাদি ইত্যাদি। এজন্য এই বিষয়টিরই একটি কেস স্টাডি করা হবে।
 প্রথমেই বলি, কোন ধর্মকে অবস্থান কালের ভিত্তিতে সত্য ধরতে হয় তবে সেই ধর্মকে শুধু প্রাচীন হলে হবে না বরং সবথেকে প্রাচীন হতে হবে, অর্থাৎ সেটি প্রথম মানবের সময় হতে সৃষ্ট হতে হবে। যদি তা না হয় তবে সে ধর্ম ভুল। কারন ঈশ্বর যদি ধর্ম সৃষ্টি করেন তবে তা সব মানুষের জন্য করবেন, কোন একদলকে বাদ রেখে পরের প্রজন্মের জন্য করবেন না। যদি কোণ ধর্মকে সত্য হতে হয় তবে সেটাকে প্রথম প্রজন্মের মানুষের হাত ধরেই চলে আসতে হবে। হিন্দুরা অনলাইনে যুক্তি দিতে প্রথম যে কাজ করে তা হচ্ছে উইকিপিডিয়া থেকে কপি করে হিন্দু ধর্মের বয়স দেখায় যে এটা সবথেকে প্রাচীন, আর সবথেকে বড় বাশ এখানেই খায়, কারন উইকপিডিয়াতে হিন্দু ধর্মের সবচেয়ে প্রাচীন কিতাব ঋগবেদ এর বয়স দেয়া আছে 1200-1500 BC
https://en.wikipedia.org/wiki/Rigveda
 অর্থাৎ হিন্দু ধর্মের বয়স সাড়ে তিন হাজার বছরের বেশী না। অপরদিকে মানব সভ্যতার বয়স চল্লিশ হাজার বছরের বেশী।
https://www.sciencedaily.com/releases/2005/02/050223142230.htm
 এখন হিন্দু ধর্মই যদি সত্য হয় তবে ভগবান কেন মানুষ সৃষ্টির এতগুলো বছর পর অর্থাৎ প্রায় ৩৫ হাজার বছর পর ধর্ম প্রেরন করল? তাহলে এই ধর্ম কি সত্য হতে পারে ?
 অপরদিকে তথ্যানুসারে যে হিন্দুরা দাবী করে হিন্দু ধর্ম সবচেয়ে প্রাচীণ, এটাও কিন্তু সঠিক নয়, কারন Catalhoyuk দের ধর্ম আজ থেকেও প্রায় ৯ হাজার বছর পুর্বে ছিল, অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম থেকেও প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর প্রাচীন তাদের ধর্ম, দেখুন
https://en.wikipedia.org/wiki/%C3%87atalh%C3%B6y%C3%BCk#Religion
 সুমেরিয়ান দের ধর্মও আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগের, অর্থাৎ হিন্দু ধর্ম থেকেও এক দেড় হাজার বছর পুর্বে এই ধর্ম এসেছে।
https://en.wikipedia.org/wiki/%C3%87atalh%C3%B6y%C3%BCk#Religion
 এখন হিন্দুরা কি তবে বলবে ক্যাটালহোক বা সুমেরিয়ানদের ধর্মই সত্য ধর্ম, আর তাদেরটা মিথ্যা ? তবে হিন্দুদের মধ্যে বৈদিকরা আবার এসব তথ্যের তোয়াক্কা না করে দাবী করে যে বেদ এসেছে সৃষ্টির শুরু থেকে। অর্থাৎ প্রথম মানুষ থেকেই বেদ এর জন্ম।
এই দাবীগুলো খন্ডানো যায় অনেকভাবেই, যেমন, যদি বেদ মানব জাতির একদম প্রথম থেকে হয়ে থাকে, তবে এর ভাষা সংস্কৃতকে হতে হবে বিশ্বের সবথেকে প্রাচীণ ভাষা। কিন্তু মজার বিষয় প্রাচীনতম ত দূরে থাক, বিশ্বের সবথেকে লিখিত পাওয়া প্রাচীন ১৩ ভাষার মধ্যেও সংস্কৃত এর স্থান নেই। https://en.wikipedia.org/wiki/List_of_languages_by_first_written_accounts সংস্কৃত ভাষা ইন্দো ইউরোপীয় মুল ভাষাগোষ্টীর অন্তর্ভুক্ত। ইন্দো ইউরোপিয় ভাষার বয়স খ্রিষ্টপুর্ব ৫ হাজার বছর। আনুমানিক খ্রিষ্টপুর্ব ২৫০০ বছর পুর্বে ইন্দো ইউরোপিয় ভাষার দুই শাখা কেন্তম ও শতম শাখার জন্ম। এরপর শতম শাখার ইন্দো এশীয় রুপ থেকে বৈদিক সংস্কৃত ভাষার সৃষ্টি হয় খ্রিষ্টপুর্ব ১২০০ অব্দে। অর্থাৎ ঋগবেদ ও সংস্কৃত ভাষার জন্ম একি সাথে, যার জন্ম সর্বোচ্চ ৩ থেকে সাড়ে তিন হাজার বছর। অর্থাৎ যে ভাষার জন্মই মাত্র সাড়ে ৩ হাজার বছর, সেই ভাষায় কিভাবে মানব সভ্যতার প্রথমে বেদ নাযিল হতে পারে ?
এখন দেখি আসুন খোদ বেদ কি বলে,
 যজুর্বেদ ১৩/৩৭,
 “হে জ্ঞানী মানুষ, প্রাচীন জ্ঞানীদের হতে শিক্ষা নাও, যারা অতিথিপরায়ণ, রথারোহীর ন্যায় যারা নিজ অশ্বদের সংযুক্ত করে, যারা দক্ষদের দ্বারা সুনিয়ন্ত্রিত, এবং যারা নিজেদের ন্যায়ের আসনে বসিয়েছে।”
এখানে বেদ প্রাচীন জ্ঞানীদের হতে শিক্ষা নিতে বলেছে, অর্থাৎ বেদ যখন লেখা হয়েছে সেই সময় থেকেও প্রাচীন মানব সভ্যতা ছিল। এরপর দেখি যারা ছিল রথারোহি, ঘোড়সওয়ার।  আমরা জানি, রথারোহন, তথা চাকার আবিষ্কার হয়েছে মানব সভ্যতার বহু পরে, অর্থাৎ বেদ কোনভাবেই মানব সভ্যতার শুরুতে নাযিল হয়নি। আর বেদ সেই সময়কে প্রাচীন বলেছে(সেই সময়ের জ্ঞানীদের প্রাচীন আখ্যা দিয়ে) অর্থাৎ বেদ মানব সভ্যতার বহু বহু পরে রচিত, খোদ বেদ থেকেই তা প্রমানিত।
এবার আসি আরো কিছু প্রাসংগিক তথ্যে, আপনারা কি জানেন হিন্দুদের বেদ নামক বইটি আসলে পারসীয়ানদের ধর্মগ্রন্থ জেন্দ আবেস্তা হতে কপি করে লেখা ? আর্যদের আদি নিবাদ হচ্ছে পারস্য, পারস্য হতে মাইগ্রেট করে এরা আফগানিস্তানের খাইবার গিরিপথ হতে ভারতবর্ষে প্রবেশ করে। ভারতবর্ষে প্রবেশের পর তারা পারস্যের ধর্মগ্রন্থ জেন্দ আবেস্তার অনুকরনে বেদ রচনা করে এরা ধর্মপ্রচার শুরু করে।
 উইকিপিডিয়া অনুসারে জেন্দ আবেস্তা ও ঋগবেদ এর রচনাকাল প্রায় সমসাময়িক বলা হলেও বিভিন্ন ঐতিহাসিকদের মতে আবেস্তা গ্রন্থ ঋগবেদ হতে প্রাচীন।
http://www.sabhlokcity.com 
আর আবেস্তা ও ঋগেবেদ পাশাপাশী পর্যালোনা করলে যে কেউ বুঝতে পারবে যে একটা আরেকটার কপি।  আবেস্তা হতে বহু শব্দ হ স এর ইত্যাদি পরিবর্তিত হয়ে ঋগবেদে ব্যাবহৃত হয়েছে, যেমন ,
 Avesta    Rigveda
 ahura-    asura
 homa-     soma
 hapta-     sapta
 maaha-   maasa
 henaa-    senaa
 hanti-      santi
 vivahnata-  vivaswata
 mithra-    mitra
aajuti -- aahuti
Hapta Hendu--Sapta Sindhu
thraitaan mantra-- traitaal mantra ইত্যাদি বেদ এর ৪ বর্নপ্রথা তথা Brahman, Kshatriya, Vaishya and Shudra ও আবেস্তা হতেই ধার করা। আবেস্তাতেও একিভাবে (a) atharva , the priest, (b) ratheshtan , the warrior (notice the inclusion of rath here, which means ‘chariot’ in Sanskrit) (c) vastriyoksiya, the agricultural labourer and (d) huits , the labour. এই চার বর্নপ্রথার উল্লেখ আছে, যা বেদে হুবহু কপি করা হয়েছে।
 শুধু তাই না, সরাসরি verse  বা মন্ত্র শুধু শব্দ চেইঞ্জ করে হুবহু তুলে দেয়া হয়েছে আবেস্তা হতে ঋগবেদে, যেমন,
 (Rigveda)
 majadaah sakritva smarishthah
 অনুবাদঃ Only that supreme being is worthy of worship (Avesta (Gatha 17:4 Yashna 29) )
 madaatta sakhaare marharinto
 অনুবাদঃ Only Ahura Mazda is worthy of worship.
Avesta,  Gatha 17:4 Yashna 53:4)
 mahaantaa mitraa varunaa devaav ahuraaha sakhe ya fedroi vidaat patyaye caa vaastrevyo at caa khatratave ashaauno ashavavyo
 (Translation: O Ahura Mazda, you appear as the father, the ruler, the friend, the worker and as knowledge. It is your immense mercy that has given a mortal the fortune to stay at your feet.)
 Rigveda:
 mahaantaa mitraa varunaa samraajaa devaav asuraaha sakhe sakhaayaam ajaro jarimne agne martyaan amartyas tvam  (Translation: O Supreme Being, you are fire, you are the sun, you are water. You have appeared to us as Father, as our ruler, as our friend and as our teacher. O Great Father, you are beyond aging but we are not. You are beyond death but we are not. In spite of that you have given us the great fortune to call you our friend.) এরকম আরো বহু উদাহরন দেয়া যাবে।  যাই হোক, পরিশেষে বলা যায়, বেদকে অপৌরুষ, আদি ইত্যাদি বলে হিন্দুরা যেসব গর্ব করে তা ভিত্তিহীন এবং হিন্দু ধর্ম কোনভাবেই মাত্র সাড়ে ৩ হাজার বছরের প্রাচীন নয়।
এখন প্রশ্ন জাগতে পারে তাহলে সবথেকে প্রাচীণ ধর্ম কোনটি। এর উত্তর জানতে হলে আমাদের বুঝতে হবে ধর্ম কি। ধর্ম হচ্ছে ঈশ্বরের একত্ববাদের উপর ভিত্তি করে যা গড়ে ওঠে। পৌত্তলিকতাও ধর্ম, কিন্তু তা সঠিক ধর্ম হতে পারে না। কারন কোন ধর্মগ্রন্থই পৌত্তলিকতাবাদকে অনুমোদন করে না।। আর ইসলামের মুল বিষয় হচ্ছে তাওহীদবাদ। অর্থাৎ সৃষ্টার একত্ববাদ। আর যুগ যুগ ধরে যত আসমানী কিতাব রয়েছে সবখানেই রয়েছে সৃষ্টার একত্ববাদ। হিন্দুদের বেদেও রয়েছে সৃষ্টার একত্ববাদ। বাইবেল, ওল্ড টেষ্টামেন্ট, আবেস্তা সবখানেই একি একত্ববাদ। অর্থাৎ ইসলাম মোটেও কোন নতুন ধর্ম নয়।আল্লাহ যুগে যুগে বহু নবী রাসুল পাঠিয়েছেন, কিতাব পাঠিয়েছেন,  কোরান হচ্ছে সর্বশেষ কিতাব। নাম না জানা সেসব কিতাব এর বিকৃত বা অবশিষ্টাংশই যে বর্তমানের বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ এ ব্যাপারে সন্দেহ নেই। কোরান দ্বারাই ইসলামের শুরু নয় বরং কোরান ইসলামের সর্বশেষ অধ্যাদেশ। প্রথম মানব ও নবী হযরত আদম আঃ এর হাত ধরে ইসলাম শুরু, ও কিতাব কোরান ও মুহাম্মদ সঃ এর দ্বারাই এর অধ্যাদেশ শেষ। তাই ইসলামই একমাত্র ধর্ম যা সৃষ্টির আদি হতে আছে এবং অন্ত পর্যন্ত থাকবে। আর ইসলামের আদি হতে থাকার প্রমান আমরা দেখতে পাই, কোরান পুর্বক সকল কিতাবেই, যেগুলো হতে পারে পুর্বোক্ত আসমানী কিতাব বা তার অংশবিশেষ বা বিকৃত অংশ।
 যেমন পনেরশ বছর পুর্বের বাইবেল উদ্ধার হয়েছে সম্প্রতি যেখানে, যীশু আঃ কে নবী ও নবী মুহাম্মদ সঃ এর আগমনের কথা বলা আছে,
https://en.wikipedia.org/wiki/Gospel_of_Barnabas
http://www.dailymail.co.uk/news/article-2105714/Secret-14million-Bible-Jesus-predicts-coming-Prophet-Muhammad-unearthed-Turkey.html
বেদেও আছে আল্লাহ রাসুলের পরিচয় ও ইসলামের তাওহীদবাদ,
বেদে আল্লাহ
পারসীয়ান ধর্ম যেটি ঋগবেদ হতেও প্রাচীণ, তাতেও আছে ইসলামের মুল ভিত্তি ও নবিজির আগমনের বর্ননা
http://www.islamawareness.net/Zoroastrianism/scriptures.html
তাই আমরা দেখতে পাচ্ছি ইসলামের মুল ভিত্তি যুগে যুগে অপরিবর্তিত ছিল।যুগের প্রাক্কালে পুর্বের আসমানী কিতাব অনেকগুলোই হারিয়ে গেছে, কিছু বিকৃতি হয়েছে, কারন কোরান নাযিলের পর সেগুলোর আর দরকার ছিল না। তবে ইসলামের যাত্রা শুরু হয় প্রথম মানুষ আদম আঃ থেকে এবং এটা হতে থাকবে পৃথিবির অন্ত পর্যন্ত। তাই ইসলামই একমাত্র প্রাচীন, সত্য ও সৃষ্টার একত্ববাদের ধর্ম যা আছে মানব সৃষ্টির শুরু থেকে।

পাহাড়ের শ্রেণীবিভাগে আল কোরআনের অলৌকিকতা।

আমরা জানি গঠনগত দিক দিয়ে পৃথিবীর সকল পর্বত একনয়।গবেষকরা অতি সম্প্রতি বিভিন্ন যন্ত্রপাতির ব্যাবহারের মাধ্যমে জানতে পেরেছেন গঠনগত কারনে পর্বত গুলোর মধ্যে পার্থক্য রয়েছে।অথচ কোরআনুল করিমে ১৫০০বছর আগেই উল্লেখ করেছেন পর্বতের এই ভিন্নতার কথা। অপূর্ব ভাষাশৈলী আর সুক্ষতার মাধ্যমে মাওলা বুঝিয়ে দিয়েছেন এই পার্থক্য।
ﻭَﺃَﻟْﻘَﻰ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺭَﻭَﺍﺳِﻲَ ﺃَﻥ ﺗَﻤِﻴﺪَ ﺑِﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﺭًﺍ ﻭَﺳُﺒُﻼً ﻟَّﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ
এবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।(16: 15)
And He has set up on the earth mountains standing firm, lest it should shake with you; and rivers and roads; that ye may guide yourselves;

আচ্ছা এখানে বোঝা চাপানোর সাথে পৃথিবীর হেলে পড়ার কি সম্পর্ক?
আমরা জানি পৃথিবী নিজ অক্ষে ঘুড়ির মত ভেসে সূর্যকে কেন্দ্র করে অনবরত ঘুরছে লাটিমের মত!
আমরা যারা ঘুড়ি উড়িয়েছি বা লাটিম ঘুরিয়েছি তারা অবশ্যই জানি লাটিমের ঘূর্ণন বা ঘুড়ির উড়ার জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ওজনের ভারসাম্য! তা নাহলে ঘুড়ি বা লাটিম একদিকে হেলে পড়বে। ঘুড়ির ভারসাম্য রক্ষায় এর দুই পাশে বাড়তি কাগজ লাগিয়ে দেয়া হয় যেন হেলে নাপড়ে!
এই আয়াতের তাৎপর্য্য বুঝতে হলে আমাদের যা জানতে হবে তা হচ্ছে পৃথিবীর আকার, ওজন ও ওজনের ভারসাম্য!

আকৃতি :
পৃথিবী দেখতে পুরোপুরি গোলাকার নয়, বরং কমলালেবুর মত উপর ও নিচের দিকে কিছুটা চাপা এবং মধ্যভাগ (নিরক্ষরেখার কাছাকাছি) স্ফীত। এ'ধরণের স্ফীতি তৈরি হয়েছে নিজ অক্ষকে কেন্দ্র করে এর ঘূর্ণনের কারণে। একই কারণে বিষুব অঞ্চলীয় ব্যাস মেরু অঞ্চলীয় ব্যাসের তুলনায় প্রায় ৪৩ কিমি. বেশি।
বিষুব অঞ্চলে এর ব্যাস ৬৩৭৮.১৬০ কিলোমিটার। মেরু অঞ্চলের ব্যাসার্ধ ৬৩৫৭.৭৭৫ কিলোমিটার।
ওজনঃ পৃথিবীর ওজন মাপা সম্ভব, তবে যন্ত্রে চাপিয়ে নয় বুদ্ধি জোরে অঙ্ক কষে। বিজ্ঞানীরা বুদ্ধির জোরে অঙ্ক কষে এই কঠিন কাজটি সম্পন্ন করেছেন। এই কাজটি করার সাহস যিনি প্রথম দেখিয়েছিলেন তিনি হলেন বিখ্যাত ব্রিটিশ বিজ্ঞানী হেনরী ক্যাভেন্ডিশ।দুটো ছোট বড় সীসার গোলকের আকর্ষণ শক্তির সঙ্গে পৃথিবীর অভিকর্ষের তারতম্য এবং পৃথিবীর ঘনত্বের সঙ্গে সীসার ঘনত্বের পার্থক্য নির্ণয় করে পৃথিবীর ওজন করে করেছিলেন। কত ওজন আমাদের এই বিশাল পৃথিবীর। সংখ্যায় লিখলে তা এইরকম হবে---৬,০০০,০০০
,০০০,০০০,০০০,০০০,০০০ টন(প্রায়)।
এই বিশাল ভর বা ওজনের দৈত্যাকার লাটিমের ওজনের ভারসাম্যের বাপারে নিউটনের সুত্র কি বলে?

আমরা জানি বল প্রযুক্ত হলে কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধি পায়। প্রতি সেকেন্ডে যে বেগ বৃদ্ধি পায় তাকে ত্বরণ বলে। অভিকর্ষ বলের প্রভাবেও বস্তুর ত্বরণ হয়। এ ত্বরণকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বা মাধ্যাকর্ষণজনিত ত্বরণ বলা হয়। যেহেতু বেগ বৃদ্ধির হারকে ত্বরণ বলে, সুতরাং অভিকর্ষ বলের প্রভাবে ভূপৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ বৃদ্ধির হারকে অভিকর্ষজ ত্বরণ বলে।
অভিকর্ষজ ত্বরণকে m দ্বারা প্রকাশ করা হয়। যেহেতু অভিকর্ষজ ত্বরণ এক প্রকার ত্বরণ, সুতরাং এর একক হবে ত্বরণের একক অর্থাৎ মিটার/সেকেন্ড২।
ধরা যাক, M = পৃথিবীর ভর, m=ভূ-পৃষ্ঠে বা এর নিকটে অবস্থিত কোনো বস্তুর ভর, d=বস্তু ও পৃথিবীর কেন্দ্রের মধ্যবর্তী দূরত্ব। তাহলে মহাকর্ষ সূত্রানুসারে, অভিকর্ষ বল,
আবার বলের পরিমাপ থেকে আমরা পাই, অভিকর্ষ বল = ভর$ \times $ অভিকর্ষজ ত্বরণ
অর্থাৎ F=mg
উপরিউক্ত দুই সমীকরণ থেকে পাওয়া যায়,
\ $ mg= \frac {GMm} {d^2} $
বা,$ g= \frac {GM} {d^2} $
এ সমীকরণের ডান পাশে বস্তুর ভর m অনুপস্থিত। সুতরাং অভিকর্ষজ ত্বরণ বস্তুর ভরের উপর নির্ভর করে না। যেহেতু G এবং পৃথিবীর ভর M ধ্রুবক, তাই g-এর মান পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে বস্তুর দূরত্ব d-এর উপর নির্ভর করে। সুতরাং g-এর মান বস্তু নিরপেক্ষ হলেও স্থান নিরপেক্ষ নয়। এর অর্থ হলো g-এর মান বিভিন্ন অঞ্চলে বিভিন্ন রকম হয়।

অভিকর্ষজ ত্বরণের পরিবর্তন : পৃথিবীর কেন্দ্র থেকে ভূ-পৃষ্ঠের দূরত্ব অর্থাৎ পৃথিবীর ব্যাসার্ধ R হলে ভূপৃষ্ঠে $ g= \frac {GM} {R^2} $
যেহেতু পৃথিবী সম্পূর্ণ গোলাকার নয়, মেরু অঞ্চলে একটুখানি চাপা, তাই পৃথিবীর ব্যাসার্ধ R ও ধ্রুবক নয়। সুতরাং ভূ-পৃষ্ঠের সর্বত্র g-এর মান সমান নয়। মেরু অঞ্চলে পৃথিবীর ব্যাসার্ধ R সবচেয়ে কম বলে সেখানে g-এর মান সবচেয়ে বেশি। মেরু অঞ্চলে g-এর মান ৯.৮৩২ মিটার/
সেকেন্ড২। মেরু থেকে বিষুব অঞ্চলের দিকে R এর মান বাড়তে থাকায় g-এর মান কমতে থাকে। বিষুব অঞ্চলে R এর মান সবচেয়ে বেশি বলে g-এর মান সবচেয়ে কম। ৯.৭৮ মিটার/সেকেন্ড২। ক্রান্তীয় অঞ্চলে g-এর মান ৯.৮০৬৬৫ মিটার/
সেকেন্ড২। হিসাবের সুবিধার জন্য g-এর আদর্শ মান ধরা হয় ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২ বা ৯.৮১ মিটার/সেকেন্ড২। ভূ-পৃষ্ঠে g- এর মান ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড২। এর অর্থ হচ্ছে ভূ-পৃষ্ঠে মুক্তভাবে পড়ন্ত কোনো বস্তুর বেগ প্রতি সেকেন্ডে ৯.৮ মিটার/সেকেন্ড বৃদ্ধি পায়।
পৃথিবীর ভারসাম্যের আলোচনা করতে গেলে যে বিষয়টির আলোচনা না করলে নাই হয়, তা হচ্ছে পৃথিবীর অভ্যন্তর ভাগ!
পৃথিবীর অভ্যন্তরীণ গঠন কতক গুলো স্তরে বিভক্ত। প্রায় ৬৩৭৮ কিমি নিচে রয়েছে এর কেন্দ্র। পৃথিবীর উপরিভাগ থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত প্রধান স্তর গুলো হল ০-৩৫ কিমি পুরু বাইরের ভূত্বক (crust), ৩৫-২৮৯০ কিমি পুরু ম্যান্টল (mantle), ২৮৯০-৬৩৭৮ কিমি পর্যন্ত কোর (Core)। ভূতাত্ত্বিক তথ্য উপাত্তের অধিকাংশই সংগৃহীত হয় সমগ্র পৃথিবীর উপরিভাগের কঠিন স্তর থেকে। পৃথিবীর উপরিভাগের স্তরের মাটি-পাথরের মাঝেই লুকিয়ে আছে এর ইতিহাস এবং সম্পদ। এর কোথাও রয়েছে গ্যাস, কোথাওবা তেল বা আকরিক আবার কোথাও রয়েছে ধাতব পদার্থের বিশাল ভাণ্ডার! এছাড়াও আছে বিশাল জলভাগ! এতে স্পষ্ট যে পৃথিবীর ওজনের ভারসাম্য স্বাভাবিক ভাবে থাকা অসম্ভব যদি না বিকল্প ব্যাবস্থা গ্রহন করা হয়! যেমন- ঘুড়িকে হেলে পড়া থেকে বাঁচানোর জন্য বাড়তি ওজন এর দুপাশে জুড়ে দেয়া হয়।
সুবাহানাল্লাহ!!

ঠিক এ কথাটাই বলা হয়েছে পবিত্র কোরআনে।
ﻭَﺃَﻟْﻘَﻰ ﻓِﻲ ﺍﻷَﺭْﺽِ ﺭَﻭَﺍﺳِﻲَ ﺃَﻥ ﺗَﻤِﻴﺪَ ﺑِﻜُﻢْ ﻭَﺃَﻧْﻬَﺎﺭًﺍ ﻭَﺳُﺒُﻼً ﻟَّﻌَﻠَّﻜُﻢْ ﺗَﻬْﺘَﺪُﻭﻥَ
অর্থাৎএবং তিনি পৃথিবীর উপর বোঝা রেখেছেন যে, কখনো যেন তা তোমাদেরকে নিয়ে হেলে-দুলে না পড়ে এবং নদী ও পথ তৈরী করেছেন, যাতে তোমরা পথ প্রদর্শিত হও।(১৬:১৫)

যাইহোক,
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা যে বিষয়গুলো পেলাম তা হচ্ছে-
১)পৃথিবী সুষম গোলক নয়।
২)এর ওজনের ভারসাম্য থাকা স্বাভাবিক নয় কারন এর ওজন সর্বত্র সমান নয়!
আর এজন্যই আল্লাহ্ বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দিয়ে এর ভারসাম্য ঠিক রেখেছেন!
আল্লাহু আকবার!!
এখন আসি মূল আলোচনায়!
সুরা নাবার ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ্ বলেন-
 ﻭَّﺍﻟۡﺠِﺒَﺎﻝَ ﺍَﻭۡﺗَﺎﺩًﺍ
পাহাড়গুলোকে গেঁড়ে দিয়েছি পেরেকের মতো?
এখানে আল্লাহ্ পাক ইংগিত করেছেন ভংগিল পর্বতের প্রতি।
আর ১৬:১৫ আয়াতে মাওলা ইংগিত করেছেন স্তুপ ও আগ্নেয় পর্বতের প্রতি যা পেরেকের মত নয় বরং একটি বোঝার মতই আছে পৃথিবীর ভারসাম্য রক্ষার জন্য।

আচ্ছা, আজ থেকে ১৫০০ বছর আগে কিভাবে কোরআনে আসল পর্বতের এই শ্রেণী বিভাগের তথ্য যা অতিসম্প্রতি আধুনিক যন্ত্রপাতি দিয়ে ব্যাপক পরিক্ষা নিরিক্ষার মাধ্যমে জানতে পেরেছে মানুষ? মুহাম্মদ (সাঃ) কি এগুলো গবেষনা করে বের করেছিলেন নাকি কোন এক মহান স্বত্বা তাঁকে এটা জানিয়ে দিয়েছিলেন ঐশী বাণীর মাধ্যমে?
এজন্যই কোরআনে বলা হয়েছে নিশ্চয়ই এতে রয়েছে চিন্তাশীলদের জন্য নিদর্শন!!
এরপরেও বলব কোরআন মানুষের রচিত গ্রন্থ?


Sunday, April 8, 2018

★মৌমাছির লিঙ্গ নির্ধারণে আল-কোরআনের অলৌকিকতা!

কোরআনের সত্যতার প্রমাণের জন্য সূরা নাহলের এই একটি আয়াতই যথেষ্ট।
বিষয়টি নিয়ে নতুন করে লিখার কিছু নেই।অনেকেই সুস্পষ্ট ও বিশ্লেষণ করে এ বিষয়ে লিখেছেন।পবিত্র কোরআনে এ বিষয়ে অত্যন্ত স্পষ্ট করে বলে দেয়া হয়েছে।
কিন্তু এরপরেও ইসলাম বিদ্বেষীদের মিথ্যাচার আর অপব্যাখ্যা থেমে নেই। আসলে তারা বুঝতে পেরেছে যে কোন চিন্তাশীল ব্যাক্তি যদি সূরা নাহলের ৬৮/৬৯ নং আয়াত মনোযোগের সাথে পড়ে তবে ১০০% নিশ্চিত হয়ে যাবেন যে, এ কিতাব মানব রচিত নয় বরং এক মহান স্বত্বার অমিয় বাণী! এজন্যই তাদের এই অপব্যাখ্যা আর মিথ্যাচারের চেষ্টা।

*সূরা নাহল ও কর্মি মৌমাছির লিঙ্গঃ-
কোরআনে মৌমাছিকে নিয়ে একটি সূরা আছে। এটি হল সূরা নাহল, নাহল শব্দটির অর্থ মৌমাছি ( ﺍﻟﻨﺤﻞ)
এই সূরার ৬৮ এবং ৬৯ নং আয়াতে বলা হয়েছে কর্মি মৌমাছির কথা।
ওখানে কর্মী মৌমাছিকে বলা হয়েছে” ﻛﻠﻰ ও ﺍﺳﻠﻜﻰ ।
শব্দদ্বয় স্ত্রী লিঙ্গের  ক্রিয়া যা স্ত্রী-মক্ষিকা কে নির্দেশ করে ।
অর্থাৎ কোরআন কর্মি মৌমাছিদেরকে বলেছে মেয়ে মৌমাছি।
উল্লেখ্য যে বাংলা বা ইংরেজি ভাষায় ক্রিয়ার (Verb) কোন লিঙ্গান্তর হয়না।মানে, ক্রিয়ার পুংলিঙ্গ/স্ত্রী লিঙ্গ হয়না।কিন্তু আরবি ভাষায় ক্রিয়ার লিঙ্গান্তর হয়। অর্থাৎ আরবি ভাষায় স্ত্রী ও পুরুষের জন্য আলাদা verb ব্যাবহৃত হয়।
আমরা ইংরেজিতে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী-লিঙ্গের জন্য একই verb ব্যবহার করি।
যেমন, He eats rice.. (পুং লিঙ্গের জন্য eat)
আবার, She eats rice (স্ত্রী লিঙ্গের জন্যও eat)
কিন্তু আরবিতে এরকম নয়।আরবিতে পুংলিঙ্গ এবং স্ত্রী লিঙ্গের জন্য আলাদা আলাদা verb ব্যবহৃত হয়।
আল্লাহ্ বলেনঃ
ﻭَﺍَﻭۡﺣٰﻰ ﺭَﺑُّﻚَ ﺍِﻟَﻰ ﺍﻟﻨَّﺤۡﻞِ ﺍَﻥِ ﺍﺗَّﺨِﺬِﻯۡ ﻣِﻦَ ﺍﻟۡﺠِﺒَﺎﻝِ ﺑُﻴُﻮۡﺗًﺎ ﻭَّﻣِﻦَ ﺍﻟﺸَّﺠَﺮِ ﻭَﻣِﻤَّﺎ ﻳَﻌۡﺮِﺷُﻮۡﻥَۙ ﴾
“আর তোমর প্রভু মধু মক্ষিকা (নারী মৌমাছি) কে বললেন, তোমাদের বাসস্থান বানাও পাহাড়ে, বৃক্ষে আর মানুষের গৃহে” (সূরা নাহল:৬৮)

প্রাচীনকালে মানুষের ধারনা ছিল মৌমাছি দুই প্রকার-নারী ও পুরুষ এবং পুরুষ মৌমাছি মধু সংগ্রহ করে।
কিন্তু এই আয়াতের বিশ্লেষণে প্রতিয়মান হয় যে, কর্মি মৌমাছি নারী এবং মৌমাছির প্রধান কোন পুরুষ নয় বরং নারী।
সুবাহানাল্লাহ!!
মৌমাছিদের আসলে কোন রাজা নেই। আছে রাণী আর কর্মী মৌমাছি হচ্ছে স্ত্রী মৌমাছি। কোরআন দেড় হাজার বছর আগে মৌমাছির লিঙ্গ শনাক্ত করে কার্য বিবরণী বলে দিয়েছে, যা কোরআনুল করিমকে ঐশী গ্রন্থ হিসেবে মেনে নিতে বাধ্য করে।
প্রশ্ন হচ্ছে আধুনিক বিশ্ব কবে থেকে জেনেছে মৌমাছির লিঙ্গ সম্পর্কে?

সর্বপ্রথম ১৯৭৩ সালে অষ্ট্রিয়ান নোবেল বিজয়ী বিজ্ঞানি Karl Von-Frischতার 'মৌমাছির জীবনচক্র' নিয়ে লেখা বই 'The dancing bees'তে
বৈজ্ঞানিক ভাবে(ফটোগ্রাফি এবং অন্যান্য পদ্ধতি অবলম্বন করে) প্রমান করে দেখিয়েছেন যে,
মৌমাছি তিন ধরনেরঃ-
১) স্ত্রী মৌমাছিঃ- এদের কাজ শুধু সন্তান উৎপাদন।আর কোন কাজেই এরা অংশগ্রহণ করেনা।
২)পুরুষ মৌমাছিঃ-এদের কাজ হচ্ছে শুধু স্ত্রী মৌমাছিদের (Queen bee) সন্তান উৎপাদনের জন্য প্রজনন প্রক্রিয়ায় সহায়তা করা।এর বাইরে এরা আর কোন কাজ করেনা।
৩) কর্মী মৌমাছিঃ- কর্মী মৌমাছি মূলত স্ত্রী মৌমাছি কিন্তু বন্ধ্যা।মানে,এরা কখনই সন্তান উৎপাদন করতে পারেনা।প্রাকৃতিক ভাবেই এরা বন্ধ্যা হয়ে থাকে।এদের অন্য নামে বলা হয়- 'কর্মী মৌমাছি'।
মৌচাক নির্মাণ,মধু সংগ্রহ সহ তাদের যাবতীয় কাজ সম্পাদন করে এই কর্মী স্ত্রী মৌমাছিরাই।
পুরুষ মৌমাছি এবং স্ত্রী (Queen bee) মৌমাছি সন্তান উৎপাদন ছাড়া মৌচাক নির্মাণ,মধু সংগ্রহ সহ অন্যকোন কাজেই অংশগ্রহণ করেনা।এসব করে কর্মী মৌমাছি বা দ্বিতীয় ক্যাটাগরির স্ত্রী মৌমাছি। (এদের Queen bee বলা হয়না, Worker Bee বলা হয়)।
অর্থাৎ তার গবেষণার ফলাফল কোরআনের দাবীকে ১০০% সত্য বলে প্রমাণ করে দেয়।
সুবাহানাল্লাহ!!
এমন সুস্পষ্ট প্রমাণের পরেও যারা মুখ ফিরিয়ে নেয় তাদের জন্যই আল্লাহ্ বলেছেন--
ﺻُﻢٌّ ﺑُﻜْﻢٌ ﻋُﻤْﻲٌ ﻓَﻬُﻢْ ﻟَﺎ ﻳَﺮْﺟِﻌُﻮﻥَ
"তারা মূক, বধির ও অন্ধ। সুতরাং তারা ফিরে আসবে না।" (২:১৮)

★Note.
            For the word “eat”: “Kuli” is for females; “Kul” is for
males. The Qur’an used “Kuli” (females).For the word “follow a
path”: “Usluki” is for females; “Usluk” is for males. The Qur’an used “Usluki” (females).For the word “their bellies”: “butuniha” is for females; “butunihim” is for males. The Qur’an used
“butuniha” (females).


★লোহার সৃষ্টি নিয়ে আল কোরআনের অলৌকিক তথ্য!

লোহা একটি মৌলিক পদার্থ যার পারমাণবিক সংখ্যা ২৬ এবং রাসায়নিক সংকেত Fe। এটি এক প্রকারের ধাতু। ধাতুগুলির মধ্যে প্রাচুর্যের দিক থেকে প্রকৃতিতে অ্যালুমিনিয়ামের পর দ্বিতীয় স্থান লোহার। তবে পৃথিবীর কেন্দ্রবিন্দুর অংশটি লোহার তৈরী বিধায় সেটাকে হিসাবে আনা হলে পৃথিবীতে লোহার পরিমাণই সবচেয়ে বেশি। তবে খাঁটি লোহা প্রকৃতিতে বিরল।
আমরা অনেকেই মনেকরি অতি পরিচিত মৌল লোহার কোন বিশেষত্ব নেই। এটি পৃথিবীতেই অন্যান্য পদার্থের মত সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু আমাদের ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। পৃথিবী তো দুরের কথা বরং সৌরজগতের কোন স্থানে লোহার একটি অণুও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়। তাই লোহা পৃথিবীর অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া কোন পদার্থ নয় বরং এটি এসেছে পৃথিবীর বাইরে থেকে।

সর্বপ্রথম ১৮৪৭ সালে বিজ্ঞানি জুল ও রামফোর্ড তাপ গতি বিদ্যার ১ম সূত্র(the 1st low ofthermodynamics) প্রদান করেন।
পরবর্তীতে এই সূত্রের উপর ভিত্তি করে অণুর গঠন সংক্রান্ত সূত্র, Enthalpy of formation বা গঠন এনথালপি প্রদান করা হয়। যার প্রাসঙ্গিক মূল কথাটি হল- কোন পদার্থকে তার গঠন উপাদান সমূহ থেকে তৈরি করতে হলে অবশ্যই একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ তাপের পরিবর্তন করতে হবে। অন্যথায় পদার্থটি উৎপন্ন হবে না। যেমন, মাত্র ১ মোল কার্বনডাইঅক্সাইড তৈরি করতে হলে ন্যূনতম ৩৯৩.৫ কিলোজুল (১কিলোজুল=১০০০জুল ) নির্গত হতে হবে। মানে কার্বনডাইঅক্সাইডের গঠন এনথালপি ৩৯৩.৫ কিলোজুল।
একইভাবে মাত্র ১ মোল পানি উৎপন্ন করতে ২৮৬.৫ কিলোজুল তাপ নির্গত হওয়া অত্যাবশ্যক। কারন পানির গঠন এনথালপি ২৮৬.৫ কিলোজুল। তাই বুঝা গেল বস্তুভেদে গঠন এনথালপি বিভিন্ন। লোহার ক্ষেত্রে এটি এতই বেশি যে পৃথিবী তো দুরের কথা খুদ সৌরজগতের কোন স্থানে লোহার একটি অণুও সৃষ্টি হওয়া সম্ভব নয়।

লোহা অণুর গঠণ প্রসঙ্গে প্রফেসর আর্মস্ট্রংক বলেন- সম্প্রতি বিজ্ঞানীরা বিভিন্ন মৌলিক পদার্থের গঠন প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে পেরেছেন। লোহার একটি অণু তৈরি করতে যে পরিমাণ শক্তি প্রয়োজন তা এতই বেশী যে সমগ্র সৌরজগতের শক্তিও এর জন্য পর্যাপ্ত নয়। তারা হিসাব করে দেখান যে লোহার একটি অণু তৈরি করতে সৌরজগতের মোট শক্তির চারগুণ শক্তি প্রয়োজন। কাজেই বিজ্ঞানীরা বর্তমানে বলছেন যে, লোহা পৃথিবীতে সৃষ্ট কোন পদার্থ নয়, লোহা এসেছে পৃথিবীর বাইরে থেকে (extra terrestrial metal)। লোহা কেবলমাত্র সূর্যের চেয়ে বড় কোন নক্ষত্রেই তৈরী হতে পারে যেখানে তাপমাত্রা কোটি ডিগ্রির কাছাকাছি। এ রকম কোন গলিত নক্ষত্রের বিস্ফোরনের মাধ্যমেই লোহার উৎপত্তি সম্ভব।
অর্থাৎ লোহা পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি এসেছে আকাশ থেকে। এটিই হচ্ছে বিজ্ঞানের সাম্প্রতিক বক্তব্য।

এবার আপনাদের এমন একটি তথ্য প্রদান করবো যা শুনে আপনাদের চোখ কপালে ওঠে যাওয়ার উপক্রম হবে। তথ্যটি হল, লোহার আগমন ও এর অভাবনীয় শক্তি সম্পর্কিত বিজ্ঞানের করা সাম্প্রতিক বক্তব্যটি আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে একটি গ্রন্থে সুস্পষ্ট ভাবে আলচনা করা হয়েছে। অবাক হচ্ছেন! অবাক না হওয়ারই বা কারন কি? যেখানে আজ থেকে মাত্র ১৬৫ বছর পূর্বে(১৮৪৭ সালে) বিজ্ঞানি জুল ও রামফোর্ড কর্তিক তাপ গতি বিদ্যার ১ম সূত্র(the 1st low of thermodynamics) প্রতিষ্ঠা লাভ করে, সেখানে আজ থেকে ১৪০০ বছর পূর্বে লোহা অণুর জটিল গঠন পক্রিয়া, অণুটির আভ্যন্তরীণ বিপুল শক্তি ভাণ্ডার, এই মৌলটি পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি, এটি এসেছে আকাশ তথা সৌর জগতের বাইরে থেকে, এইসব জটিল তথ্য গুলো প্রদান করা কি করে সম্ভব?
এর উত্তর হচ্ছে- ১৪০০ বছর পূর্বে যে গ্রন্থে এই মহাসূক্ষ্ম বিষয়গুলো সম্পর্কে তথ্য প্রধান করা হয়েছে নিঃসন্দেহে ঐ গ্রন্থটি মানব রচিত কোন স্বাভাবিক গ্রন্থ নয়। কারন মানুষ মাত্র কিছুদিন আগে এই বিষয়গুলো সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তাই এই গ্রন্থটির উৎস স্বয়ং স্রষ্টা নিজেই।

 পবিত্র কুরআনের ৫৭ নং সুরা আল হাদিদের ২৫ নং আয়াতে বলা হয়েছে- “আল্লাহ লোহা পাঠিয়েছেন যার মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি এবং রয়েছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ”।
ব্যাখ্যাঃ আয়াতটিকে তিনটি অংশে ভাগ করে ব্যাখ্যা প্রধান করা হল।
১]আল্লাহ লোহা পাঠিয়েছেন।
ব্যাখ্যাঃ এই অংশটিতে আরবি ‘‘আনঝালা’’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে যার অর্থ প্রেরণ করা বা আকাশ থেকে অবতীর্ণ করা। বিশেষত আকাশ থেকে বা পৃথিবীর বাইরে থেকে প্রেরণ করা অর্থে আরবি আনঝালা শব্দটি ব্যবহার করা হয়। তার মানে লোহা পৃথিবীতে সৃষ্টি হয়নি এসেছে পৃথিবীর বাইরে থেকে।
২] যার মধ্যে রয়েছে প্রচণ্ড শক্তি।
ব্যাখ্যাঃ এই অংশটিতে অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় লোহার আভ্যন্তরীণ বিপুল শক্তি ভাণ্ডার ও এর গঠন পক্রিয়ায় প্রয়োজনীয় অপার্থিব শক্তির ইঙ্গিত দিয়েছেন।
৩] এবং রয়েছে মানুষের জন্য বহুবিধ কল্যাণ।
ব্যাখ্যাঃ এই অংশটিতে মহান আল্লাহ জানিয়েছেন লোহা খুবই উপকারী ধাতু। যা মানুষের বহুবিধ কল্যান সাধন করতে পারে। লোহার এইসব উপকারীতার কথাই আল্লাহ প্রকাশ করেছেন।
এবার নিজেই পরখ করে দেখুন লোহা সম্পর্কে ১৪০০ বছর পূর্বে কুরআনে প্রদত্ত তথ্যগুলোর সাথে বর্তমান বিজ্ঞানের সামান্যতম অমিল খুজে পান কি না? জানি পাবেন না! কারণ কুরআন ও বিজ্ঞান যেন একই উৎস হতে নির্গত দুটি আলোক রশ্মি। যাদের ধারা ভিন্ন কিন্তু উৎসমূল এক।

 আরেকটি বিষয় লক্ষণীয় যে, আমাদের পৃথিবীর একদম মধ্যবর্তী স্থানটি অর্থাৎ পৃথিবীর কেন্দ্র লোহার তৈরি। সূরা হাদিদ (হাদিদ অর্থ লোহা) কোরআনের ঠিক মধ্যখানে অবষ্থিত। কুরআনে মোট ১১৪ টি সূরা আছে। সূরা হাদিদ কুরআনের ৫৭ নং সূরা। অর্থাৎ সূরা হাদিদের অবস্থান একেবারে মধ্যখানে।
চমক এখানেই শেষ হয়নি। আরো আছে। এবার আপনাদের সামনে লোহার জটিল রাসায়নিক গঠন ও লোহা পরমাণুর মধ্যে অবস্থিত মৌলিক কনিকার সংখ্যা সম্পর্কিত কুরআনের দেয়া নির্ভুল তথ্য সম্পর্কে আলোচনা করব।
লোহার এটমিক নাম্বার বা পারমাণবিক সংখ্যা ২৬। ‘হাদিদ’ শব্দটির সংখ্যাগত মানও হল ২৬। (হা=৮, দাল=৪, ইয়া=১০, দাল=৪), যখন আমরা বিসমিল্লাহ (শুরুর আয়াত) কে আয়াত ধরি, তখন যে আয়াতে ‘লোহাকে পাঠানো হয়েছে’ উল্লেখ করা হয়েছে তা ২৬ তম আয়াতে উপনীত হয়। যেহেতু কোন মৌলের পারমাণবিক সংখ্যা সমান ঐ পরমাণুর প্রোটন ও ইলেকট্রন সংখ্যা। তাই লোহার পারমাণবিক সংখ্যা ২৬ হওয়ায় লোহা পরমাণুর অভ্যন্তরে ২৬টি প্রোটন ও ২৬টি ইলেকট্রন আছে। আবার আমরা জানি, লোহা পরমাণুর নিঊক্লিয়াসে অবস্থিত নিউট্রন সংখ্যা ৩০।
যেহেতু সূরা হাদিদের শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে হয়,(সুরা তাওবা ছাড়া সকল সুরার শুরুতে বিসমিল্লাহ পড়তে হয়) তাই বিসমিল্লাহ সহ সুরা হাদিদের আয়াত সংখ্যা ৩০,যা লোহার নিউট্রন সংখ্যা নির্দেশ করে। যখন কুরআনই সর্বপ্রথম (পরোক্ষভাবে গাণিতিক নিয়মে) লোহার পারমাণবিক সংখ্যা, প্রোটন সংখ্যা, ইলেকট্রন সংখ্যা ও নিউট্রন সংখ্যা সম্পর্কে তথ্যপ্রধান করেছে তখন তার ভরসংখ্যা বাদ যাবে কেন?

ইতিমধ্যে আমরা কুরআনের দেয়া তথ্য হতে জানতে পেরেছি লোহার প্রোটন সংখ্যা=২৬ ও নিউট্রন সংখ্যা=৩০, এবার এবার কুরআনের দেয়া তথ্য হতে ভরসংখ্যা বের করা যাক। আমরা জানি, ভরসংখ্যা= প্রোটন সংখ্যা+নিউট্রন সংখ্যা। অতএব লোহার ভরসংখ্যা= ২৬+৩০=৫৬, আধুনিক রসায়ন বিজ্ঞানও বলছে লোহার ভরসংখ্যা=৫৫.৮৫ বা ৫৬, কি আশ্চর্যের বিষয়! আজ থেকে দেড় হাজার বছর পূর্বেই মহান স্রষ্টা স্বীয় অনুগ্রহে তার সৃষ্টিকুলকে শুধু পরমাণু সম্পর্কেই অবহিত করেননি বরং এর অভ্যন্তরে অবস্থিত অতিসূক্ষ্ম কণিকাগুলো সম্পর্কেও অবহিত করেছেন। কিন্তু মানবকুলের বড় দুর্ভাগ্য তারা কুরআন কে যথাযত মূল্যায়ন করতে ব্যর্থ হওয়ায় ১৪০০ বছর পূর্বে পরিবেশিত এই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো মাত্র কিছুদিন পূর্বে আবিস্কার করেছে।

Friday, January 19, 2018

মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাইল কি জঈফ ও ইমাম বুখারী (রহ) ।

====================================আসলে কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা তাদের থিউরী “কুরআন ও সহীহ হাদীসই দলীলযোগ্য” একথার দাবিতে অটল থেকে বুকের উপর কোন দলীল পেশ করতে সক্ষম নন। তাই এক্ষেত্রে চালাকীর আশ্রয় নিয়ে থাকেন।

বিবরণ অনুযায়ী সুফিয়ান ছাওরী রাহ., আসেম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন, ‘আমি আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর সাথে নামায পড়লাম … তিনি তাঁর ডান হাত বাম হাতের উপর বুকের উপর রাখলেন।
সনদসহ রেওয়ায়েতটির আরবী পাঠ এই-
ﺃﺧﺒﺮﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻃﺎﻫﺮ، ﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﺑﻜﺮ، ﻧﺎ ﺃﺑﻮ ﻣﻮﺳﻰ، ﻧﺎ ﻣﺆﻣﻞ، ﻧﺎ ﺳﻔﻴﺎﻥ، ﻋﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺑﻦ ﻛﻠﻴﺐ، ﻋﻦ ﺃﺑﻴﻪ، ﻋﻦ ﻭﺍﺋﻞ ﺑﻦ ﺣﺠﺮ ﻗﺎﻝ : ﺻﻠﻴﺖ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ، ﻭﻭﺿﻊ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻴﻤﻨﻰ ﻋﻠﻰ ﻳﺪﻩ ﺍﻟﻴﺴﺮﻯ ﻋﻠﻰ ﺻﺪﺭﻩ .
-সহীহ ইবনে খুযায়মা ১/২৭২, হাদীস : ৪৭৯
উক্ত হাদীসের রাবী মুআম্মাল বিন ইসমাঈল সম্পর্কে ইমাম বুখারী রহঃ বলেন-
ﻣﺆﻣﻞ ﺑﻦ ﺍﺳﻤﺎﻋﻴﻞ ﺍﻟﻌﺪﻭﻯ ﻣﻮﻟﻰ ﺁﻝ ﺍﻟﺨﻄﺎﺏ ﻭﻗﻴﻞ ﻣﻮﻟﻰ ﺑﻨﻲ ﺑﻜﺮ ﺃﺑﻮ ﻋﺒﺪﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺍﻟﺒﺼﺮﻱ ﻧﺰﻳﻞ ﻣﻜﺔ . ﺍﻟﺦ
ﻭﻗﺎﻝ ﺍﻟﺒﺨﺎﺭﻱ ﻣﻨﻜﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ
অনুবাদ-মুআম্মাল বিন ইসমাঈর আল আদাবী আলুল খিতাবের মাওলা ছিলেন, কারো মতে বনী বকরের মাওলা ছিলেন। তিনি মক্কায় আগত। ইমাম বুখারী রহঃ বলেন, তিনি ছিলেন মুনকারুল হাদীস!।
{তাহজীবুত তাহজীব, রাবী নং-৬৮১}

ইবনে কাত্তান রহঃ বর্ণনা করেন, নিশ্চয় বুখারী রহঃ বলেছেন, যে ব্যক্তির ক্ষেত্রে আমি “মুনকারুল হাদীস” বলি তার থেকে বর্ণনা করা জায়েজ নয়।
{মীযানুল ইতিদাল-১/৬}

ইমাম বুখারী রহঃ এর মতে তিনি যাকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন তার থেকে বর্ণনা করা জায়েজই নয়। আর ইমাম বুখারী রহঃ মুআম্মাল বিন ইসমাঈলকে বলেছেন মুনকারুল হাদীস। মানে ইমাম বুখারী রহঃ এর মতানুসারে মুআম্মাল বিন ইসমাঈল থেকে হাদীস বর্ণনা কারা জায়েজ নয়।
শায়খ আলবানীও সিলসিলাতুয যয়ীফার অনেক জায়গায় মুআম্মাল বিন ইসমাঈল কে জয়ীফ বলেছেন এবং তাঁর সম্পর্কে ইমামগণের মন্তব্য উদ্ধৃত করেছেন।
দেখুন : সিলসিলাতুয যয়ীফা ১/১৩১; ২/২৪৬, ৩/১৭৯; ৩/২২৭; ৪/৪৫৫ ইত্যাদি।

আলবানী সাহেব বলছেন হাদীসটির সনদ জঈফ। সেই সাথে এটি ত্রুটিপূর্ণ। মুআম্মাল বিন ইসমাঈল সাহেবের মুখস্ত শক্তি ছিল খুবই দুর্বল। এত কিছুর পরও নাকি হাদীস সহীহ!!!

বর্ণনাকারী মুনকার স্মৃতিশক্তি দুর্বল। সনদ দুর্বল। তারপরও হাদীস সহীহ? বাহ! একেই বলে বিচার মানি তালগাছ আমার। দুর্বল স্মৃতিশক্তির দুর্বল বর্ণনাকারীর

কুরআন ও সহীহ হাদীসই যদি কেবল দলীলযোগ্য হয়, কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলীল ছাড়া কোন উম্মতীর বক্তব্যের অনুসরণ যদি শিরক পর্যায়ের তাকলীদ হয়ে থাকে, তাহলে সহীহ ইবনে খুজাইমার উক্ত হাদীসটি তাদের দাবি অনুযায়ী আল্লাহ ও রাসূল সাঃ থেকে কি সহীহ সাব্যস্ত করিয়েছেন?

যদি না করে থাকেন, তাহলে আল্লাহ ও রাসূল সাঃ যে হাদীসকে সহীহ বলেননি, সে হাদীসকে কুরআন ও সহীহ হাদীসের রেফারেন্স ছাড়া কোন উম্মতীর বক্তব্য দিয়ে সহীহ বলাটা কি উক্ত মুহাদ্দিসের অন্ধ তাকলীদ নয়?

আমরা বিজ্ঞ মুজতাহিদের তাকলীদ করলে শিরক, আর তারা করলে সেটি কুরআন ও সহীহ হাদীসের উপর আমল হয় কি করে?
মুখে মুখে কুরআন ও সহীহ হাদীসের দলীল মানার স্লোগান, আর কাজেকর্মে উম্মতীর বক্তব্য কুরআন ও সহীহ হাদীস ছাড়াই অন্ধভাবে মেনে নেয়ার নাম আর যাই কিছু হোক, কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরণ নয়, বরং ধোঁকাবাজী।

বুকের উপর হাত বাঁধার কোন দলীল যখন কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা কোথাও পেলেন না নিজেদের উদ্ভাবিত থিউরী “কুরআন ও সহীহ হাদীসই দলীলযোগ্য” অনুপাতে। তখন প্রথমেতো কুরআন ও হাদীসের দলীল ছাড়াই মুহাদ্দিসীনে কেরামের তাকলীদ করে সহীহ ইবনে খুজাইমার হাদীসটিকে সহীহ বলা শুরু করলেন।
কিন্তু যখনি আমরা তাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলাম যে, যে ইমাম বুখারী রহঃ এর সকল মন্তব্যকেই চূড়ান্ত ও হক বলে বিশ্বাস করে থাকে, তিনি উক্ত বর্ণনাটির একজন রাবী মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈলকে “মুনকারুল হাদীস বলে মন্তব্য করেছেন, তখন তাদের টনক নড়ল। নতুন বুদ্ধি বের করলেন। সেটি হল, মুয়াম্মাল ইবনে ইসমাঈলকে মুয়াম্মাল বিন সাঈদ বানিয়ে দেয়া।

এ এক আজীব চালাকী...???
চলুন, দেখি ইমাম বুখারী রহঃ মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈল রহঃ কেই কি “মুনকারুল হাদীস” বলে মন্তব্য করেছেন নাকি না? সে ব্যাপারে মুহাদ্দিসীনে কেরাম তাদের স্বীয় কিতাবে কি লিখেছেন?

১ঃআল্লামা মিজ্জী রহঃ লিখেছেন- ﻭﻗَﺎﻝ ﺍﻟﺒُﺨﺎﺭِﻱُّ : ﻣﻨﻜﺮ ﺍﻟﺤﺪﻳﺚ . তথা ইমাম বুখারী রহঃ বলেছেন, তিনি [মুআম্মাল বিন ইসমাঈল রহঃ] মুনকারুল হাদীস। {তাহযীবুল কামাল ফী আসমায়ির রিজাল, বর্ণনা নং-৬৩১৯}

২ঃইমাম যাহাবী রহঃ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ বলেছেন, মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈল মুনকারুল হাদীস।
আলমুগনী ফিজ জুআফা, বর্ণনা নং-৬৫৪৭,
তারীখুল ইসলাম, বর্ণনা নং-৩৮০,
সিয়ারু আলামিন নুবালা, বর্ণনা নং-১৫৪৬,
জিকরু মান তাকাল্লামা ফীহি, বর্ণনা নং-৩৪৭,
মিযানুল ইতিদাল, বর্ণনা নং-৮৯৪৯।

৩ঃইবনে হাজার আসকালানী রহঃ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ মুআম্মাল বিন ইসমাঈলকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন। {তাহযীবুত তাহযীব, বর্ণনা নং-৬৮, লিসানুল মিযান, বর্ণনা নং-৪৯৮৭}

৪ঃআল্লামা বদরুদ্দীন আইনী রহঃ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ মুআম্মাল বিন ইসমাঈলকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন। {মাগানিয়ুল আখয়ার, বর্ণনা নং-২৪১৯}

৫ঃআহমাদ বিন আব্দুল্লাহ ইয়ামানী রহঃ বলেন, ইমাম বুখারী রহঃ মুআম্মাল বিন ইসমাঈলকে মুনকারুল হাদীস বলেছেন। {খুলাসাতুল তাহযীবু তাহযীবিল কামাল}
এতগুলো গ্রহণযোগ্য জারাহ তাদীলের ইমামগণ এতসব কিতাবে ইমাম বুখারী রহঃ এর মন্তব্যটি নকল করেছেন। ইমাম বুখারী রহঃ মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈলকে নয়, মুয়াম্মাল বিন সাঈদ সম্পর্কে এ মন্তব্য করেছেন, এমন কথা কোন পূর্ববর্তী কোন গ্রহণযোগ্য জারাহ তাদীলের ইমাম কি বলেছেন?

কেউ বলেননি, সবাই মুআম্মাল বিন ইসমাঈল সম্পর্কেই ইমাম বুখারীর মন্তব্যটির নিসবত করেছেন। মুআম্মাল বিন সাঈদের কথা কেউ বলেননি।
একথা স্পষ্টভাবেই প্রমাণ করে যে, বর্তমানের নামধারী আহলে হাদীস ভাইয়েরা নিজেদের দলীলহীন মাসআলা প্রমাণের জন্য এতসব গ্রহণযোগ্য জারাহ তাদীলের ইমামগণের অবস্থানকে ভুল সাব্যস্ত করার হীন কর্মকান্ডে নেমেছেন।

আল্লাহ তাআলা কথিত আহলে হাদীস নামধারী এসব ভ্রান্তদের চক্রান্ত থেকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের হিফাযত করুন।

একটি মজার কথা......!!!
একই ব্যক্তি যখন কথিত আহলে হাদীস ভাইদের মাসআলার খেলাফ হন, তখন তিনি জঈফ ও অগ্রণযোগ্য সাব্যস্ত হয়ে যান, আবার উক্ত ব্যক্তিই যখন নিজেদের পক্ষের কোন মাসআলার দলীল হন, তখন তিনি কি করে গ্রহণযোগ্য হয়ে যান সেটি আমাদের বোধগম্য নয়।
প্রথমে প্রশ্নে উল্লেখিত হাদীসটির সনদটির দিকে আমরা একটু দৃষ্টি বুলিয়ে নেইঃ
ﻣﺆﻣﻞ ﻋﻦ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﻋﻦ ﻋﺎﺻﻢ ﺑﻦ ﻛﻠﻴﺐ ﻋﻦ ﺍﺑﻴﻪ ﻋﻦ ﻭﺍﺋﻞ ﺑﻦ ﺣﺠﺮ
অনুবাদ-মুআম্মাল সুফিয়ান ছাওরী রাহ থেকে, তিনি আসেম ইবনে কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল ইবনে হুজর রা. থেকে বর্ণনা করেছেন।
এবার কথিত আহলে হাদীস ভাইদের কয়েকটি ধোঁকাবাজী লক্ষ্য করি।

ধোঁকাবাজী নং-১...........???
সহীহ ইবনে খুজাইমায় বর্ণিত হাদীসটির সূত্রে মুআম্মাল হাদীসটি বর্ণনা করেছেন, সুফিয়ান সওরী রহঃ থেকে, আর সুফিয়ান সওরী রহঃ আসেম বিন কুলাইব থেকে বর্ণনা করেছেন।
আর এ সূত্রটিকে কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা সহীহ সনদ বলে প্রচার করছেন।
অথচ একই ধরণের সনদ তথা সুফিয়ান সওরী রহঃ আসেম বিন কুলাইব থেকে বর্ণনা সম্বলিত রফয়ে ইয়াদাইন রুকুতে গমণ ও উঠার সময় ছেড়ে দেয়ার বর্ণনা যখন আমরা আবু দাউদ, তিরমিজী ও নাসায়ী থেকে পেশ করি। তখন তারা বলে এ সনদ দুর্বল। কারণ সুফিয়ান সওরী রহঃ নাকি মুদাল্লিস। আর তিনি “আন” শব্দ দিয়ে বর্ণনা করেছেন, তাই হাদীসটি দুর্বল।
অথচ সহীহ ইবনে খুজাইমার মাঝে সেই সুফিয়ান সওরী রহঃ যখন “আন” শব্দের মাধ্যমে আসেম বিন কুলাইব থেকে বর্ণনা করছেন তখন এ হাদীস তাদের গলার মালা হয়ে গেল। এখন কোথায় গেল “আন” বললে জঈফ হয়, বা সুফিয়ান সওরী রহঃ মুদাল্লিস সম্বলিত বক্তব্য?

ধোঁকাবাজী নং-২..........???
রুকুতে গমণ ও উঠার সময় রফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার তিরমিজী, আবু দাউদ ও নাসায়ীর হাদীসটিকে তারা পরিত্যাজ্য আরেকটি কারণে বলে থাকে, সেটি হল, উক্ত হাদীসটির সনদে আসেম বিন কুলাইবন “মুনফারিদ” তথা একাকী বর্ণনাকারী। আর আসেম বিন কুলাইব যখন মুনফারিদ হন, তখন তিনি দলীলযোগ্য হন না।
কিন্তু মজার বিষয় হল, সহীহ ইবনে খুজাইমায় বর্ণিত উক্ত সনদটিতেও আসেম বিন কুলাইব মুনফারিদ। এরকম বর্ণনা ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে আর কারো সূত্রে নেই। তাহলে তিরমিজী, নাসায়ী ও আবু দাউদের রফয়ে ইয়াদাইন ছেড়ে দেয়ার হাদীস আসেম বিন কুলাইব মুনফারিদ হওয়ার কারণে দলীলযোগ্য না থাকলে সহীহ ইবনে খুজাইমাতে মুনফারিদ হওয়া সত্বেও দলীলযোগ্য হয়ে গেলেন কিভাবে? বড়ই অবাক করা ভাইদের মানসিকতা!

ধোঁকাবাজী নং-৩.............???
সহীহ ইবনে খুজাইমায় বর্ণিত উক্ত হাদীসটির পরেই বর্ণিত হয়েছে কাছাকাছি সূত্রে-
ﻋَﺎﺻِﻢُ ﺑْﻦُ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ ﺍﻟْﺠَﺮْﻣِﻲُّ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺃَﺑِﻲ ﺃَﻥَّ ﻭَﺍﺋِﻞَ ﺑْﻦَ ﺣُﺠْﺮٍ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ ﻗَﺎﻝَ : ﻗُﻠْﺖُ : ” ﻟَﺄَﻧْﻈُﺮَﻥَّ ﺇِﻟَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ ﺍﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﻴْﻒَ ﻳُﺼَﻠِّﻲ ﻗَﺎﻝَ : ﻓَﻨَﻈَﺮْﺕُ ﺇِﻟَﻴْﻪِ، ﻗَﺎﻡَ ﻓَﻜَﺒَّﺮَ ﻭَﺭَﻓَﻊَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺣَﺘَّﻰ ﺣَﺎﺫَﺗَﺎ ﺃُﺫُﻧَﻴْﻪِ ،
আসেম বিন কুলাইব তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ বর্ণনা করেন, ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ বলেন, আমি রাসূল সাঃ দেখছিলাম তিনি কিভাবে নামায আদায় করেন, তখন আমি দেখলাম, তিনি দাঁড়ালেন, তারপর তাকবীর দিলেন, তারপর উভয় হাত উঠালেন কানের লতি পর্যন্ত।
{সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৪৮০}

আসেম বিন কুলাইব, তার পিতা, তিনি হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ এর সূত্রে প্রশ্নে বর্ণিত যে হাদীসটি উল্লেখ করা হল, সেটির নং হল, ৪৭৯, আর একই সূত্র তথা কুলাইব তার পিতা, পিতা হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূল সাঃ নামাযে কান পর্যন্ত হাত উঠাতেন।
অথচ কথিত আহলে হাদীসরা মহিলাদের মত কাঁধ পর্যন্ত হাত উঠায়। কান পর্যন্ত হাত উঠায় না। এ হাদীসটির মুখালাফাত করে থাকে। এক সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে গলার মালা বানানো, আরেক সূত্রে বর্ণিত হাদীসকে বাদ দিয়ে দেয়ার নাম কি সহীহ হাদীসের উপর আমল না মনের পূজা?
ইমাম বুখারী রহঃ মুআম্মাল বিন ইসমাঈলকে মুনকারুল হাদীস না বললেও উক্ত হাদীস কথিত আহলে হাদীসদের দলীল হতে পারে না।

 কারণ ২টি। যথা-
১ম কারণঃ
মুআম্মাল বিন ইসমাঈল মুনফারিদ
আসেম বিন কুলাইব, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি হযরত ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে। এ সূত্রের মাধ্যমে রাসূল সাঃ এর নামায সংক্রান্ত একাধিক সূত্র এসেছে।
কয়েকটি সূত্র উল্লেখ করছি-

১ঃ
ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻮَﻟِﻴﺪِ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ
আব্দুল্লাহ বিন ওয়ালীদ, তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৭১}

২ঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺷَﺮِﻳﻚٌ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ،
শারীক বর্ণনা করেন আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৬৮}

৩ঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﺮَّﺯَّﺍﻕِ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ
আব্দুর রাজ্জাক তিনি সুফিয়ান থেকে, তিনি আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং-১৮৮৫৮}

৪ঃ
ﻋَﺒْﺪُ ﺍﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﺇِﺩْﺭِﻳﺲَ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ،
আব্দুল্লাহ বিন ইদরীস আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৯১২}

৫ঃ
ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑِﺸْﺮُ ﺑْﻦُ ﺍﻟْﻤُﻔَﻀَّﻞِ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ،
বিশর বিন মুফাদ্দাল আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং-৭২৬}

৬ঃ
ﻋَﻦْ ﻣُﻮﺳَﻰ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻋَﺎﺋِﺸَﺔَ ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦ ﺃَﺑﻴﻪِ، ﻋَﻦ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮ، ﺭَﺿِﻲ ﺍﻟﻠَّﻪُ ﻋَﻨْﻪُ ،
মুসা বিন আবী আয়শা থেকে, তিনি আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{মুসনাদুল বাজ্জার, হাদীস নং-৪৪৮৯}

৭ঃ
ﻗُﺘَﻴْﺒَﺔُ، ﻗَﺎﻝَ : ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ ،
কুতাইবা আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সুনানে নাসায়ী, হাদীস নং-১২৬৩}

৮ঃ
ﺍﺑْﻦُ ﻓُﻀَﻴْﻞٍ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ
ইবনে ফুযাইল আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৪৭৮}

৯ঃ
ﺷُﻌْﺒَﺔُ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ
শুবা আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সহীহ ইবনে খুজাইমা, হাদীস নং-৪৭৮}

১০ঃ
ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻋَﻦْ ﻋَﺎﺻِﻢِ ﺑْﻦِ ﻛُﻠَﻴْﺐٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻭَﺍﺋِﻞِ ﺑْﻦِ ﺣُﺠْﺮٍ
আবু ইসহাক আসেম বিন কুলাইব থেকে, তিনি তার পিতা থেকে, তিনি ওয়াইল বিন হুজুর রাঃ থেকে…..।
{সহীহ ইবনে হিব্বান, হাদীস নং-১৭০৫}

মাত্র ১০টি সূত্র উল্লেখ করলাম। এরকম আরো অসংখ্য সূত্রে উক্ত বর্ণনাটি এসেছে। কিন্তু কোথাও বুকের উপর হাত বাঁধার কথা উল্লেখ করা হয়নি। একমাত্র মুআম্মাল বিন ইসমাঈলের সূত্রে এসেছে বুকের উপর কথাটি।
তাই তিনি বুকের উপর হাত বাঁধা বলার ক্ষেত্রে মুনফারিদ। আর সমস্ত জরাহ তাদীলের ইমামগণ একমত যে মুআম্মাল বিন ইসমাঈল প্রচুর ভুল করতেন। সুতরাং একথা সহজেই বুঝা যায় যে, উক্ত বর্ণনাটিতে বুকের উপর কথাটি তিনি হয়তো ভুলেই বলেছেন। নতুবা আর কারো সূত্রে একথা আসেনি কেন?

মুয়াম্মাল বিন ইসমাঈল রহঃ ভুল করে উক্ত বর্ণনাটি আনতে পারেন। দলীল মুহাদ্দিসীনে কেরামের বক্তব্য দ্বারা স্পষ্ট-

১- ইবনে সাদ রহঃ বলেন, তথা তিনি সিকা তবে প্রচুর ভুল করেন। {আততাবকাতুল কুবরা, বর্ণনা নং-১৬৫৬}
২- মুহাম্মদ বিন হিব্বান রহঃ বলেন, তিনি প্রায় ভুল করতেন। {আসসিকাতুল লিইবনে হিব্বান, বর্ণনা নং-১৫৯১৫}
৩- আল্লামা খতীব বাগদাদী রহঃ বলেন, তিনি প্রচুর করতেন। {তারীখে বাগদাদ-৬}
৪- ইমাম আবু হাতেম রহঃ বলেন, তিনি প্রচুর ভুল করতেন। {আলজারহু ওয়াততাদীল, বর্ণনা নং-১৭০৯}
৫- আল্লামা যাহাবী রহঃ বলেন, তিনি প্রচুর ভুল করতেন। {আলকাশশাফ, বর্ণনা নং-৫৭৪৭}
৬- ইমাম আবূ জুরআ রহঃ বলেন, তিনি প্রচুর ভুল করতেন। {আলমুগনী ফিজ জুআফা, বর্ণনা নং-৬৫৪৭}
৭- ইমাম দারা কুতনী রহঃ বলেন, তিনি প্রচুর ভুল করেন। {তাহযীবুত তাহযীব, বর্ণনা নং-৬৮}

২য় কারণঃ
হাদীসটির বর্ণনাকারীই উক্ত হাদীসের বিপরীত আমল করেন একথা সহজেই অনুমেয় যে, যিনি কোন কথা বর্ণনা করার পর উক্ত কথার বিপরীত কাজ করে থাকেন, তার কাছে তার বর্ণিত কথাটি আমলযোগ্য বা জরুরী নয় বলেই পরিস্কার বুঝা যায়।
আর সহীহ ইবনে খুজাইমার উক্ত হাদীসের সূত্রের একজন রাবী হলেন, হযরত সুফিয়ান সওরী রহঃ। আর খোদ তিনিই বুকের উপর হাত বাঁধার মতকে গ্রহণ করেননি। বরং তিনি নাভির নিচে হাত বাঁধতেন।

ইমাম নববী রহঃ শরহে মুসলিমে উল্লেখ করেছেন- ﻭﻗﺎﻝ ﺍﺑﻮ ﺣﻨﻴﻔﺔ ﻭﺳﻔﻴﺎﻥ ﻭﺍﺳﺤﺎﻕ ﺑﻦ ﺭﺍﻫﻮﻳﺔ ﻭﺍﺑﻮ ﺍﺳﺤﺎﻕ ﺍﻟﻤﺮﻭﺍﺯﻯ ﻣﻦ ﺍﺻﺤﺎﺑﻨﺎ ﻳﺠﻌﻠﻬﻤﺎ ﺗﺤﺖ ﺳﺮﺗﻪ তথা ইমাম আবু হানীফা রহঃ, সুফিয়ান সওরী রহঃ, ইসহাক বিন রাহুয়া রহঃ এবং আমাদের আসহাবদের মাঝে আবু ইসহাম মারওয়াজী রহঃ বলেন যে, উভয় হাতকে নাভির নিচে বাঁধতে হবে। {শরহে মুসলিম লিননববী-১/৭৩}
আর বর্ণনাকারী খোদ নিজেই যখন স্বীয় বর্ণনার খেলাফ আমল করেন, তখন উক্ত বর্ণনা আমলহীন তা স্পষ্টতই বুঝে আসে।

সুতরাং একথা পরিস্কার হয়ে গেল যে, আসলে বুকের উপর হাত বাঁধার কোন দলীলই নেই। যা কিছু কথিত আহলে হাদীস ভাইয়েরা প্রচার করে বেড়ান, তা সবই তাদের নিজেদের তৈরীকৃত থিউরী অনুপাতেই ধোঁকাবাজী সাব্যস্ত হয়।যারা আমার পোষ্টের উপর কলম ধরতে চান তারা কলম ধরার আগে শায়খ আলবানী(রঃ)এর কিতাবের দিকে চোখ রাখুন!তার উপর ফতোয়া দিন!কেন তিনি রাবী ইসমাঈলকে জঈফ বলেছেন???

আল্লাহ তাআলা আমাদের কথিত আহলে হাদীসদের ফিতনা থেকে সরলপ্রাণ মুসলমানদের হিফাযাত করুন। আমীন।

Monday, September 18, 2017

ফরজ নামাজের পরে হাত তুলে মুনাজাত করা প্রসঙ্গে।

ফরজ নামাযের পর মুনাজাতের বিষয় বুঝতে হলে আমাদেরকে দুটি পয়েন্ট ভাল করে বুঝতে হবে। যথা-

১.ফরজ নামাযের পর একাকি হাত তুলে  মুনাজাত জায়েয কি না?

২ .ফরজ নামাযের পর সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত জায়েয কি না?

এখন ১নং মাসআলা তথা ফরজ নামাযের পর একাকি হাত তুলে  মুনাজাত ইসলামী শরীয়তে সম্পুর্ণরুপেই  জায়েয যা নবীজির একাধিক হাদিস দ্বারা প্রমানিত।নিম্ণে এ সম্পর্কে কিছু হাদিস পেশ করা হল-
★তিরমিজি শরিপ ৩৭৫ নং হাদিস এসেছে-عن الفضل بن عباس (رض) قال قال رسول الله (صلي) الصلاۃ مثني مثني تشهد في كل ركعتين وتخشع و تمسكن ثم تقنع يديك يقول ترفعهما الي ربك مستقبلا ببطونهما وجهك و تقول يا رب يا رب و من لم يفعل ذلك فهو كذا و في روايۃ فهو خداج
অর্থ-হযরত ফজল ইবনে আব্বাস (রাঃ)থেকে বর্ণিত,রাসুল (সাঃ)ইরশাদ করেন,নামাজের নিম্ন পরিমান দুরাকাত দুরাকাত (যেমন ফজরের নামাজ)। প্রতি দুরাকাতে তাশাহুদ পাঠ করা, খুশু খুজু,বিনয় ও নম্রতা অবলম্বন করতে হয়।অতঃপর তোমার প্রভুর দরবারে হাত দুখানা মুখমণ্ডল বরাবর উঠায়ে, ইয়া রব!ইয়া রব!বলে দোয়া করবে ।যে ব্যক্তি এরুপ নামাজ বাদ হাত উত্তোলোন করে দোয়া করেন না তার নামাজ অসম্পূর্ণ। এ হাদিস থেকে বুঝা যায় যে,নামাজ পড়ে হাত তোলা দোয়া করা রাসুলের নির্দেশ। ★মাজমাউয যাওয়ায়েদ ওয়া মানবাউল ফাওয়ায়েদ নামক কিতাবের ১৭৩৪৫ নং হাদিসে এসেছে-
عن بن الزبير انه راي رجلا رافعا يديه يدعوا قبل ان يفرغ من صلاته فلما فرغ منها قال ان رسول الله (صلي)لم يكن يرفع يديه حتي يفرغ من صلاتهঅর্থাৎ-হযরত ইবনে যুবাইর (রাঃ)থেকে বর্ণিত,তিনি এক ব্যক্তিকে তার নামাজ শেষ করার আগেই হাত তুলে দোয়া করতে দেখলেন।অতঃপর এ লোকটি যখন নামাজ শেষ করলেন তিনি তাকে বললেন,নিশ্চয় রাসুল (সাঃ) নামাজ শেষ হওয়ার আগে হাত তুলে দোয়া করতেন না। অর্থাৎ তিনি নামাজ শেষ করেই হাত তুলে দোয়া করতেন। এ হাদিস দ্বারাও বুঝা যাচ্ছে যে,রাসুলের অভ্যাস ছিল নামােজর শেষে হাত তুলে দোয়া করা ।
★তাফসিরে ইবনে কাসির সুরা নিসার ১০০ নং আয়াতের তাফসিরে একখানা হাদিস এসেছে -عن ابي هريرۃ (رض)ان رسول الله (صلي)رفع يده بعد ما سلم و هو مستقبل القبلۃ فقال اللهم خلص الوليد بن الوليد و عياش بن ابي ربيعۃ و سلمۃ بن هشام و ضعفۃ المسلمين الذين لا يستطيعون حيلۃ ولا يهتدون سبيلا من ايدي الكفار
 অর্থ-হযরত আবু হুরায়রাহ (রাঃ)থেকে বর্ণিত,নিশ্চয় রাসুল (সাঃ)নামাজের সালাম ফিরনোর পর কিবলার দিকে ফিরিয়ে দুহাত তুলে দোয়া করতেন,হে আল্লাহ আপনি ইবনে অলিদ,ইবনে আবি রবিয়া,ইবনে হিশাম ও এমন সব দূবল মুসলিমদের কাফিরদের হাত থেকে রক্ষা করুন যাদের কাছে নেই কোন কৌশল এবং নেই কোন বিকল্প রাস্তা। এ হাদিস দ্বারাও বুঝা যাচ্ছে রাসুল (সাঃ) নামাজ পড়ে দুহাত তুলে দোয়া করতেন।
★আল্লামা ইবনুস সানি লিখিত ,আমালুল ইয়াওমি ওয়াল লাইলাহ নামক কিতাবের ১২১পৃষ্ঠায় একখানা হাদিস এসেছে-
عن انس (رض) عن النبي (صلي)انه قال ما من عبد بسط كفيه في دبر كل صلاۃ ثم يقول اللهم الهي و اله ابراهيم و اسحاق و يعقوب و اله جبراءيل و ميكاءيل و اسرافيل اسءلك ان تستجيب دعوتي فاني مضطر و تعصمني في ديني فاني مبتلي و تنا لني برحمتك فاني مذنب و تنفي عن الفقر فاني متمسكن الا كان علي الله ان لا يرد يديه خاءبينঅর্থাৎ-হযরত আনাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি হযরত রাসুল (সাঃ)থেকে বর্ণনা করেন,রাসুল (সাঃ)বলেন,যখন কোন বান্দা প্রত্যেক নামাজের পর দুহাত তুলে আল্লাহর দরবারে এ দোয়া করে যে,اللهم الهي و اله ابراهيم............................و تنفي عنرالفقر فاني متمسكن)তখন আল্লাহর উপরে কর্তব্য হয়ে যায় যে তার দুহাতকে নিরাশ অবস্হায় ফিরিয়ে না দেয়া। উপরের হাদিসখানাতেও নামাজের পর হাত তুলে দোয়া করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে।

★ইমাম বুখারি (রঃ) এর লিখিত, আত-তারিখুল কাবির কিতাবের ৬/৮০ পৃষ্ঠায় হাদিস এসেছে-
عن المغيرۃ (رض)كان النبي (صلي) يدعوا في دبر صلاته
অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) সবসময় তার নামাজ শেষ করে দোয়া করতেন। এ হাদিসখানাতে বুঝানো হয়েছে যে,রাসুল (সাঃ) সবসময় নামাজের শেষে দোয়া করতেন।আবার অন্য আরেকখানা হাদিসে রাসুল (সাঃ) এর দোয়ার পদ্ধতি বলা হয়েছে যে,রাসুল (সাঃ) যখনই কোন দোয়া করতেন তখনই হাত উঠাতেন।
যেমন: আবু দাউদ শরিপ ১৪৯২ নং হাদিসে এসেছে
عن الساءب بن يزيد (رض)عن ابيه ان النبي (صلي)كان اذا دعا رفع يديه مسح وجهه بيديه
অর্থাৎ রাসুল (সাঃ) যখনই দোয়া করতেন তখনই হাত উঠিয়ে দোয়া করতেন এবং দুহাত দ্বারা তার মুখমণ্ডলকে মাসেহ করতেন।

উপরের দুই হাদিসের প্রথম হাদিস দ্বারা বুঝা যাচ্ছে রাসুল (সাঃ)প্রত্যেক নামাজের শেষে দোয়া করতেন আর দ্বিতীয় হাদিস দ্বারা বুঝা যায় রাসুল অধিকাংশ দোয়াতেই হাত উঠাতেন।সুতরাং দুহাদিসকে মিলিয়ে আমরা বুঝতে পারি যে রাসুল (সাঃ)প্রত্যেক নামাজের পরেই হাত তুলে দোয়া করতেন।

★পূর্বের আলোচনা দ্বারা পরিস্কার হয়ে গেল যে, রাসূল সাঃ ফরজ নামায শেষে হাত তুলে দুআ করতেন। এখন প্রশ্ন হল, রাসূল সাঃ ও সাহাবায়ে কেরাম রাঃ থেকে সম্মিলিতভাবে দুআ করা প্রমাণিত কি না?
নিচে কয়েকটি হাদীস দেয়া হল। যা পরিস্কারভাবে সম্মিলিত দুআ করা ও সম্মিলিত দুআর প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে।

১.আলবিদায়া ওয়াননিহায়া গ্রন্থে আল্লামা ইবনে কাসীর রহঃ সনদসহ একখানা হাদিস বর্ণনা করেছেন।যার সারমর্ম হল,
আলা বিন হাযরামী রাঃ। মুস্তাজাবুদ দাওয়া সাহাবী ছিলেন। একদা বাহরাইনের জিহাদ থেকে ফেরার পথে এক স্থানে যাত্রাবিরতি করলে খাবার দাবার ও তাবুর রসদসহ উটগুলো পালিয়ে যায়। তখন গভীর রাত। সবাই পেরেশান। ফজরের সময় হয়ে গেলে আজান হল। সবাই নামায আদায় করলেন। নামায শেষে আলা বিন হাযরামী রাঃ সহ সবাই হাত তুলে সূর্য উদিত হওয়ার সূর্যের কিরণ গায়ে লাগা পর্যন্ত দীর্ঘ সময় দুআ করতে থাকেন। {আলবিদায়া ওয়াননিহায়া-৬/৩২৮-৩২৯}
এ হাদিস দ্বারা স্পষ্ট বুঝা যায় সাহাবিরা ফজরের নামাজ পড়ে সম্মিলিতভাবে দোয়া করেছেন।আর সাহাবিদের কাজ কখনও বেদআত হতে পারে না

২.আলমুজামুল কাবীর নামক হাদিসের কিতাবে এসেছে-
عَنْ حَبِيبِ بْنِ مَسْلَمَةَ الْفِهْرِيِّ – وَكَانَ مُسْتَجَابًا -: أَنَّ
ُ أُمِّرَ عَلَى جَيْشٍ فَدَرِبَ الدُّرُوبِ، فَلَمَّا لَقِيَ الْعَدُوَّ قَالَ لِلنَّاسِ: سَمِعْتُ رَسُولَ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – يَقُولُ: ” «لَا يَجْتَمِعُ مَلَأٌ فَيَدْعُو بَعْضُهُمْ وَيُؤَمِّنُ سَائِرُهُمْ، إِلَّا أَجَابَهُمُ اللَّهُ» “.
ثُمَّ إِنَّهُ حَمِدَ اللَّهَ، وَأَثْنَى عَلَيْهِ، وَقَالَ: اللَّهُمَّ احْقِنْ دِمَاءَنَا، وَاجْعَلْ أُجُورَنَا أُجُورَ الشُّهَدَاءِ
অর্থাৎ-হযরত হাবীব বিন মাসলামা আলফিহরী রাঃ। যিনি মুস্তাজাবুদ দাওয়া ছিলেন। তাকে একবার একটি বাহিনী প্রধান নিযুক্ত করা হয়। যুদ্ধের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের পর তিনি যখন শত্রুর সম্মুখিন হলেন। তখন লোকদের বললেন, আমি রাসূল সাঃ কে বলতে শুনেছি। তিনি বলেছেন “যখনি কোন দল একত্র হয়, তারপর তাদের কথক দুআ করে, আর অপরদল আমীন বলে তখন আল্লাহ তাআলা তা কবুল করে নেন”।
এ হাদীস বলার তিনি [হাবীব বিন মাসলামা রাঃ] হামদ ও সানা পড়লেন। তারপর বললেন, হে আল্লাহ! তুমি আমাদের প্রাণ রক্ষা কর। আর আমাদের শহীদের সওয়াব দান কর।(হাদীস নং-৩৫৩৬)
এ হাদিসেও সম্মিলিত মুনাজাতের প্রতি রাসুল (সাঃ)আমাদের উৎসাহিত করেছেন।

৩. সহীহ বুখারীতে এসেছে,হযরত আনাস (রাঃ)বর্ণিত,
قَالَ: أَتَى رَجُلٌ أَعْرَابِيٌّ مِنْ أَهْلِ البَدْوِ إِلَى رَسُولِ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ الجُمُعَةِ، فَقَالَ: يَا رَسُولَ اللَّهِ، هَلَكَتِ المَاشِيَةُ، هَلَكَ العِيَالُ هَلَكَ النَّاسُ، «فَرَفَعَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَدَيْهِ، يَدْعُو، وَرَفَعَ النَّاسُ أَيْدِيَهُمْ مَعَهُ يَدْع
অর্থাৎ- একদা একজন গ্রাম্য সাহাবী রাসূল সাঃ এর কাছে আসলেন জুমআর দিন। এসে বললেন, ইয়া রাসূলাল্লাহ! জিনিস পত্র, পরিবার, মানুষ সবই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। একথা শুনে রাসূল সাঃ তার উভয় হাত উত্তলোন করলেন দুআর উদ্দেশ্যে। উপস্থিত সবাই রাসূল সাঃ এর সাথে দুআর জন্য হাত উত্তোলন করলেন। (হাদীস নং-১০২৯)

এ হাদীসে পরিস্কারভাবে রাসূল সাঃ থেকে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত প্রমানিত। লক্ষ্য করুন, রাসূল সাঃ দুআ করেছেন, আর উপস্থিত সাহাবীগণ আমীন আমীন বলে সম্মিলিত মুনাজাতে অংশ নিয়েছেন।

৪. হযরত সালমান রাঃ থেকে বর্ণিত। রাসূল সাঃ ইরশাদ করেছেন,
: «مَا رَفَعَ قَوْمٌ أَكُفَّهُمْ إِلَى اللهِ عَزَّ وَجَلَّ يَسْأَلُونَهُ شَيْئًا، إِلَّا كَانَ حَقًّا عَلَى اللهِ أَنْ يَضَعَ فِي أَيْدِيهِمُ الَّذِي سَأَلُوا
অর্থাৎ-  যখন কোন জামাআত তাদের প্রয়োজন পূর্ণ করার আশায় আল্লাহর দরবারে হাত উঠায়, তখন আল্লাহর উপর হক হল প্রার্থিত বিষয় উক্ত জামাতকে প্রদান করা।
 {আলমুজামুল কাবীর লিততাবরানী, হাদীস নং-৬১৪২, আততারগীব ওয়াত তারহীব, হাদীস নং-১৪৪, মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১, কানযুল উম্মাল, হাদীস নং-৩১৪৫}
আল্লামা হায়ছামী রহঃ বলেন, এ হাদীসের সনদের সকল রাবীগণ সহীহের রাবী।{ মাযমাউয যাওয়ায়েদ, হাদীস নং-১৭৩৪১}

এরকম আরো অসংখ্য বর্ণনা প্রমাণ করে সম্মলিত মুনাজাত এটি দুআ কবুলের আলামত। সেই সাথে উত্তম আমল। যা কিছুতেই বিদআত হতে পারে না। যে সম্মলিত মুনাজাত রাসূল সাঃ নিজে করেছেন সাহাবীদের নিয়ে, সাহাবায়ে কেরাম সাথিবর্গকে নিয়ে যে সম্মলিত মুনাজাত করেছেন, তা কী করে বিদআত হতে পারে?

সুতরাং বুঝা গেল যে, সম্মিলিত মুনাজাত করাও রাসূল সাঃ এবং সাহাবায়ে কেরাম রাঃ থেকে প্রমাণিত। সেই সাথে সম্মিলিতভাবে মুনাজাত করতে রাসূল সাঃ পরিস্কার ভাষায় উৎসাহ প্রদান করেছেন।

এখন যদি কোন ভাই বলে যে,শেষের তিনটি  হাদিসেতো নামাজের পরের কথা উল্লেখ নেই।তাদেরকে বলব,এ হাদিসগুলোর হুকুম হল-আম বা ব্যাপক যা সর্বাবস্থায় প্রযোজ্য। আর এ ব্যাপক হুকুম থেকে যদি আপনি নামাজের পরের হুকুমকে বাদ দিতে চান তাহলে আপনাকে আলাদএমন কোন দলিল দেখাতে হবে যেখানে বলা হয়েছে সম্মিলিত মুনাজাত জায়েয তবে নামাজের পরে জায়েয নেই।আর এ রকম কোন নিষেধাজ্ঞার হাদিস কেহ দেখাতে পারবেন না।
তবে এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় লক্ষ্যণীয়। যথা-
১.ফরজ নামাযের পর দুআকে জরুরী মনে করা।

২.দুআকে নামাযের অংশ মনে করা।

৩.এ ছাড়া নামায পূর্ণ হয় না আকিদা রাখা।

 এ তিনটির কোন একটি পাওয়া গেলে উক্ত দুআ বিদআত হবে। কারণ এর কোন প্রমাণ নেই।

কিন্তু যদি উপরোক্ত কোন কারণ পাওয়া না যায়। বরং যেহেতু রাসূল সাঃ ফরজ নামাযের পর দুআ করেছেন, সেই সাথে সম্মিলিতভাবে দুআ করতে উৎসাহ প্রদান করেছেন, সেই সওয়াব পাবার আশায় যদি ইমাম সাহেব সম্মিলিতভাবে দুআ করেন, তাহলে উক্ত সম্মিলিত দুআকে বিদআত বলার কোন সুযোগ নেই। যদি কেউ বলে তাহলে সে হাদীসে নববী সম্পর্কে অজ্ঞ ছাড়া আর কিছু নয়।
والله اعلم بالصواب

Wednesday, August 2, 2017

পাটিগণিতের শর্টকাটের বিভিন্ন সুত্র।

গণিত শর্ট টেকনিক-
=========================
★পাইপ_এবং_চৌবাচ্চাঃ
নিয়ম-০১:
সম্পূর্ণ খালি একটি চৌবাচ্চা একটি নল দিয়ে ২০ মিনিটে সম্পূর্ণ ভর্তি করা যায়।২য় একটি নল দিয়ে ৩০ মিনিটে সম্পূর্ণ ভর্তি করা যায়। নল দুটি একই সাথে খুলে দিলে কত সময়ে চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হবে?
#1_Technique::: চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হতে সময় লাগবে
= XY / (X+Y)
= (20x30) / (20+30)
= 600/50
=12 min.
নিয়ম-০২:
একটি চৌবাচ্চার প্রথম নল দিয়ে পূর্ণ হতে সময় লাগে ২০ মিনিট। দ্বিতীয় নল দিয়ে খালি হতে ৩০ মিনিট সময় লাগে। নল দুইটি একই সাথে খুলে দিলে কত সময়ে চৌবাচ্চাটি খালি হবে?
#2_technique::: চৌবাচ্চাটি খালি হতে সময় লাগবে
= X(-Y)/(X-Y)
= (20x-30)/(20-30)
= -600/-10
= 60 min.
নিয়ম-০৩:
একটি চৌবাচ্চা তিনটি নল দিয়ে যথাক্রমে ১০, ১২ এবং ১৫ মিনিটে পূর্ণ হতে পারে।
তিনটি নল একই সাথে খুলে দিলে চৌবাচ্চাটি কত সময়ে পূর্ণ হবে?
#3_technique:::: চৌবাচ্চাটি পূর্ণ হতে সময় লাগবে
= XYZ/(XY+YZ+ZX)
= [(10X12x15)] / [(10X12)+(12X15)+(15X10)]
= 1800/450
= 4 min.

★নৌকা_স্রোতঃ
নিয়ম-১: নৌকার গতি স্রোতের অনুকূলে ঘন্টায় ১০ কি.মি. এবং স্রোতের প্রতিকূলে ২ কি.মি.।
স্রোতের বেগ কত?
#4_technique:::স্রোতের বেগ = (স্রোতের অনুকূলে নৌকার বেগ – স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার বেগ) /২
= (১০ – ২)/২
= ৪ কি.মি.
নিয়ম-২: একটি নৌকা স্রোতের অনুকূলে ঘন্টায় ৮ কি.মি. এবং স্রোতের প্রতিকূলে ঘন্টায় ৪ কি.মি. যায়। নৌকার বেগ কত?
#5_technique::::নৌকার বেগ = (স্রোতের অনুকূলে নৌকার বেগ+স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার বেগ)/২
= (৮ + ৪)/২
= ৬ কি.মি.
নিয়ম-৩: নৌকা 3 স্রোতের বেগ ঘন্টায় যথাক্রমে ১০ কি.মি. 3 ৫ কি.মি.। নদীপথে ৪৫ কি.মি. পথ একবার যেয়ে ফিরে আসতে কত সময় লাগবে?
উত্তর: স্রোতের অনুকূলে নৌকারবেগ = (১০+৫) = ১৫ কি.মি.
স্রোতের প্রতিকূলে নৌকার বেগ = (১০-৫) = ৫ কি.মি.
#6_technique::: মোট সময় = [(মোট দূরত্ব/ অনুকূলে বেগ) + (মোট দূরত্ব/প্রতিকূলে বেগ)]
= [(৪৫/১৫) + (৪৫/৫)]
= ৩ + ৯
= ১২ ঘন্টা
নিয়ম-৪: একজন মাঝি স্রোতের অনুকূলে ২ ঘন্টায় ৫ কি.মি. যায় এবং ৪ ঘন্টায় প্রথম
অবস্থানে ফিরে আসে। তার মোট ভ্রমণে প্রতি ঘন্টায় গড় বেগ কত?
উত্তর:
#7_technique:::গড় গতিবেগ = (মোট দূরত্ব/মোট সময়)
= (৫+৫)/(২+৪)
= ৫/৩ মাইল
নিয়ম-৫: এক ব্যক্তি স্রোতের অনুকূলে নৌকা বেয়ে ঘন্টায় ১০ কি.মি. বেগে চলে কোন স্থানে গেলএবং ঘন্টায় ৬ কি.মি. বেগে স্রোতের প্রতিকূলে চলে যাত্রারম্ভের স্থানে ফিরে এল।
যাতায়াতে তার গড় গতিবেগ কত?
#8_technique:::গড় গতিবেগ
= 2mn/(m+n)
= (২ x ১০ x ৬)/(১০+৬)
= ১৫/২ কি.মি

★কাজ এবং শ্রমিকঃ
নিয়ম-১: ৩ জন পুরুষ বা ৪ জন মহিলা একটি কাজ ২৩ দিনে করতে পারে। কত দিনে ঐ কাজটি শেষ করতে ২ জন পুরুষ এবং ৫ জন মহিলার প্রয়োজন হবে?
#9_technique::::T = (M1 x W1 x T1)/(M1W2 + M2W1)
= (৩x৪x২৩)/(৩x৫ + ৪x২)
= ১২ দিন
নিয়ম-২: যদি রিয়াদ একটি কাজ ১০ দিনে করে এবং রেজা ঐ কাজ ১৫ দিনে করে তবে রিয়াদ
এবং রেজা একসাথে কাজটি কত দিনে করতে পারবে?
#10_yechnique:::: G = FS/(F+S)
= (১০ x ১৫)/ (১০+১৫)
= ৬ দিনে
নিয়ম-৩: যদি ক একটি কাজ ১০ দিনে করে এবং ক 3 খ একসাথে কাজটি ৬ দিনে করে তবে
খ কাজটি কতদিনে করতে পারবে?
#11_technique::::G = FS/(F-S)
= (১০ x ৬)/ (১০-৬)
= ১৫ দিনে
নিয়ম-৪: ক, খ এবং গ একটি কাজ যথাক্রমে ১২, ১৫ এবং ২০ দিনে করতে পারে।
তারা একত্রে কাজটি কতদিনে করতে পারবে?
#12_technique:::::::T = abc/ (ab + bc + ca)
= (১২ x ১৫ x ২০)/ (১২x১৫ +
১৫x২০ +২০x১২)
= ৫ দিনে
নিয়ম-৫: ৯ জন লোক যদি একটি কাজ ৩ দিনে করে তবে কতজন লোক কাজটি ৯ দিনে করবে?
#Special_technique:::: M1D1 = M2D2
বা, ৯ x ৩ =M2 x ৯
সুতরাং, M2 = ৩ দিনে

★প্রশ্নধরণ::: বর্গের অন্তর বা পার্থক্য দেওয়া থাকলে, বড় সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
.টেকনিকঃবড় সংখ্যা=(বর্গের অন্তর+1)÷2
.উদা:
দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর যদি 47 হয় তবে বড় সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃ বড় সংখ্যা=(47+1)/2=24
====================
.
প্রশ্নের ধরণ: দুইটি বর্গের অন্তর বা পার্থক্য দেওয়া থাকলে, ছোট সংখ্যাটি নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-
টেকনিকঃছোট সংখ্যাটি=(বর্গের অন্তর -1)÷2
উদা:
*** প্রশ্নঃ দুইটি ক্রমিক সংখ্যার বর্গের অন্তর 33। ক্ষুদ্রতম সংখ্যাটি কত হবে?
** সমাধানঃ ছোট সংখ্যাটি =(33-1)÷2=16(উঃ)
====================
.
প্রশ্নে যত বড....তত ছোট/ তত ছোট....যত বড উল্লেখ থাকলে সংখ্যা নির্নয়ের ক্ষেত্রে
টেকনিকঃসংখ্যাটি =(প্রদত্ত সংখ্যা দুটির যোগফল)÷2
.উদা:
প্রশ্নঃএকটি সংখ্যা 742 থেকে যত বড় 830 থেকে তত ছোট। সংখ্যাটি কত?
সমাধানঃ সংখ্যাটি=(742+8 30)÷2=786 উঃ

★❑ অধ্যায় ভাজক সংখ্যা
❑ শর্ট-টেকনিকে ভাজক সংখ্যা নির্ণয়ঃ
……………………………………......
#______প্রশ্নঃ পরিক্ষায় আসতে পারে 72 এর ভাজক সংখ্যা কতটি?
উত্তরঃ ১২টি

_______(প্রশ্নটি ২৫ তম বিসিএস সহ পিএসসির বিভিন্ন আরো ৯টি পরিক্ষায় আসছে)
.
#টেকনিকঃ
৭২ কে লসাগু করলে-
৭২÷২=৩৬
৩৬÷২=১৮
১৮÷২=৯
৯÷৩=৩
সুতরাং-(২×২×২) × (৩×৩)
.
____উপরে, লক্ষ করুন-
২হলো ৩বার এবং ৩ হলো ২বার
সুতরাং
৭২=২³ × ৩²
=(৩+১) × (২+১)=১২টি
____অর্থাৎ যত পাওয়ার [২³ এখানে পাওয়ার (³) ] আপনি শুধু তার সাথে ১ যোগ করে প্রাপ্ত পাওয়ার গুলো গুন করে দিলেই, উত্তর পেয়ে যাবেন।
.
#ব্যাখ্যাঃ ৭২ সংখ্যাটির ভাজক গুলো হলো-
১, ২, ৩, ৪, ৬, ৮, ৯, ১২, ১৮, ২৪, ৩৬, ৭২।

--------------------------

★গণিতের শর্টকার্ট গসাগুওলসাগু-
★দুটি সংখ্যার অনুপাত ৫ : ৭ এবং তাদের গ,সা,গু ৬ হলে সংখ্যা দুটির ল,সা,গু কত?
যেহেতু, সংখ্যাদ্বয়ের অনুপাত ৫:৭ এবং গ, সা,গু ৬
ল,সা,গু= অনুপাতদ্বয়ের গুনফল×গ,সা,গু=৫×৭×৬=২১০
সহজ নিয়ম, ল সা গু = অনুপাতদ্বয়ের গুনফল×গ, সা, গু

★দুই সংখ্যার অনুপাত ৫:৬ এবং তাদের ল.সা.গু ১২০ হলে সংখ্যা দুইটির গ.সা.গু কত?

ল,সা,গু= অনুপাতদ্বয়ের গুনফল×গ,সা,গু
গ,সা,গু=ল,সা,গু/অনুপাতদ্বয়ের গুনফল
=১২০/৩০
=৪

★ল সা গু = গুণফল /গ সা গু
গ সা গু = গুণফল /ল সাগু

★ দুটি সংখ্যার গ.সা.গু ১৫ এবং ল.সা.গু ৯০। একটি সংখ্যা ৩০ হলে অপর সংখ্যাটি কত....??
অপর সংখ্যাটি= ল সা গু *গ সা গু /30

★দুইটি সংখ্যার অনুপাত ৫:৬ এবং তাদের ল.সা.গু ৩৬০ হলে সংখ্যা দুটি কত?
Answer: 60
Explanation:
অনুপাত = ৫ঃ৬ ও লসাগু= ৩৬০ হলে , প্রথম সংখ্যা= (লসাগু/প্রথম অনুপাত)=(৩৬০/৫)=৭২ দ্বিতীয় সংখ্যা= (লসাগু/দ্বিতীয় অনুপাত)=(৩৬০/৬)=৬০

★টেকনিক-১:উভয় বিষয়ে ফেলের হার উল্লেখ থাকলে উভয় বিষয়ে পাশের হার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-শর্ট‬ টেকনিকঃ
পাশের হার=১০০-( ১ম বিষয়ে ফেলের হার + ২য় বিষয়ে ফেলের হার- উভয় বিষয়ে ফেলের হার )

‪উদাহরন-১
কোন‬ পরিক্ষায় ২০% পরিক্ষার্থী গনিতে ৩০% পরিক্ষার্থী ইংরেজীতে ফেল করলো উভয় বিষয়ে ১৩ % পরিক্ষার্থী ফেল করলে শতকরা কত জন পরিক্ষার্থী পাশ করলো? (প্রাথমিক সঃশি নিয়োগ (ইছামতি)পরীক্ষা-২০১০)
উত্তরঃপাশের‬ হার(?)=১০০-[১ম বিষয়ে ফেলের হার(২০)+২য় বিষয়ে ফেলের হার(৩০)- উভয় বিষয়ে ফেলের হার(১৩)] =১০০-(২০+৩০-১৩)
=৬৩%(উঃ)

★টেকনিক ২:উভয় বিষয়ে পাশের হার উল্লেখ থাকলে উভয় বিষয়ে ফেলের হার নির্ণয়ের ক্ষেত্রে-‪#‎শর্ট_টেকনিকঃ
ফেলের‬হার=১০০-( ১ম বিষয়ে পাশের হার + ২য় বিষয়ে পাশের হার- উভয় বিষয়ে পাশের হার )
(১ম টির উল্টো নিয়ম)

উদাহরন-১
কোন পরিক্ষায় ৮০% পরিক্ষার্থী গনিতে ৭০% পরিক্ষার্থী বাংলায় পাশ করলো। উভয় বিষয়ে পাশ করলো ৬০% পরিক্ষার্থী।উভয় বিষয়ে শতকরা কত জন ফেল করলো? (২২তম বিসিএস, উপজেলা শিক্ষা অফিসার-২০০৬,অর্থমন্ত্রনালয় ২০১১, ৬ষ্ঠ সহকারী জর্জ নিঃ ২০১১)
উত্তরঃ ফেলের হার(?)=১০০-[১ম বিষয়ে পাশের হার(৮০)+২য় বিষয়ে পাশের হার(৭০)- উভয় বিষয়ে পাশের হার(৬০)]

উদাহরন -২‬
কোন পরিক্ষায় ২০০জনের মধ্যে ৭০% ছাত্র বিজ্ঞানে এবং ৬০% ছাত্র অংকে পাশ করে করে। এবং ৪০% উভয় বিষয়ে পাশ করে। তবে উভয় বিষয়ে শতকরা কত জন ফেল করলো? (সঞ্চয় অধিদপ্ত্রর,সঃ পরিচালক, পরীক্ষা-২০০৬)
উত্তরঃ
=১০০-(৭০+৬০-৪০)
=১০%
সুতরাং উভয় বিষয়ে ফেল=২০০ এর ১০%=২০%(উঃ)

★টেকনিক ৩: উভয় বিষয়ে ফেল এবং পাশের উল্লেখ থাকলে মোট পরিক্ষার্থীর সংখ্যা নির্ণ্যয়ের ক্ষেত্রে-শর্ট টেকনিকঃ
মোট পরিক্ষার্থী=
উভয় বিষয়ে পাসকৃত ছাত্র ÷ (১ম বিষয়ে ফেল+২য় বিষয়ে ফেল+উভয় বিষয়ে ফেল) x ১০০

উদাহরন
কোন‬ স্কুলে ৭০% পরিক্ষার্থী ইংরেজীতে ৮০% পরিক্ষার্থী বাংলায় পাশ করলো।কিন্তু ১০% পরিক্ষার্থী উভয় বিষয়ে ফেল করলো।উভয় বিষয়ে
শতকরা কত জন ফেল করলো। যদি উভয় বিষয়ে ৩৬০ জন পরিক্ষার্থী পাশ করে তবে ঐ স্কুলে কত জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়েছে? (২৩তম বিসিএস)
উত্তরঃ মোট পরিক্ষার্থী=
উভয় বিষয়ে পাসকৃত ছাত্র(৩৬০)÷ {১ম বিষয়ে ফেল(১০০-৭০=৩০)+২য় বিষয়ে ফেল (১০০-৮০=২০)+উভয় বিষয়ে ফেল১০} x ১০০
=৩৬০ ÷ ৩০+২০+১০ x ১০০
=৬০০(উঃ)

★১,৫,৯,.....,৮১ ধারাটির সংখ্যাগুলোর গড় কত?
সমাধানঃ এটি একটি সমান্তর ধারা।
*নির্ণেয় গড় = (শেষ পদ + প্রথম পদ)/২
                      =(৮১+১)/২
                       =৮২/২
                       =৪১
য়ে
শতকরা কত জন ফেল করলো। যদি উভয় বিষয়ে ৩৬০ জন পরিক্ষার্থী পাশ করে তবে ঐ স্কুলে কত জন পরিক্ষার্থী পরিক্ষা দিয়েছে? (২৩তম বিসিএস)
উত্তরঃ মোট পরিক্ষার্থী=
উভয় বিষয়ে পাসকৃত ছাত্র(৩৬০)÷ {১ম বিষয়ে ফেল(১০০-৭০=৩০)+২য় বিষয়ে ফেল (১০০-৮০=২০)+উভয় বিষয়ে ফেল১০} x ১০০
=৩৬০ ÷ ৩০+২০+১০ x ১০০
=৬০০(উঃ)

★১,৫,৯,.....,৮১ ধারাটির সংখ্যাগুলোর গড় কত?
সমাধানঃ এটি একটি সমান্তর ধারা।
*নির্ণেয় গড় = (শেষ পদ + প্রথম পদ)/২
                      =(৮১+১)/২
                       =৮২/২
                       =৪১

★1+5+9+....+81=?
পদসংখা=(শেষপদ- প্রথমপদ)÷ সাধারন অন্তর+১
(৮১-১)÷৪+১=৮০÷৪+১=২১
যোগফল= {(প্রথমপদ+শেষপদ)÷২}*পদসংখ্যা।
{(১+৮১)÷২}*২১={৮২÷২}*২১
=৪১*২১
=৮৬১

★১ থেকে ১০০ পর্যন্ত সংখ্যাসমূহের
যোগফল।
ans= (১০০*১০১)/২
       =১০১০০/২
       =৫০৫০
১-১০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(২,৩,৫,৭)=৪টি।
১১-২০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(১১,১৩,১৭,১৯)=৪টি।
২১-৩০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(২৩,২৯)=২টি।
৩১-৪০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৩১,৩৭)=২টি।
৪১-৫০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৪১,৪৩,৪৭)=৩টি।
৫১-৬০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৫৩,৫৯)=২টি।
৬১-৭০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৬১,৬৭)=২টি।
৭১-৮০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৭১,৭৩,৭৯)=৩টি।
৮১-৯০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৮৩,৮৯)=২টি।
৯১-১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যা=(৯৭)=১টি।
★★মনে রাখার সুবিধার্থে আপনার প্রিয়জনের ফোন নাম্বারের মতো ৪৪২২৩২২৩২১ মুখস্ত করে নিন★★
১-১০০ পর্যন্ত মোট মৌলিক সংখ্যা=২৫ টি।
১-১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যার যোগফল=১০৬০
১-১০০ পর্যন্ত মৌলিক সংখ্যার গড়=৪২.৪

★আয়তাকার ক্ষেত্রফলের পরিসীমা বের করার নিয়ম-
পরিসীমা = (দৈর্ঘ্য + প্রস্থ)  ২

★মাত্র ৫টি টেকনিকে
ত্রিকোনোমিতির সব অংক করার
কৌশল।
# সুত্র : ১
শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোন 30° হলে উচ্চতা
নির্ণয়ের ক্ষেত্রে টেকনিক মনেরাখুন

উচ্চতা= [পাদদেশ হতে দুরত্ত্ব÷√3]
.
# উদাহরন : একটি মিনাররের পাদদেশ
হতে 20 মিটার দুরের ১টি স্থান হতে
মিনারটির শীর্ষবিন্দুর উন্নতি কোন 30°
হলে মিনারের উচ্চতা কত?
.
# সমাধানঃউচ্চতা =[পাদদেশ হতে
দুরত্ত্ব÷√3]
=20/√3(উঃ)
==================
# সুত্র২ :-
শীর্ষ বিন্দুর উন্নতি কোন 60 হলে উচ্চতা
নির্ণয়ের ক্ষেত্রে টেকনিক মনেরাখুন-
উচ্চতা=[পাদদেশ হতে দুরত্ত্ব × √3]
.
# উদাহরনঃএকটি তাল গাছের
পাদবিন্দু হতে 10 মিটার দুরবর্তী স্থান
থেকে গাছের শীর্ষের উন্নতি কোন
60° হলে গাছটির উচ্চতা নির্ন্যয় করুন? .
# অথবাঃ
সুর্যের উন্নতি কোন 60° হলে একটি
গাছের ছায়ার দৈর্ঘ্য 10 মিটার হয়।
গাছটির উচ্চতা কত?
.
# সমাধানঃ- উচ্চতা=[পাদদেশ হতে
দুরত্ত্ব ×
√3]
=10√3=17.13(উঃ)
.
(মুখস্ত রাখুন √3=1.73205)
(শুধু মনে রাখুন 30° হলে ভাগ এবং 60°
হলে গুন হবে)
==================
# সুত্র৩ :-
সম্পুর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে ভুমির
সাথে 30 কোন উৎপন্ন হলে ভুমি হতে
ভাংগা অংশের উচ্চতা নির্ণয়ের
ক্ষেত্রে-কত উচুতে ভেংগেছিলো =
(খুটির মোট দৈর্ঘ্য ÷ 3)
.
# উদাহরনঃ-
একটি 48 মিটার লম্বা খুটি ভেংগে
গিয়ে সম্পুর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে
ভুমির সাথে 30 কোণ উৎপন্ন করে।
খুটিটি কত উচুতেবভেঙ্গেছিল ো ?
.
#সমাধানঃ-
কত উচুতে ভেঙ্গেছিলো = (খুটির মোট
দৈর্ঘ্য ÷ 3)
=48÷3=16(উঃ)
=================
#সুত্র 4:
সম্পুর্ন ভাবে বিচ্ছিন্ন না হয়ে ভুমির
সাথে 30 কোন উৎপন্ন হলে ভূমি হতে
ভাংগা অংশের উচ্চতা নির্ন্যেয়ের
ক্ষেত্রে-
# শর্ট_টেকনিক :
কতউচুতে ভেংগেছিলো=
(খুটির মোট
দৈর্ঘ্য ÷ 3)
.
#উদাহরনঃ-
18ফুট উচু একটি খুটি এমন ভাবে ভেংগে
গেলো যে ভাংগা অংশটি বিচ্ছিন্ন
না হয়ে ভুমির সাথে 30 কোনে স্পর্শ
করলো। খুটিটি মাটি থেকে কতফুট
উচুতে ভেংগে গিয়েছলো?
#সমাধানঃ-
কত উচুতে ভেংগেছিলো=
(খুটির মোট
দৈর্ঘ্য ÷ 3)
=(18÷3) =6ফুট (উঃ)
==================
# সুত্রঃ5
যখন মই দেয়ালের সাথে
হেলান দিয়ে
লাগানো থাকে তখন-
* শর্ট_টেকনিকঃ(মইয়ের উচ্চতা)² =
(দেয়ালের উচ্চতা)² +
(দেয়ালের দুরত্ব)²
উদাহরনঃ-
একটি 50মিটার লম্বা মই
খাড়া দেয়ালের সাথে হেলান
দিয়ে রাখা হয়েছে।মইয়ের
একপ্রান্তে মাটি হতে 40মিটার উপরে
দেয়ালকে স্পর্শ করে মইয়ের অপর প্রান্ত
হতে দেয়ালের লম্ব দুরত্ব কত মিটার? .
#সমাধানঃ-
(মইয়ের উচ্চতা)² =(দেয়ালের উচ্চতা)² +
(দেয়ালের দুরত্ব)²
বা, (দেয়ালের দুরত্ব)² =(মইয়ের উচ্চতা)²

(দেয়ালের উচ্চতা)²
বা, দেয়ালের দুরত্ব= √(50)² – √ (40)²
=10মিটার (উঃ)
.
[লক্ষ করুনঃ উপরের এই ৫নং সুত্রের
মাধ্যেমেই ‘মইয়ের উচ্চতা’
'দেয়ালেরউচ্চতা’ ও ‘দেয়ালের দুরত্ব’]


#Learn_Mathematics
গণিত শিক্ষা (বয়স ভিত্তিক):
.
1) পিতা পুত্রের চেয়ে ৩২ বছরের বড়। ৭ বছর পর পিতার বয়স পুত্রের বয়সের ২ গুণ অপেক্ষা ৫ বছর বেশি হবে। ৩ বছর পর পিতার বয়স কত হবে?
.
সমাধানঃ
ধরি,
পুত্রের বর্তমান বয়স= ক বছর।
পিতার বর্তমান বয়স= (ক+৩২) বছর।
৭ বছর পর পুত্রের বয়স= (ক+৭) বছর।
৭ বছর পর পিতার বয়স= (ক+৩২)+৭ বছর= (ক+৩২+৭) বছর= (ক+৩৯) বছর।
প্রশ্নমতে,
ক+৩৯= ২(ক+৭)+৫
বা, ক+৩৯= ২ক+১৪+৫
বা, ক-২ক= ১৯-৩৯
বা, -ক= -২০
বা, ক= ২০
ক = ২০
পিতার বর্তমান বয়স= (ক+৩২) বছর=(২০+৩২) বছর= ৫২ বছর।
৩ বছর পর পিতার বয়স=(৫২+৩) বছর= ৫৫ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৫৫ বছর।
2) দুই বছর আগে বাবার বয়স পুত্রের বয়সের ১৪ গুণ। দুই বছর বাদে বাবার বয়স পুত্রের বয়সের চেয়ে ২৬ বছর বেশি হয়, তবে বাবা ও তার পুত্রে বয়সের অনুপাত কত হবে?
সমাধানঃ
ধরি,
পুত্রের বয়স= ক বছর।
বাবার বয়স= (ক + ২৬) বছর।
প্রশ্নমতে,
১৪ (ক-২) = ক + ২৬ -২
বা, ১৪ক – ২৮ = ক + ২৪
বা, ১৪ক – ক = ২৪ + ২৮
বা, ১৩ক = ৫২
বা, ক = ৫২÷১৩
বা, ক = ৪
ক = ৪
পুত্রের বয়স= ক বছর= ৪ বছর।
বাবার বয়স= (ক + ২৬) বছর= (৪ + ২৬) বছর= ৩০ বছর।
নির্ণেয় বাবার ও পুত্রের বয়সের অনুপাত= ৩০ : ৪ = ১৫ : ২
উত্তর: বাবার ও পুত্রের বয়সের অনুপাত ১৫ : ২
3) পিতার ও পুত্রের বর্তমান বয়সের সমষ্টি ৫০ বছর; যখন পুত্রের বয়স পিতার বর্তমান বয়সের সমান হবে তখন তাদের বয়সের সমষ্টি হবে ১০২ বছর। পিতার ও পুত্রের বর্তমান বয়স কত?
সমাধানঃ
ধরি,
পিতার বর্তমান বয়স= ক বছর।
পুত্রের বর্তমান বয়স= খ বছর।
যখন পুত্রের বয়স ক হবে তখন পিতার বয়স হবে= {ক+(ক-খ)} বছর।
১ম শর্তমতে,
ক+খ=৫০……………………(১)
২য় শর্তমতে,
ক + {ক+ (ক-খ)} = ১০২
বা, ক+ক+ক-খ= ১০২
বা, ৩ক-খ= ১০২
৩ক-খ= ১০২………………….(২)
(১) নং ও (২) নং সমীকরণ যোগ করে পাই-
ক + খ = ৫০
৩ক –খ = ১০২
_______________________________
৪ক = ১৫২
বা, ক= ১৫২÷৪
ক= ৩৮
(১) নং সমীকরণে ক এর মান বসিয়ে পাই-
ক+খ= ৫০
বা, ৩৮+খ= ৫০
বা, খ= ৫০-৩৮
বা, খ= ১২
খ = ১২
নির্ণেয় পিতার বয়স= ক বছর= ৩৮ বছর।
নির্ণেয় পুত্রের বয়স= খ বছর= ১২ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৩৮ বছর ও পুত্রের বয়স ১২ বছর।
4) পিতা, মাতা ও পুত্রের বয়সের গড় ৩৭ বছর। আবার পিতা ও পুত্রের বয়সের গড় ৩৫ বছর। মাতার বয়স কত?
সমাধানঃ
পিতা, মাতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (৩৭×৩) বছর= ১১১ বছর।
পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (৩৫×২) বছর= ৭০ বছর।
নির্ণেয় মাতার বয়স= (১১১-৭০) বছর= ৪১ বছর।
উত্তর: মাতার বয়স ৪১ বছর।
5) পিতা ও দুই সন্তানের বয়সের গড় ২৭ বছর। দুই সন্তানের বয়সের গড় ২০ বছর হলে পিতার বয়স কত?
সমাধানঃ
পিতা ও দুই সন্তানের বয়সের সমষ্টি= (২৭×৩) বছর= ৮১ বছর।
দুই সন্তানের বয়সের সমষ্টি= (২০×২) বছর= ৪০ বছর।
নির্ণেয় পিতার বয়স= (৮১-৪০) বছর= ৪১ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৪১ বছর।
6) পিতা ও দুই পুত্রের গড় ৩০ বছর। দুই পুত্রের বয়সের গড় ২০ বছর হলে, পিতার বয়স কত?
সমাধানঃ
পিতা ও দুই পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (৩০×৩) বছর= ৯০ বছর।
দুই পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (২০×২) বছর= ৪০ বছর।
নির্ণেয় পিতার বয়স= (৯০-৪০) বছর= ৫০ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৫০ বছর।
7) পিতা ও মাতার বয়সের গড় ৪৫ বছর। আবার পিতা, মাতা ও এক পুত্রের বয়সের গড় ৩৬ বছর। পুত্রের বয়স কত?
সমাধানঃ
পিতা, মাতা ও এক পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (৩৬×৩) বছর= ১০৮ বছর।
পিতা ও মাতার বয়সের সমষ্টি= (৪৫×২) বছর= ৯০ বছর।
নির্ণেয় পুত্রের বয়স= (১০৮-৯০) বছর= ১৮ বছর।
উত্তর: পুত্রের বয়স ১৮ বছর।
8) পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৬০ বছর। মাতার বয়স পুত্রের বয়স অপেক্ষা ২০ বছর বেশি। পিতা ও মাতার গড় বয়স কত?
সমাধানঃ
মাতার বয়স যেহেতু পুত্রের বয়স অপেক্ষা ২০ বছর বেশি।
সুতারাং পিতা ও মাতার বয়সের সমষ্টি= (৬০+২০) বছর= ৮০ বছর।
পিতা ও মাতার বয়সের গড়= = = ৪০ বছর।
নির্নেয় পিতা ও মাতার গড় বয়স= ৪০ বছর।
উত্তর: পিতা ও মাতার গড় বয়স ৪০ বছর।
9) পাঁচ সন্তানের বয়সের গড় ৭ বছর এবং পিতাসহ তাদের বয়সের গড় ১৩ বছর। পিতার বয়স কত?
সমাধানঃ
৫ সন্তানের বয়সের সমষ্টি= (৭×৫) বছর= ৩৫ বছর।
পিতাসহ পাঁচ সন্তান বা ৬ জনের বয়সের সমষ্টি= (১৩×৬) বছর= ৭৮ বছর।
নির্ণেয় পিতার বয়স= (৭৮-৩৫)=৪৩ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৪৩ বছর।
10) ৫ জন বালকের বয়সের গড় ১০ বছর। ঐ গলে আরও দুজন বালক যোগ দিলে তাদের সকলের বয়সের গড় হয় ১২ বছর। যোগদানকারী বালক দুটি যদি সমবয়সী হয় তবে তাদের প্রত্যেকের বয়স কত?
সমাধানঃ
৫ জন বালকের বয়সের সমষ্টি= (১০×৫) বছর= ৫০ বছর।
(৫+২) বা ৭ জন বালকের বয়সের সমষ্টি= (১২×৭) বছর= ৮৪ বছর।
যোগদানকারী বালকের বয়সের সমষ্টি= (৮৪-৫০) বছর= ৩৪ বছর।
যোগদানকারী প্রত্যেক বালকের বয়স= বছর= ১৭ বছর।
উত্তর: প্রত্যেক বালকের বয়স ১৭ বছর।
11) পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়স একত্রে ৮০ বছর। ৪ বছর পূর্বে পিতার বয়স পুত্রের বয়সের ৫ গুণ ছিল। তাদের বর্তমান বয়সের অনুপাত কত?
সমাধানঃ
৪ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স= ক বছর।
পুত্রের বর্তমান বয়স= (ক+৪) বছর।
৪ বছর পূর্বে পিতার বয়স= ৫ক বছর।
পিতার বর্তমান বয়স= (৫ক+৪) বছর।
প্রশ্নমতে,
(ক+৪)+(৫ক+৪)=৮০
বা, ক+৪+৫ক+৪=৮০
বা, ৬ক+৮=৮০
বা, ৬ক= ৮০-৮
বা, ৬ক= ৭২
বা, ক= ৭২÷৬
বা, ক= ১২
ক= ১২
পিতার বর্তমান বয়স= (৫ক+৪) বছর=(৫×১২+৪)বছর=(৬০+৪) বছর= ৬৪ বছর।
পুত্রের বর্তমান বয়স= (ক+৪) বছর= (১২+৪) বছর= ১৬ বছর।
নির্ণেয় তাদের বর্তমান বয়সের অনুপাত= ৬৪ : ১৬
উত্তর: তাদের বর্তমান বয়সের অনুপাত ৬৪ : ১৬
12) পিতা ও পুত্রের বয়সের অনুপাত ১১: ৪। পুত্রের বয়স ১৬ বছর হলে, পিতার বয়স কত?
সমাধানঃ
ধরি,
পিতার বয়স= ক বছর।
প্রশ্নমতে,
ক : ১৬ = ১১ : ৪
বা, ক × ৪ = ১৬ × ১১
বা, ৪ক = ১৭৬
বা, ক = ১৭৬÷৪
বা, ক = ৪৪
ক = ৪৪
নির্ণেয় পিতার বয়স= ৪৪ বছর।
উত্তর: পিতার বয়স ৪৪ বছর।
13) পিতা ও পুত্রের বয়সের অনুপাত ১১: ৪। পিতার বয়স ৪৪ বছর হলে, পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি কত?
সমাধানঃ
ধরি,
পিতার বয়স= ১১ক বছর।
পুত্রের বয়স= ৪ক বছর।
প্রশ্নমতে,
১১ক = ৪৪
বা, ক = ৪৪÷১১
বা, ক = ৪
ক = ৪
পিতার বয়স= ১১ক বছর= (১১×৪) বছর= ৪৪ বছর।
পুত্রের বয়স= ৪ক বছর= (৪×৪) বছর= ১৬ বছর।
নির্ণেয় পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি= (৪৪+১৬) বছর= ৬০ বছর।
উত্তর: পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৬০ বছর।
14) পিতা ও পুত্রের বর্তমান বয়সের অনুপাত ৭: ২। পিতার বর্তমান বয়স ৪২ বছর, ১০ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স কত ছিল?
সমাধানঃ
প্রশ্নমতে,
বা, ৭(পুত্রের বর্তমান বয়স) =৪২×২
বা, ৭(পুত্রের বর্তমান বয়স) =৮৪
বা, পুত্রের বর্তমান বয়স = ৮৪÷৭
বা, পুত্রের বর্তমান বয়স= ১২
পুত্রের বর্তমান বয়স= ১২ বছর।
নির্ণেয় ১০ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স= (১২–১০) বছর= ২ বছর।
উত্তর: ১০ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স ছিল ২ বছর।
15) পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৬৩ বছর এবং তাদের বয়সের অনুপাত ৭: ২। ৯ বছর পূর্বে তাদের বয়সের অনুপাত কত ছিল?
সমাধানঃ
অনুপাতদ্বয়ের সমষ্টি= (৭+২) = ৯
পিতার বয়স= (৬৩ এর ৭/৯ ) = ৪৯ বছর।
পুত্রের বয়স= (৬৩ এর ২/৯) = ১৪ বছর।
৯ বছর পূর্বে পিতার বয়স= (৪৯ -৯) বছর= ৪০ বছর।
৯ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স= (১৪ -৯) বছর= ৫ বছর।
৯ বছর পূর্বে তাদের বয়সের অনুপাত= ৪০ : ৫= ৮ : ১
উত্তর: পিতার ও পুত্রের বয়সের অনুপাত ৮ : ১
16) পিতা ও পুত্রের বয়সের সমষ্টি ৭৪ বছর এবং তাদের বয়সের অনুপাত ১০ বছর পূর্বে ছিল ৭: ২। ১০ বছর পরে তাদের বয়সের অনুপাত কত হবে?
সমাধানঃ
ধরি,
পিতার বয়স= ক বছর।
পুত্রের বয়স= (৭৪-ক) বছর।
১০ বছর পূর্বে পিতার বয়স ছিল= (ক-১০) বছর।
১০ বছর পূর্বে পুত্রের বয়স ছিল= (৭৪-ক-১০) বছর।
প্রশ্নমতে,
(ক-১০) : (৭৪-ক-১০) = ৭ : ২
বা, ২(ক-১০) = ৭ ( ৬৪-ক)
বা, ২ক-২০ = ৪৪৮-৭ক
বা, ২ক+৭ক = ৪৪৮+২০
বা, ৯ক = ৪৬৮
বা, ক = ৪৬৮÷৯
বা, ক = ৫২
ক = ৫২
নির্ণেয় পিতার বয়স= ক বছর= ৫২ বছর।
নির্ণেয় পুত্রের বয়স= (৭৪-ক) বছর= (৭৪-৫২) বছর= ২২ বছর।
১০ বছর পর পিতা ও পুত্রের বয়সের অনুপাত= (৫২+১০) : (২২+১০)= ৬২ : ৩২ = ৩১ : ১৬
উত্তর: পিতা ও পুত্রের বয়সের অনুপাত ৩১ : ১৬



.